শহরে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, কবে থেকে বন্ধ থাকবে, জানুন বিস্তারিত

শহরে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, কবে থেকে বন্ধ থাকবে, জানুন বিস্তারিত
Photo Collected

বারবার জানিয়েও প্রকাশ হয়নি সরকারি বিজ্ঞপ্তি। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগীতার অভিযোগ। মিলবে না বিমার টাকাও।

  • Share this:

#কলকাতা: বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি বাস মালিক সংগঠনগুলির। শুক্রবার মোমিনপুরে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় একজনের। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পর পর বেশ কয়েকটি বাসে ভাঙচুর করা হয়। আগুন লাগানো হয় বাসে। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাস মালিক সংগঠনগুলি। বৈঠক করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অবিলম্বে সরকার ও পুলিশ বাসের রুট ও নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্তে না আসলে তারা বাস চালাবেনই না। এর পরেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিস ও রাজ্য পরিবহণ দফতর। শীঘ্রই তারা বৈঠকে বসছেন।

মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনার পরে ঘুরপথে বাস চলছে। হাওড়া, শিয়ালদহ বা ধর্মতলা থেকে যে সমস্ত বাস দক্ষিণ শহরতলি বা বেহালা বা ডায়মন্ড হারবারের দিকে যাতায়াত করে তাদের ঘুরপথে বাস নিয়ে যেতে হয়। বাস মালিকদের অভিযোগ, ঘুরপথে বাস নিয়ে যেতে গিয়ে তাদের খরচ বেড়েছে। তেলের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস চালানোর খরচও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বারবার আবেদন করেও মেলেনি ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ দু’ বছর পরেও রাজ্য সরকার ঘুরপথে বাস নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। ফলে মোমিনপুরে দুর্ঘটনার ফলে যে সমস্ত বাসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা আদৌ কোনও বিমা পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। সেই সমস্ত বাস মালিকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাকিরাও। তাদের স্পষ্ট ব্ক্তব্য, যতক্ষণ না সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা আর বাস চালানোর ভরসা নিতে পারছেন না। তারা রাজি নয় বাস চালাতে।

বাস মালিক সংগঠনের নেতা প্রদীপ নারায়ণ বোস বলেন, “আগে তো বাস চালাতে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে। তার ওপর এভাবে বাসে আগুন লাগানো, ভাঙচুর করা হচ্ছে। তাতে সবাই ভয় পেয়েছে। তাই আমরা বাস চালাতে রাজি নই আর।” সরকারকে বিবেচনার জন্য তারা তিনদিন সময় দিয়েছেন। তার মধ্যে সমস্যা না মিটলে বাস বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সহমত প্রত্যেকেই। যদিও বারবার বাস দুর্ঘটনা হচ্ছে কেন? পুলিশের একাংশের ব্ক্তব্য, নিয়ম না মেনে বাস চালাতে গিয়েই ঘটেছে দুর্ঘটনা। অনেকের দাবি বাস চালকদের মধ্যে সচেতনতার অভাবই এর প্রধান কারণ। যদিও রাজ্য পরিবহণ দফতর দুই বছর আগে বাস চালকদের টালা ট্রাফিক ট্রেনিং স্কুলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল। বাস চালকদের অভিযোগ, বেহালা বা ডায়মন্ড হারবারের দিকে বাস নিয়ে যাওয়া ভীষণ সমস্যা। নিত্যদিন যানজটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

এছাড়া বন্দর এলাকায় যেভাবে ট্রেলার ও লরি পার্কিং বা যাতায়াত করে তাতে বাস চালাতে গিয়ে আরও সমস্যায় পড়তে হয়। এর ওপর রয়েছে অটোর অত্যাচার ও নানা ইস্যুতে পুলিশের অত্যাচার। এর ওপর মাঝেরহাট সেতু ভেঙে যাওয়ার ফলে আগে যেখানে দিনে ৫ বার যাতায়াত করা যেত। এখন সেটা দিনে ২ টো তে এসে ঠেকেছে। ফলে খরচ বেশি আর আয় কম। এই জাঁতাকলে পড়েই আই সি সি ইউ তে চলে গেছে বাস ব্যবসা। আর লাভের আশায় বা কমিশনের আশায় মাঝে মাঝেই জোরে বাস চালাতে হয় একই রাস্তায় একাধিক রুটের বাসকে। তাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মত বাস মালিকদের সংগঠনের একাংশের। বাস ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের নেতা তপন বন্দোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, “ দোষটা সরকারের। তাদের ভুল নীতির জন্যেই আজ বাস মালিক এবং কর্মীদের এই অবস্থা।আর তার গুণাগার গুলিতে হচ্ছে আমাদের।” বাস মালিক সংগঠনগুলি এই অভিযোগ করলেও নিজেদের কোনও দোষ মানতে নারাজ রাজ্য পরিবহণ দফতর। তবে সমস্যা মেটাতে শীঘ্রই আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বাস সত্যি বন্ধ হলে সমস্যায় পড়বেন সেই সাধারণ মানুষই। ফলে বাস মালিকদের কথায় চিন্তিত সাধারণ মানুষ।

First published: 09:30:52 AM Jan 12, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर