• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ আদরের ছোট্ট 'ফিফি', খোঁজ দিলে মিলবে মোটা টাকা 'ইনাম'

বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ আদরের ছোট্ট 'ফিফি', খোঁজ দিলে মিলবে মোটা টাকা 'ইনাম'

ফিফি

ফিফি

দশদিন পেরলেও এখনও ঘরে ফেরেনি ফিফি। তাই তাঁকে খুঁজে দিলে ১০ হাজার টাকা ইনাম ঘোষণা করেছেন দুই বান্ধবী।

  • Share this:

#কলকাতা: 'ফিফি হারিয়ে গিয়েছে', কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে এই পোস্টারটি সর্বত্র ছেয়ে গিয়েছে। দেশি কুকুরের ছবি দেওয়া ওই পোস্টারে 'ইনাম'ও ঘোষণা করা আছে। অর্থাৎ কেউ ফিফি'র সন্ধান দিতে পারলে আছে নগদ পুরস্কার। কিন্তু দশদিন পেরলেও এখনও ঘরে ফেরেনি ফিফি।

দেশি বা নেড়ি প্রজাতির কুকুর ফিফি'র ঠিকানা দিল্লি। জন্মস্থানও। তবে সে 'অনাথ' নয়। বি-টেকের ছাত্রী নন্দিনী কৌশিক ও মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী দুতিস্মিতা দাসই তার সব। মাস আটেক আগে নন্দিনী রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছিলেন ফিফি'কে। নামটাও তাঁরই দেওয়া।

সম্প্রতি কলকাতার বাসিন্দা একটি পরিবার ফিফি'কে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। দিন দশেক আগে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের কার্গোতে করে ফিফি'কে কলকাতায় পাঠানো হয়। যাঁদের দত্তক নেওয়ার কথা ছিল তারা ফিফি'কে 'রিসিভ'ও করে। কিন্তু গাড়িতে তোলার সময় কোনওভাবে পালিয়ে যায় সে। তারপর থেকেই নিখোঁজ। তখন থেকেই দুশ্চিন্তায় তার দুই অভিভাবক। ফিফি'র খোঁজে দিল্লি থেকে কলকাতা এসে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন তাঁরা ।

ফিফি'কে খুঁজতে চেষ্টায় কোনও খামতি রাখেননি দুতিস্মিতা ও নন্দিনী। থানা-পুলিশ থেকে শুরু করে সাংসদ তথা পশুপ্রেমী মানেকা গান্ধী পর্যন্ত দৌড়েছেন দুই বান্ধবী। মানেকার হস্তক্ষেপে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সাহায্য করছে ফিফি'কে খুঁজে বের করতে। বিমানবন্দরের সিসিটিভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এনএসসিবিআই থানার পুলিশ সাহায্য করছে তাঁদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি।

অসহায় ফিফি'কে খুঁজে পেতে বিমানবন্দর এলাকার বাসিন্দাদের সাহায্য চাইছেন দুই বান্ধবী। সেজন্য গোটা বিমানবন্দর এলাকায় কয়েকশো পোস্টার দিয়েছে তাঁরা। তাতে ফিফির ছবি-সহ তার বিবরণ ও যোগাযোগের নম্বর রয়েছে। রয়েছে খোঁজ দিলে ইনাম হিসেবে ১০ হাজার টাকার ঘোষণা। দুতিস্মিতা বলেন, "কেউ খোঁজ দিলে আমরা দশ হাজারেরও বেশি টাকা দেব। রোজ প্রচুর ফোন আসছে। কেউ বলছে ওমুক জায়গায় দেখেছি, কেউ মজা করছে। আমাদের মনে হয় বিমানবন্দরের ভিতরেই কোথাও আছে। ১০ দিন ধরে জল-খাবার কিছু খেয়েছে কিনা জানিনা। ওখানকার অন্য কুকুরও মেরে ফেলতে পারে ফিফিকে। সেই চিন্তায় ঘুমাতে পারছি না। দয়া করে কেউ যদি একটু সাহায্য করেন সেই প্রার্থনা করছি।"

মানেকা গান্ধীর উদ্যোগে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তৎপর হলেও আরও খোঁজার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সাহায্য দরকার। তবে কলকাতার পরিবারটি দত্তক নিতে উৎসাহী হলেও তাদের 'দায়িত্বের' অভাবের জন্যই যে ফিফি'র এই হাল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই ফিফি কে খুঁজে পেলে তাকে আর অন্য কারও হাতে তুলে দিতে চান না দুতিস্মিতারা।

প্রিয়জন হারালে তাঁকে খুঁজে পেতে মানুষ যা যা করে ঠিক ততটাই উদ্যোগ দুতিস্মিতা ও নন্দিনীর। ঘরে পোষা কোনও বিলেতি কুকুর নয়, হারিয়ে যাওয়া সাধারণ নেড়ি কুকুরকে খুঁজে পেতে দিল্লি থেকে কলকাতায় আসা এবং খুঁজে পেতে মোটা টাকা ইনাম ঘোষণা। এত উদ্যোগ কেন? তাঁদের জবাব, "কারণ, আমরা মানুষ ও কুকুরের মধ্যে কোনও ফারাক দেখি না।"

SUJOY PAL

Published by:Shubhagata Dey
First published: