ভূতের ভয়ে প্রধানমন্ত্রীর আস্ত বাসভবন ফাঁকা! ৯ বছর ধরে থাকতে চায় না কেউ

ভূতের ভয়ে প্রধানমন্ত্রীর আস্ত বাসভবন ফাঁকা! ৯ বছর ধরে থাকতে চায় না কেউ

অনেকে বলেন, এখানে খুন হওয়া ব্যক্তিদের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায়।

অনেকে বলেন, এখানে খুন হওয়া ব্যক্তিদের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায়।

  • Share this:

    #টোকিও:

    ভূতের ভয়। আর শুধুমাত্র সেই কারণের জন্যই ৯ বছর ধরে খালি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের নাম সোরি কতেই। বিলাশবহুল এই ভবন প্রায় এক দশক ধরে খালি পড়ে রয়েছে। এখানে কেউ থাকার সাহস দেখায় না। আসলে এই বাসভবনের ইতিহাস হিংসায় মাখা। যার জেরে এই বাসভবনের বদনাম রয়েছে। অনেকে বলেন, এখানে খুন হওয়া ব্যক্তিদের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায়। জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইয়শোহিদে সুগার জন্য এই বাসভবনকে ঘিরে থাকা জল্পনা আরও বেড়েছে।

    গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সুগা। তার পর ৮ মাস কেটেছে। কিন্তু তিনি এখনও পর্যন্ত এই বাসভবনে একটি রাতও থাকেননি। তিনি ডাইট সদস্যের ডরমেটরি কোয়ার্টারে থাকেন। সোরি কোতেই বাংলো এই কোয়ার্টারের লাগোয়া। এই বাংলোয় মোট ২৫ টি বিল্ডিং রয়েছে। ২৫ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে এই বাংলো। এখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি কাঁচ ও স্টিলের বানানো অসাধারণ ঘর রয়েছে। এই বাংলোর ইতিহাস রক্তাক্ত। ১৯৩২ সালে জাপানে সেনা বিপ্লবের চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন আধিকারিককে এই বিল্ডিংয়ে গুলি করে মারার নির্দেশ দেন। চার বছর বাদে আরও একবার সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। সেবারও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বোনের জামাই সহ চারজনকে এই বিল্ডিংয়ে খুন করা হয়েছিল।

    এর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বদনাম ছড়িয়েছে গোটা দেশে। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত থাকা প্রধানমন্ত্রী যুনিচিরো কাইজুমি এই বিল্ডিং থেকে ভূত তাড়ানোর জন্য একজন শিনটো পূজারীকে ডেকেছিলেন বলেও শোনা যায়। জাপানের বিরোধী দলের নেতা ইউসিহিকো নোডা ২০১২ সাল পর্যন্ত এখানে ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বাসভবন বছরের পর বছর ধরে খালি পড়ে রয়েছে। তবুও প্রতি বছর ১১ কোটি টাকা করে এই বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ হয়। এই টাকাটা পুরোপুরি অপচয় হয়ে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর।

    Published by:Suman Majumder
    First published: