এক সাধারণ চাষীর জন্য দেশের আড়াই মিটার জমি হারাল ফ্রান্স! কিন্তু কীভাবে?

বহু বছর ধরে ওই চাষির করা ভুলটি কেউ ধরতে পারেনি।

বহু বছর ধরে ওই চাষির করা ভুলটি কেউ ধরতে পারেনি।

  • Share this:

    #প্যারিস: তিনি একজন সাধারণ চাষী। কিন্তু তাঁর জন্যই আড়াই মিটার জায়গা হারাল ফ্রান্সের মতো দেশ। সীমানা নিয়ে বিশ্বে কত দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছে! সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করছে কত দেশ! এমনকী সীমান্ত নিয়ে এই লড়াই রয়েছে ভারত-পাকিস্তানেরও। ইউরোপের কিছু দেশের সীমান্তে অবশ্য কাঁটাতার নেই। সেখানে বহু জায়গায় দুটি দেশের সীমান্ত ভাগ করেছে পাথরের ফলক। ফ্রান্স-বেলজিয়ামের মধ্যেও এমন একটি পাথরের ফলক ছিল। যা দুই দেশের সীমান্ত বলে নির্ধারিত। বেলজিয়ামের এক ব্যক্তি, যিনি পেশায় চাষী, ওই পাথরের ফলক নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তুলে অন্যত্র বসিয়ে দেন। যার ফলে প্রায় আড়াই মিটার জায়গা হারায় ফ্রান্স। উল্টোদিকে বেড়ে যায় বেলজিয়ামের সীমান্ত এলাকা।

    বহু বছর ধরে ওই চাষির করা ভুলটি কেউ ধরতে পারেনি। ফলে এত বছর ধরে ফ্রান্স তাদের অধিকারের প্রায় আড়াই মিটার জায়গা হারিয়ে বসেছিল।

    ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের মধ্যে সীমানা ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। ১৮২০ সালে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নির্ণয়ের জন্য ওই পাথর পুঁতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বেলজিয়ামের সেই চাষী পাথরটির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেননি। বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের সীমান্ত বরাবর চাষের জমি ছিল তাঁর। সেখানে চাষবাস করে তাঁর জীবন কাটত। বারবার সেই চাষীর ট্রাক্টর-এর সামনে সীমান্ত ভাগাভাগি করা পাথরটি চলে আসত। তাই একটা সময় বিরক্ত হয়ে পাথরটিকে নির্ধারিত জায়গা থেকে তুলে কিছুটা দূরে বসিয়ে দেন ওই চাষী। পাথরের ফলকটি সরে যাওয়ার পরও দুই দেশের কেউ লক্ষ্য করেনি।

    এত বছর কোনো সমস্যা হয়নি। শেষ পর্যন্ত একজন ইতিহাসবিদ ওই চাষির করা ভুল বুঝতে পেরেছেন। ইতিহাসবিদ বনের রাস্তা ধরে হাঁটার সময় খেয়াল করেন, যে পাথরটির সীমানা চিহ্নিত করার কথা সেটি সঠিক জায়গায় নেই। এর পর ইতিহাসবিদ ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    ইতিহাসবিদ ওই ভুল ধরার পরও ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ হয়নি। এমনকী এই নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও হই হট্টগোলও নেই। বরং বেলজিয়ামের সীমান্তবর্তী এরকুইলিনস গ্রামের মেয়র ডেভিড লাভক্স এই নিয়ে মজা করেছেন। ফ্রান্সের প্রশাসনিক স্তরের অনেক কর্তাও ব্যাপারটিকে মজার ছলেই দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে হাসাহাসি চলছে।

    Published by:Suman Majumder
    First published: