• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • গ্রেফতার করে কোনও সংগ্রামকে থামানো যায়নি, যাবে না! আদালতের শুনানি শেষে জানালেন অলীক

গ্রেফতার করে কোনও সংগ্রামকে থামানো যায়নি, যাবে না! আদালতের শুনানি শেষে জানালেন অলীক

Network18Network

Network18Network

গ্রেফতার করে কোনও সংগ্রামকে থামানো যায়নি, যাবে না! আজ আদালতের শুনানি শেষে জানালেন অলীক

  • Share this:

    #বারুইপুর: ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারি অলীক চক্রবর্তীকে গত পরশুদিন গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ গত বৃহস্পতিবার ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার হন অলীক চক্রবর্তী। তার থেকে ৫৫ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই পুলিশের কাছে খবর ছিল, কিন্তু হাতে নাতে ধরতে পারছিলনা পুলিশ ৷ শেষপর্যন্ত, ওড়িশা ও বেঙ্গল পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়েছেন অলীক চক্রবর্তী ৷

    আজ ভোরে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে অলীক চক্রবর্তীকে নিয়ে আসা হয় বারুইপুর আদালতে। অলীকের বিরুদ্ধে মোট ৬৭ টি মামলা। ৪১ টি মামলায় অলীক সরাসরি যুক্ত। ২৬ টি মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে অলীকের নাম। অলীকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন, খুন, হিংসা ছড়ানোর মতো অভিযোগ রয়েছে।

    ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই আরাবুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ আশিকুল রহমান ওরফে বাবুসোনা নামের তৃণমূল কর্মী খুনেও অলীকের নাম রয়েছে। পাশাপাশি, পাওয়ার গ্রিড আন্দোলনে পুলিশের উপর আক্রমণ, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ রয়েছে অলীকের বিরুদ্ধে।

    গতকাল অলীক চক্রবর্তীকে রাখা হয়েছিল বারুইপুর থানায়। বিক্ষোভের আঁচ করে, সকাল সাড়ে ৬'টার মধ্যেই মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে কোর্ট লক আপে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল বারুইপুর আদালতে।

    শুনানি পর্বে অলীকের আইনজীবী সুশীল চক্রবর্তী বিচারকের কাছে আবেদন জানান-

    অলীক অসুস্থ, পুলিশি গ্রেফতারের পর থেকে চিকিৎসা হচ্ছে না, অলীককে জামিন দেওয়া হোক। তাঁকে এসএসকেএম বা অন্য কোনও স্সেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হোক। এফআইআর-এ নাম থাকা মানেই সে দোষী নয়! আরাবুল ইসলাম শারীরিক অসুস্থ নয়! তা সত্ত্বেও তাকে রাজার হালে এসএসকেএম-এ রাখা হয়েছিল। অথচ, অলীক সত্যিই অসুস্থ। লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যা রয়েছে, তার জীবন সংশয় হতে পারে।

    কিন্তু, সরকারি আইনজীবীর পালটা জবাব,

    অলীককে কোনওভাবেই জামিন দেওয়া উচিত নয়। অলীকের জন্য প্রচুর হিংসা ছড়িয়েছে। ভাঙড় আন্দোলনে পুলিশের পর্যন্ত প্রাণ সংশয় হয়। কাজেই, তাঁকে পুলিশি হেফাজতেই রাখা হোক।

    শেষমেশ, বিচারক সরাসরি অলীককে প্রশ্ন করেন- তাঁর কী শারীরিক সমস্যা রয়েছে? কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন? কী কী ওষুধ খান? এমডি চিকিৎসক থাকলে অসুবিধা হবে কি না? উত্তরে অলীক বলেন, ''লিভার বা প্যানক্রিয়াসের জন্য গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্টের থাকার প্রয়োজন।''

    শেষমেশ, বিচারপতি তদন্তকারী অফিসারকে নির্দেশ দেন, প্রতিদিন একজন এমডি চিকিৎসক অলীককে দেখবেন। তাঁকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রতিদিন আদালতে জমা করতে হবে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন অলীক চক্রবর্তীকে যেন কোনওরকম নির্যাতন না করা হয়।

    আজ বারুইপুর আদালত চত্বরে জমি আন্দোলনে বহু সমর্থক জমা হন। অলীককে বারুইপুর থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বয়ে যায় স্লোগানের ঝড়, তারপর শুরু হয় মিছিল।

    থানায় নেমে অলীক বলেন,

    গ্রেফতার করে কোনও সংগ্রামকে থামানো যায়নি, যাবে না।

    First published: