কাজে এল না টাকা ! করোনায় মৃত চেতনের বাবা

বাবাকে বাঁচাতে পারলেন না চেতন

শেষপর্যন্ত কাজে এল না ছেলের রোজগারের টাকা। রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কাঞ্জিভাই সাকারিয়া। চেতন সাকারিয়ার বাবা হার মানলেন করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে

  • Share this:

    #আমেদাবাদ: না, শেষপর্যন্ত কাজে এল না ছেলের রোজগারের টাকা। রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কাঞ্জিভাই সাকারিয়া। চেতন সাকারিয়ার বাবা হার মানলেন করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে। কয়েকদিন আগেই চেতন জানিয়েছিলেন আইপিএল বন্ধ হোক তিনি চাননি। আইপিএলে সারা ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা পরিচিত হয়েছিল বাঁহাতি এই মিডিয়াম পেসারের সঙ্গে। রঞ্জি ট্রফিতে সৌরাষ্ট্রের হয়ে আগে থেকেই নজরে আসেন তিনি। প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ ছিল না। দরকার ছিল একটা মঞ্চের। সেটাই তাঁকে দিয়েছিল আইপিএল।

    কোটিপতি লিগের চমক এবং নিজেকে ধরে রাখা, সবই নতুন ছিল এই ছেলেটির কাছে। কিন্তু বাড়িতে ফিরেই কঠোর বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয়েছিল চেতন সাকারিয়াকে। বেশিরভাগ সময়েই হাসপাতালে কাটাতে হচ্ছিল তাঁকে। কারণ, রাজস্থান রয়্যালসের এই বাঁহাতি জোরে বোলারের বাবা কাঞ্জিভাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন “কিছুদিন আগেই রাজস্থান রয়্যালসের থেকে টাকা পেয়ে গিয়েছিলাম। সেটা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কঠিন পরিস্থিতিতে ওটাই সাহায্য করেছে।”

    যাঁরা আইপিএল বন্ধ করার পক্ষে সওয়াল করছিলেন, তাঁদের একহাত নিয়েছিলেন সাকারিয়া। বলেছেন, “আমি পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। ক্রিকেটই আমার আয়ের একমাত্র পথ। যদি একমাস আইপিএল না চলত তাহলে আমার পক্ষে ব্যাপারটা কঠিন হয়ে যেত। কারণ, আমি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছি। ক্রিকেটই আমার কাছে একমাত্র সম্বল।”

    নিলামে তাঁকে ১.২ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল রাজস্থান। নিজের সব উজাড় করে দিয়ে বাবাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন তরুণ ক্রিকেটারটি। কিন্তু নিয়তির কাছে হেরে গেলেন। রাজস্থান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই কঠিন সময়ে সবরকমভাবে চেতনকে সাহায্য করবে তাঁরা। উল্লেখ্য আইপিএল শুরু হওয়ার আগে সৈয়দ মুস্তাক আলি খেলার সময় চেতনের বড় দাদা আত্মহত্যা করেছিলেন। ছেলেকে অনেক পরে সেই খবর দিয়েছিল পরিবার। দাদার পর এবার বাবা। অল্প বয়সেই অনেকটা আঘাত সহ্য করে নিলেন চেতন।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: