corona virus btn
corona virus btn
Loading

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষার পরিবর্তে বেসরকারি ল্যাবে বেশি টাকায় পরীক্ষা করানোর অভিযোগ

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষার পরিবর্তে বেসরকারি ল্যাবে বেশি টাকায় পরীক্ষা করানোর অভিযোগ

জরুরী রক্ত পরীক্ষা ডেঙ্গি স্ক্রাব টাইফাস এর মত মারণ রোগের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যের পরিবর্তে অনেক টাকা দিয়ে বেসরকারি ল‍্যাব থেকে করাতে হচ্ছে।

  • Share this:

ABHIJIT CHANDA

#কলকাতা: জরুরী রক্ত পরীক্ষা ডেঙ্গি স্ক্রাব টাইফাস এর মত মারণ রোগের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যের পরিবর্তে অনেক টাকা দিয়ে বেসরকারি ল‍্যাব থেকে করাতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার ব্যবসা করছে বেসরকারি ল্যাব। আরজিকর হাসপাতালের ঘটনা।

গরিব রোগীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছে । আর সবটাই হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স,গ্রুপ ডি কর্মীদের সহযোগিতায়। হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দেরি করে হবে। এই অজুহাতে বেসরকারি লাভের কর্মীরা, সরকারি ল‍্যাবের আশপাশে ঘোরাঘুরি করে।সেখানেই এক প্রকার বাধ্য করে রোগীর আত্মীয়দের বেসরকারি ল‍্যাব থেকে পরীক্ষা করাতে।

বারাসতের বাসিন্দা অত্যন্ত গরিব মাসুদা বিবি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত পয়লা ডিসেম্বর রবিবার বারাসাত জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন।জ্বর, শ্বাসকষ্ট,বমি বমি ভাব থাকায় মাসুদাকে বেলগাছিয়া আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় আরজি করে আনলে প্রসূতি বিভাগে তাকে ভর্তি না নিয়ে মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে গভীর রাতে তাকে ভর্তি করানো হয়। সোমবার সকালে তার ডেঙ্গি,টাইফয়েড,স্ক্রাব টাইফাস,রক্তের সংক্রমণ,ইউরিন কালচার পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়।অবাক কান্ড,হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবে সেই পরীক্ষা না করে তাকে বাইরের একটি পরিচিত বেসরকারি ল্যাব থেকে সেই পরীক্ষা করতে বলা হয়।পেশায় ভ্যানচালক মাসুদার স্বামী সাবির আলি পয়সার অভাবে সোমবার পরীক্ষা করতে পারেন না,পরেরদিনও পুরো টাকা না দিতে পারায় পরীক্ষা হয় না।এখানেই শেষ নয়,বুধবার আবার রক্তে সংক্রমণ আছে কিনা সেই পরীক্ষা করতে পাঠানো হয় সাবির কে। আর এখানেই বাঁধ ভাঙ্গে মাসুদার পরিবারের।আর যে টাকা নেই। আরজিকর হাসপাতালে বিভিন্ন জায়গাতেই বড় বড় করে হোডিং পোস্টার লাগানো আছে।

আরজিকর এর ভিতরে বড় বড় হোডিং,পোস্টার লাগানো আছে যে, সমস্ত চিকিৎসা,যে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা হবে। যদিও আরজিকর হাসপাতালে তা করা হয় না।এখানে জরুরি পরীক্ষা বাইরের থেকে করে আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি বেসরকারি ল্যাবের কর্মীরা সরকারি ল‍্যাবের বাইরে দাঁড়িয়ে রীতিমতো চাপ দিয়ে রোগীর আত্মীয় দের অনেক বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করেন। মাসুদার পরিবারের পক্ষে এত টাকা দিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব নয় বলে তার স্বামী সাকির আলী হাসপাতাল সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।যদিও এই ঘটনায় হাসপাতালের এক শ্রেণীর কর্মী ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে অসাধু যোগসাজশ স্পষ্টতই প্রমাণিত হয়ে যায়। হাসপাতালের অধ্যক্ষ শুদ্ধোধন বটব্যাল জানান গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখন দেখার বিষয় যেভাবে প্রতিদিন এই আরজিকর হাসপাতালে ল্যাব টেস্ট এর নামে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হচ্ছে তা কিভাবে আটকানো যায়।

Published by: Akash Misra
First published: December 4, 2019, 11:34 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर