যেখানে রোজার উপবাস করেন হিন্দুরা, আর হিন্দু ভাবাবেগের সম্মানে গোহত্যা করেন না মুসলিমরা

  • Share this:

    #পাকিস্তান: পাকিস্তান সম্পর্কে অন্য দেশের বহু মানুষের মনের মধ্যে কয়েকটি শব্দ ওতপ্রোত ভাবে ঢুকে গিয়েছে... সন্ত্রাসবাদ, সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণ, মন্দির-গির্জায় হামলা, জোর করে ধর্মান্তরণ... তালিকা লম্বা থেকে লম্বাতর হয়! আবার সেই পাকিস্তানেই রয়েছে ছোট্ট একটি শহর--মিঠি। সিন্ধু প্রদেশের থরপাকর জেলায় অবস্থিত এই শহরে প্রাচীন যুগ ধরেই চলে আসছে অদ্ভুত এক প্রথা। এখানে হিন্দুরা রমজান মাসে রোজার উপবাস করেন, অন্যদিকে কোরবানির ইদে হিন্দু ভাবাবাগের কথা মাথায় রেখে গোহত্যা করেন না মুসলিমরা।

    পাকিস্তানের সংবাদপত্র 'ডন' সূত্রে জানা গিয়েছে, মিঠি এমন এক শহর, যেখানে ৮০ শতাংশ হিন্দুর বাস। বাকি কুড়ি শতাংশ মুসলিম। অর্থাত্‍, পাকিস্তানের গুটিকয়েক জায়গার মধ্যে মিঠিই অন্যতম যেখানে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। শুধুমাত্র হিন্দুদের সম্মান জানিয়ে এবং তাদের ভাবাবেগে আঘাত না দেওয়ার জন্য কোরবানির ইদে গোহত্যার পথে হাঁটেন না মুসলিমরা। আবার মুসলিমদের সম্মানে রমজান মাসে উপোস করে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু। এই শহরের অপরাধের হার মাত্র দুই শতাংশ। কখনও কোনও সাম্প্রদায়িক হানাহানিরও সাক্ষী হয়নি এই শহর।

    এই শহরে মন্দিরে পূজার সময় মসজিদের লাউডস্পিকার বন্ধ রাখা হয় আবার নমাজের সময়ে মন্দিরে কোনও ঘণ্টা বাজে না। রমজানের সময় কোনও হিন্দু বাইরে খান না, অপর দিকে হোলির দিন মুসলিমরা সব হিন্দুদের বাড়িতে বাড়িতে মিষ্টি পাঠান, হোলি খেলেন। শুধু রমজান নয়, মহরমের সময়টাও হিন্দুরা আলাদা ভাবে পালন করেন। হিন্দু বাসিন্দাদের মতে, মহরম দুঃখের মাস। মিঠির হিন্দুরা সেই মাসে বিয়ে বা কোনও আনন্দের উত্‍সব আয়োজন করেন না। এমনকী মহরমের তাজিয়া আয়োজনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন হিন্দুরা।

    First published: