গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে ? রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রস্তাবে ভোট নয় ভারতের

ভোট না দিয়ে কার্যত ইজরায়েলকে সমর্থন ভারতের

আন্তর্জাতিক মঞ্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের ডাক দিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (UNHRC)। জেনিভায় পরিষদের সদর দপ্তরের অনুষ্ঠিত এই সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকল ভারত

  • Share this:

    #জেরুজালেম: পৃথিবীতে রাষ্ট্রসংঘ আজ পর্যন্ত কোনও জটিল সমস্যার সমাধান করেছে বলে জানা নেই। পদ আলো করে বসে থাকা ছাড়া এই সংস্থার অবদান শূন্য। না পেরেছে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে, না পেরেছে ইজরায়েল প্যালেস্তাইন সমস্যার সমাধান করতে। খালি কোথাও গন্ডগোল হলে কমিটি গঠন করে তদন্ত করা ছাড়া আর কাজ নেই তাঁদের। কদিন পর সেই তদন্ত উবে যায়। আর টিকি পাওয়া যায় না। প্রায় ১১ দিন ধরে তুমুল লড়াই করেছে ইজরায়েল (Israel) ও প্যালেস্তাইনের জঙ্গিগোষ্ঠী হামাস।

    আর সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূল্য দিতে হয়েছে নিরীহ মানুষকে। দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই উঠেছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের ডাক দিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (UNHRC)। জেনিভায় পরিষদের সদর দপ্তরের অনুষ্ঠিত এই সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকল ভারত (India)।

    এদিন মানবাধিকার পরিষদের মোট ৪৭ সদস্যের মধ্যে ২৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে ন’টি দেশের। ভোটদান থেকে বিরত থাকে ভারত-সহ ১৪টি দেশ। ফলে পাশ হয়ে যায় প্রস্তাবটি। এবার গাজা ও জেরুজালেম-সহ ইজরায়েল অধিকৃত প্যালেস্তিনীয় ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তদন্ত শুরু করতে চলেছে মানবাধিকার পরিষদ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই প্রস্তাবের জের ফের আমেরিকার সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের বিবাদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করেছে ওয়াশিংটন। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে জার্মানি, ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়াও। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তের পক্ষে সায় দিয়ে প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশ। আর ভারতের পাশাপাশি ভোট দিতে বিরত থেকেছে ফ্রান্স, ইটালি, জাপান, নেপাল নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া-সহ আরও কয়েকটি দেশ।

    সব মিলিয়ে ইজরায়েল ও হামাসের দ্বন্দ্বে গোটা বিশ্ব কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন ইজরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইহুদি বিরোধী আচরণ বলতেও ছাড়েননি। পাশাপাশি এর ফলে জঙ্গিগোষ্ঠী উৎসাহ পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্যালেস্টাইনের পক্ষ থেকে মাহমুদ আব্বাস অবশ্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: