আনন্দপুর-কাণ্ড: শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্তের গাড়ির সিটে মিলল ফিনকি দিয়ে ছেটা রক্তের দাগ! নমুনা নিল ফরেনসিক

আনন্দপুর-কাণ্ড: শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্তের গাড়ির সিটে মিলল ফিনকি দিয়ে ছেটা রক্তের দাগ! নমুনা নিল ফরেনসিক

গাড়ির ভেতর লেগে থাকা রক্ত অভিযোগকারী তরুণীর নাকি অভিযুক্ত অভিষেকের, তা জানতেই নমুনা সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এই রক্তের নমুনাই বলে দেবে গাড়িতে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল কিনা।

গাড়ির ভেতর লেগে থাকা রক্ত অভিযোগকারী তরুণীর নাকি অভিযুক্ত অভিষেকের, তা জানতেই নমুনা সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এই রক্তের নমুনাই বলে দেবে গাড়িতে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল কিনা।

  • Share this:

#কলকাতা: আনন্দপুরের ঘটনায় অভিযোগকারীর বয়ানের প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পেল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার অভিযুক্তের গাড়িটি পরীক্ষা করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। গাড়ি পরীক্ষা করতে গিয়েই দেখা যায় গাড়ির ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে রক্তের দাগ। পিছনের সিটে রয়েছে ফিনকি দিয়ে ছেটা রক্তের দাগ। এছাড়াও গাড়ির স্টিয়ারিং ও চালকের আসনে রয়েছে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগ। তবে সব থেকে বেশি রক্ত রয়েছে গাড়ির পেছনের সিটে।

শনিবার রাতের ওই ঘটনায় অভিযোগকারী তরুণী পুলিশকে জানিয়েছিলেন, চলন্ত গাড়িতে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে ও মারধর করা হয়েছে। রক্তপাতের কথা না জানালেও এদিন গাড়ির ভেতর থেকে একাধিক জায়গায় রক্তের নমুনা পেয়েছে বিশেষজ্ঞরা ফরেনসিক। তারা মনে করছে, ধস্তাধস্তি মারধর যাই হয়ে থাক, তা গাড়ির পেছনের সিটেই হয়েছে। যেভাবে রক্ত ফিনকি দিয়ে ছিটে আছে তা দেখেই এই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। রক্তপাতের ঘটনা যে চলন্ত গাড়িতে হয়নি সে ব্যাপারেও একপ্রকার নিশ্চিত তারা। স্টিয়ারিংয়ে লেগে থাকা রক্তের দাগ থেকে স্পষ্ট  রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্ত গাড়ি চালিয়ে গিয়েছে তাও ।

তদন্তের স্বার্থে গাড়ির ভেতর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। গাড়ির ভেতর লেগে থাকা রক্ত অভিযোগকারী তরুণীর নাকি অভিযুক্ত অভিষেকের, তা জানতেই নমুনা সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এই রক্তের নমুনাই বলে দেবে গাড়িতে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল কিনা। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পলাশবরণ মাইতি বলেন, "গাড়ির ভেতর থেকে রক্তের নমুনা আমরা সংগ্রহ করেছি গাড়ির পেছনের অংশে বেশি পরিমাণ রক্ত লেগে রয়েছে।"

এদিকে, এ ঘটনার প্রায় তিন দিন কেটে গেলেও অভিযুক্ত অভিষেক পান্ডেকে গ্রেফতার করতে পারেনি আনন্দপুর থানার পুলিশ। রাতের শহরে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এরকম ঘটনায় সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ওপর বাড়ছে চাপ। সেজন্যই আনন্দপুর থানাকে এখন থেকে তদন্তে সাহায্য করবে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।

অভিযুক্তের খোঁজ পেতে তদন্তকারীরা অভিষেকের পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। পাশাপাশি এদিন অভিযুক্তের মা'কে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা বিভাগের অফিসারেরা। অভিযুক্ত অভিষেক কোথায় সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তার মা'কে। অভিযোগকারী ঘটনার পর থেকেই পুলিশকে অভিষেকের ব্যাপারে তথ্য দেননি বলে অভিযোগ।অভিযুক্তের নাম বদল করেছেন। যা নিয়ে রীতিমতো ধন্দে তদন্তকারীরা। চলন্ত গাড়িতে শ্লীলতাহানি, মারধরের অভিযোগ করার পরও কেন অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে সে বিষয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয় পুলিশের মধ্যে। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, যার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে তার বিরুদ্ধেই কেন এরকম গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন তরুণী। তাহলে তাদের প্রেমের সম্পর্কে কোনও বিষয়ে টানাপড়েন চলছিল কি? সে বিষয়েও অভিষেকের মা'কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তার বয়ান রেকর্ড করা হয়।

Sujoy Pal

Published by:Elina Datta
First published:

লেটেস্ট খবর