হোম /খবর /কলকাতা /
দলের অনেকেই ফোনে BJP-র ভোট-প্রচার করতেন! 'অন্তর্ঘাতে' আহত তৃণমূল বিধায়ক

Manoranjan Bapari: দলের অনেকেই ফোনে BJP-র ভোট-প্রচার করতেন! 'অন্তর্ঘাতে' আহত তৃণমূল বিধায়ক

মনোরঞ্জন ব্যাপারী

মনোরঞ্জন ব্যাপারী

Manoranjan Bapari: দলের মধ্যে থেকে যারা অন্তর্ঘাত করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে চরম বার্তা দিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী।

  • Last Updated :
  • Share this:

#হুগলি: বাস্তবেই তিনি ব্যতিক্রমী। জীবনের একটা পর্বে রিকশা চালাতেন। সেই মানুষটাই পরবর্তীতে লেখক থেকে এখন রাজ্যের শাসক দলের বিধায়ক। ক্ষমতা এসেছে হাতে, কিন্তু তবুও তাঁর পা এখনও রয়েছে মাটিতেই। বিধায়ক হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়াচ্ছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ইতিমধ্যেই নেটিজেনরাও এই বিধায়ককে নিয়ে আল্পুত। নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরুর দিন থেকেই দলমত নির্বিশেষে বলাগড়ের বাসিন্দাদের জন্য যে তিনি কাজ করবেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Bapari)। এবার ফেসবুকেও নিজের সেই অবস্থানের কথা যেমন স্পষ্ট করে দিলেন তিনি, আবার দলের মধ্যে থেকে যারা অন্তর্ঘাত করেছেন, তাঁদের উদ্দেশেও দিলেন চরম বার্তা।

বুধবার ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, 'আমি বলাগড়ের বিধায়ক । বলাগড় অঞ্চলের যাবতীয় উন্নয়নের দিক আমাকে দেখতে হবে । এক্ষেত্রে কোন ভেদভাব করা চলবে না । রাস্তা বানাতে হবে, যে রাস্তায় দলমত নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ হাটবে । অটো টোটো থেকে দামি গাড়ি সব চলবে। রাস্তায় আলো লাগাতে হবে , ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জলের লাইন। স্কুল বানাতে হবে , হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। অঞ্চলের যাবতীয় দায়- সেই ভার আমার কাঁধে সমর্পিত হয়ে গেছে।'

কিন্তু ভোট বাজারে দলের মধ্যেকার অনেকেই যে অন্তর্ঘাত করেছিলেন, তা এদিনের ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। লিখেছেন, 'বিজেপি সিপিএম কংগ্রেস ওদের সঙ্গে আমাদের অনেক বোঝাপড়া বাকি আছে । ওরা আমাদের চেনা শত্রু তাই তেমন ভয়ের কিছু নয় । কিন্ত যারা আমাদের দলের মধ্যে লুকিয়ে থেকে- স্বার্থ , অর্থ , উৎকোচের বিনিময়ে বিজেপিকে গোপন সহায়তা দিয়েছে- যারা বিজেপিতে যাবার জন্য পা বাড়িয়ে বসেছিল, নানা কারনে বিজেপি তাদের নেয়নি- তাঁরা কে কাকে ফোন করে বিজেপির তিন নাম্বার বোতাম টিপতে বলেছে, সব সমাচার ধীরে ধীরে আমাদের গোচরে আসছে।'

সিরাজদৌল্লার প্রসঙ্গ টেনে মনোরঞ্জন লিখেছেন, 'এদের আমরা শনাক্ত করে ফেলেছি । এদের নিয়ে একসঙ্গে পথ চলা আমার পক্ষে সম্ভব হবেনা। পচাত্তর হাজার সেনা ছিল সিরাজদৌল্লার, তবু তাকে হারতে হয়েছিল ইংরেজের তিন হাজার সেনার কাছে- কয়েকটা বেইমান বিশ্বাস ঘাতক ছিল বলে -। আগামী দিনে বেইমান মুক্ত- নিবেদিন প্রান কর্মী দল গড়ার লড়াই চলবে।'

একদিন মনোরঞ্জনের রিকশায় সওয়ার হয়েছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। জানতে চেয়েছিলেন জিজীবিষা শব্দের অর্থ। সেই জানতে চাওয়াই বদলে দেয় মনোরঞ্জন ব্যাপারীর জীবন। জীবনে এসেছে জেল-পর্বও। কিন্তু সেই জীবনকে ত্যাগ করে এসেছেন বাংলার 'দলিত লেখক'। 'অন্য ভুবন', 'জিজীবিষার গল্প'র মতো নানান বইতে উঠে এসেছে তাঁর সেই অতীত জীবন। রিকশাচালক থেকে সাহিত্যিক হয়ে ওঠা সেই মনোরঞ্জন ব্যাপারীকেই এবার বলাগড় থেকে বিধানসভার প্রার্থী করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচার পর্বেও তাঁর ছুটে চলা নজরে পড়েছিল সকলের। ভোটের বাক্সেও তার প্রতিফলন ঘটে। অভাবনীয় ভাবে বলাগড় থেকে জয় ছিনিয়ে আনেন মনোরঞ্জন। কিন্তু সেই জয় আটকাতে অনেকেই যে চেষ্টা করেছিলেন, তা জিতে আসার পর, এদিন স্পষ্ট করে দিলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক।

Published by:Suman Biswas
First published: