• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • AN INTERVIEW OF BARANAGAR CONSTITUENCY CANDIDATE AND ACTRESS PARNO MITRA SANJ

Bengal Election 2021 : কার্শিয়াং থেকে বরানগরের বস্তি, জীবন বদলের খাতা খুললেন Exclusive পার্নো...

কমফোর্টেই আস্থা রাজনীতির পার্নোর... ছবি : পার্নো

"ওই জীবনটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার পাঠটাও তখনই অনেকটা শেখা..."

  • Share this:

    ঝকঝকে, স্মার্ট, বুদ্ধিদীপ্ত। এই শব্দগুলো বললে টালিগঞ্জের যে ক'জন অভিনেত্রীর মুখ ভেসে ওঠে চোখে তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছেন তিনি। পর্দা এবং পর্দার বাইরে, তাঁর নামের মতোই তাঁর আবেদনও বাহুল্য বর্জিত। টান টান। অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিতে (BJP Candidate) পা রাখা পার্নো মিত্র (Parno Mitra)। বুধবার শেষ হয়েছে টানা একমাসের প্রচার পর্ব। বৃহস্পতিবার টেলিফোনিক স্বাক্ষাৎকারে বরানগরের বিজেপি প্রার্থী পার্নো কথা বললেন নিউজ ১৮ বাংলার সঙ্গে।

    ১) ২০১৯/২০ থেকে ২০২১ কতটা পাল্টেছেন পার্নো মিত্র ?

    পার্নো : "মানুষটা তো একই আছি। কিন্তু জীবনের অভিজ্ঞতাটা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বয়সের সঙ্গে যেটা হয়ে থাকে আর কি।" একটু পজ নিয়ে ব্যাখ্যা করলে, "আসলে আগে অনেক সহজে ধৈর্য হারাতাম। একটুতেই অস্থির হয়ে পড়তাম। আজকাল আর সেটা হয় না। হয়তো আগের থেকে অনেক 'সর্টেড' হয়েছে পার্নো।" আগে কথায় কথায় অনেক নার্ভাস হয়ে যেতাম। এখন সেটা হই না আর তেমন। মোটামুটি এই চেঞ্জগুলো দেখতে পারছি নিজের মধ্যে।"

    ২) প্রচারে কী ধরণের পোশাক পরতে পছন্দ করছিলে?

    পার্নো : "এই গরমে দেখলাম প্রচারের সময় পরার জন্য আদর্শ হল কটন কুর্তা।" হাসতে হাসতে বললেন, "প্রথম দিকে 'অনেস্টলি' ভেবেছিলাম শাড়ি পরে প্রচারটা করব। কিন্তু এই গরমের মধ্যে দেখলাম সালোয়ার কামিজটাই সবথেকে সুবিধেজনক। অনেক বেশি কম্ফোর্টেবল। আর ফেব্রিকের ক্ষেত্রে নরম সুতির কাপড়ই সবথেকে আরামদায়ক। আপাতত দিন কুড়ি এটাই পোশাক।"

    ৩) রোড শো, জনসভা, মাইলের পর মাইল হেঁটে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছনো। পায়ের এখন অনেক গল্প। জুতোর ক্ষেত্রে কিরকম জুতো বেছে নিয়েছ গত কয়েকদিনে? লাইট, ফ্ল্যাট শ্যু না স্নিকার?

    পার্নো : শুধুই স্নিকারস !! এতো হাঁটাহাঁটি করতে হয়েছে গত একমাসে। সবসময় পায়ে ওটাই থেকেছে। আর তাতেই অনেক সুবিধে বলে মনে হয়েছে আমার।

    প্রত্যয়ী পার্নো প্রত্যয়ী পার্নো

    ৪) তারকা জীবন থেকে রাজনীতিতে আসা মহিলাদের মধ্যে একটা ট্রেন্ড প্রায়ই দেখা যায়, এমনি সময় মাইক্রো মিনি-ট্যাঙ্ক-টপ অথচ ভোটের প্রচারে হ্যান্ডলুম শাড়ি, গায়ে আঁচল। এটার পেছনে কারণটা কী? রাজনীতির কী কোনও ড্রেস কোড আছে ?

    পার্নো : "আমার মনে হয় কারণটা কিন্তু পুরোপুরি 'প্র্যাকটিকাল'।" ইন্সটাগ্রামের 'কুইন পি' পার্নোর স্পষ্ট উত্তর, "দ্যাখো জিন্স পরে যে প্রচার করা যায় না, তা কিন্তু নয়। তবে কাজের ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রচারের জন্য যে পরিমানে আমাদের হাঁটতে হয়, যত লম্বা সময় বাইরে রোদে ঘোরাফেরা করতে হয় ততক্ষণ জিন্স বা অন্য পোশাকে থাকা কষ্টদায়ক। তাই সকলেই আমরা হয়তো নরম কাপড়, গা ঢাকা পোশাকই বেছে নিয়ে থাকি। কারণ কটন পোশাকে ঘামও অনেক তাড়াতাড়ি শুষে নেয়। তাইজন্যেই দেখবে আমরা কেউ সিল্কের সালোয়ার বা শাড়ি কিন্তু পরি না।" বিজেপির বরানগরের প্রার্থী যোগ করলেন, "ভেবে দেখো, ইন্দিরা গান্ধিও কিন্তু শাড়িই পরতেন।"

    ৫) ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন থেকে বরানগর, জার্নিটা কিরকম?

    পার্নো : "আমি না 'অ্যাডজাস্ট' করতে খুব ভাল পারি।" কার্শিয়াঙের বোর্ডিং স্কুলে ছেলেবেলা কাটানো পার্নোর কথায়, "ওই জীবনটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার পাঠটাও তখনই অনেকটা শেখা।" গত একমাস ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বরানগরে কাটানো অভিনেত্রী বলেন, "মায়ের চিকিৎসার জন্য গত পাঁচবছর আমি ম্যান্ডেভিলা গার্ডেনে আছি। তার আগে সল্টলেকে থাকতাম আমরা। তারও আগে বাবার চাকরির জন্য থেকেছি অরুণাচল প্রদেশেও। জীবনে এতো ঘুরেছি যে নতুন জায়গার সঙ্গে সেখানকার মানুষের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দিতে সময় লাগে না আমার। আর বরানগর আমি ছোটোবেলাতেও বহুবার গিয়েছি।

    ৬) গত একমাসের প্রচারে ডেইলি রুটিন তো সম্ভবত 'আপসাইড ডাউন' অবস্থা? সেটার সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন?

    পার্নো : "ভোর সাতটায় বেরিয়ে যেতাম আমি। রাত্রি দশটা-এগারোটায় ফিরতাম। কখনও সুযোগ পেলে দুপুরে লাঞ্চ করতে বাড়ি এসেছি। বরানগরে একটা ফ্ল্যাট নিয়েছি। সেখানেই। এমনই অবস্থা যে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসারও সুযোগ পাইনি প্রায় গত একমাস।"

     'বাড়ছে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য' 'বাড়ছে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য'

    ৭ ) গত একমাসের একদম অন্যরকম দিন-যাপনের পর এখন কী একটু খালি খালি লাগছে পার্নোর?

    পার্নো : প্রচার শেষ। তার ওপর বৃহস্পতিবারই পয়লা বৈশাখ। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে ছুটে আসা মেয়ে যেন খানিকটা উদাসীন কিছুটা ছটফটে। "এখন আমার প্রচার শেষ। অপেক্ষা ১৭তারিখের। মনে প্রাণে চাইছি যেন ভোটপর্বটুকু নির্বিঘ্নে মেটে। আসলে প্রচারের সময় একটা অন্যরকম রুটিন সবারই থাকে। তাঁর বাইরে কিন্তু আমরা আবার নিজেদের মত করেই নিজেদের রুটিন বানিয়ে নিতে পারি। আবার আগের জীবনে ফিরে আসাতে তেমন কোনও অসুবিধে থাকে না।

    ৮) ফিটনেস ফ্রিক পার্নো মিত্র নিজেকে ফিট রাখতে কী করছিলেন এই একমাস?

    পার্নো : হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা, ব্যাক লেস-অফ শোল্ডার টপ থেকে শাড়ি সবেতেই সমান স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল পার্নো। "দু'ঘন্টা সকালে হাঁটা আর দু'ঘন্টা রাতে। এর পরে নিজেকে ফিট রাখতে আর বিশেষ কিছু করতে হয় না। এমনিই চেহারা ঠিক থাকে।"

    ৯) খাওয়া দাওয়া থেকে পানীয় সবেতেই অনেক বদল এসেছে গত একমাসে। প্রচারের দিনগুলোতে কিরকম খাবার পছন্দ করছিলেন?

    পার্নো : "খুবই হালকা খাওয়ার খাচ্ছিলাম। ডাল-ভাত হালকা সবজি। ব্যাস। বেশিটাই নিরামিষ খাচ্ছিলাম। পানীয়ের ক্ষেত্রেও ঘন ঘন ডাবের জল, নুন-চিনির-জল আর ও আর এস এসবই ছিল ভরসা।"

    ১০) প্রচার তো পরীক্ষার আগের সেই রাত জেগে পড়ার মতো। পরীক্ষা শেষ হলে যেমন একটা নিয়ম ভাঙার ইচ্ছে হয়? সেরকম কিছু ইচ্ছে হচ্ছে?

    পার্নো : "না। আসলে এখনই সেভাবে ভাবতে পারছি না। আমার এখনও অনেক কাজ। সেগুলো নিয়ে ফোকাসড আছি। সেসব নিয়েই ভাবছি।"

    ১১) ভোট মিটলে কী মনে হবে ডিস্কে গিয়ে নেচে আসতে বা পাবে বসে ওয়াইনে চুমুক দিতে?

    পার্নো : "ওরেবাবা আমি এমনিতেও নাইটক্লাব বা ডিস্কে যাই না। ওমনিতেও যাই না। আর বিশেষত এই কোভিড-এর বাজারে আমি কোথাও বেরোতে চাই না। আমার মনে হয় সকলেরই বাড়িতে থাকা উচিত। ভোট্টুকু দিয়ে বাড়ি ফিরে আসাই ভাল।"

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published: