Iran War: আমেরিকাকে গরীব করছে, আর যুদ্ধ করে আরও আরও ধনী হচ্ছে ইরান! কারণ কী জানেন? অসাধারণ বুদ্ধিতে অবাক বিশ্ব
- Published by:Suman Biswas
- news18 bangla
Last Updated:
Iran War: যুদ্ধের মধ্যেও তেল বিক্রি করে ধনী হচ্ছে ইরান। কামিয়েছে প্রচুর প্রচুর অর্থ। কিন্তু বড়সড় ক্ষতি হচ্ছে আমেরিকার।
তেহরান: যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে কয়েকশো কোটি ডলার অতিরিক্ত আয় করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারা একমাত্র বড় রফতানিকারক দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারে ইরানি তেলের দাম ও চাহিদা—উভয়ই বেড়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে দুভাবে লাভবান হচ্ছে তেহরান। প্রথমত, প্রধান ক্রেতা চিনের কাছে এখন খুব সামান্য ছাড়ে তেল বিক্রি করছে ইরান। গত ১০ মাসের মধ্যে এই ছাড়ের পরিমাণ এখন সর্বনিম্ন। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় তাদের মুনাফার অঙ্ক বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ আগ্রাসন শুরু করলেও ইরানের তেল রফতানি যুদ্ধপূর্ব সময়ের মতোই দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের খারগ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বিশাল বিশাল ট্যাংকার (ভিএলসিসি) নোঙর করছে এবং পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই তৎপরতা আরও বেড়েছে।
advertisement
advertisement
উপসাগরীয় অন্য উৎপাদক দেশগুলোর তেল রফতানি কার্যত অবরুদ্ধ। কিন্তু ইরানের চিত্র ঠিক উল্টো। এমনকি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে দেশটির জন্য আরও সুবিধা হয়েছে।
advertisement
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিচার্ড নেফিউ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানকে তেল বিক্রির জন্য তোয়াজ করছে। অথচ ইরানি তেল বিক্রি বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের দামের ব্যবধান এখন মাত্র ২ ডলার ১০ সেন্ট।
advertisement
যুদ্ধের আগে এই ব্যবধান ছিল ১০ ডলারের বেশি। এই বাড়তি আয় ইরানের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম মজুত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরব যখন উৎপাদন কমায় বা বিকল্প রুটের সন্ধানে হিমশিম খাচ্ছে, ইরান তখন নির্বিঘ্নে খারগ দ্বীপ ও জাস্ক টার্মিনাল ব্যবহার করে তাদের তেল–বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। জাস্ক টার্মিনালটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় সেখান থেকেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তেহরান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি বাবদ দিনে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তি আয় করছে ইরান।
advertisement
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হামলা থেকে বেঁচে গেলেও কাতার, সৌদি ও আমিরাতের তেল-গ্যাসক্ষেত্রগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রফতানি কেন্দ্র কাতারের রাস লাফান স্থাপনায় বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইজরায়েলি হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরে আলোচনার কথা বলে সুর নরম করেছেন। তবে ইরান কোনও ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশের সব লেটেস্ট খবর ( National News in Bengali ) এবং বিদেশের সব খবর ( World News in Bengali ) পান নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইন নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 27, 2026 5:42 PM IST










