• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • সম্প্রতি সন্তানের মৃত্যু-লকডাউনে আর্থিক অনটন! লেকগার্ডেন্সের বহুতল থেকে উদ্ধার স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ

সম্প্রতি সন্তানের মৃত্যু-লকডাউনে আর্থিক অনটন! লেকগার্ডেন্সের বহুতল থেকে উদ্ধার স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আড়াই মাস আগে ওই দম্পতির সাড়ে চার মাসের শিশু জটিল রোগে ভুগে মারা যায়। সন্তান হারানোর শোক গ্রাস করেছিল গোটা পরিবারকে। তা নিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই দম্পতি।

  • Share this:

#কলকাতা: লেকগার্ডেন্স এলাকায় বহুতল থেকে উদ্ধার দম্পতির ঝুলন্ত মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে বেডরুমের দরজা ভেঙে চারু মার্কেট থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে। মৃতদের নাম অরিজিৎ দত্ত (৩২) ও সুপর্ণা দত্ত (২৮)। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পুলিশ সুপর্ণাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। বেডরুমের মেঝেতে পড়ে ছিল অরিজিতের দেহ। তাঁর গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় ছিল। পুলিশের অনুমান, তারা দুজনেই একসঙ্গে আত্মঘাতী হয়েছেন। মৃত্যুর পর মেঝেতে পড়ে গিয়েছে অরিজিতের মৃতদেহ। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও সেখানে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর সুইসাইড নোটে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করা হলেও বেশ কয়েক মাস ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই দম্পতি। কারণ, আড়াই মাস আগে ওই দম্পতির সাড়ে চার মাসের শিশু জটিল রোগে ভুগে মারা যায়। সন্তান হারানোর শোক গ্রাস করেছিল গোটা পরিবারকে। তা নিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই দম্পতি।

অরিজিতের মা জানিয়েছেন, অ্যাপ ক্যাবে চালানোর জন্য সম্প্রতি মোটা টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে গাড়ি কিনেছিল তার ছেলে। কিন্তু গাড়ি কেনার ক'দিন পর থেকেই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হয়। ফলে তাঁর গাড়ির ব্যবসা প্রায় লাটে উঠেছিল। কিন্তু লোন শোধ করার জন্য চাপ আসছিল ব্যাংকের তরফে। হাজার অনুরোধ সত্ত্বেও ব্যাংক লোনের কিস্তির টাকা দেওয়ার সময় পেছনো সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে টাকা শোধ করতে না পারার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাপ দিতে থাকে অরিজিতের ওপর। ফলে একদিকে ছেলে হারানোর কষ্ট তার পাশাপাশি ব্যাংকে মোটা টাকা দেনা। দুইয়ের চাপে জেরেই মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল তাদের। তার জেরেই এই দম্পতি নিজেদের শেষ করে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেশীরা মনে করছে। যদিও এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে চারু মার্কেট থানার পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এদিন বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেলেও এই দম্পতির ঘর থেকে কোন সাড়াশব্দ আসছিল না। তাই বাড়িওয়ালার মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। জানালার কাছে গেলে দম্পতির মৃতদেহ দেখতে পান তিনি। তারপরেই খবর দেওয়া হয় চারু মার্কেট থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

SUJOY PAL

Published by:Shubhagata Dey
First published: