Home /News /international /
Taliban | Ex-British Royal Marin | 'মরতে হলে পোষ্যদের সঙ্গে মরবো!' কাবুল ছাড়বেন না পশুচিকিৎসালয় চালানো প্রাক্তন ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন

Taliban | Ex-British Royal Marin | 'মরতে হলে পোষ্যদের সঙ্গে মরবো!' কাবুল ছাড়বেন না পশুচিকিৎসালয় চালানো প্রাক্তন ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন

photo source collected

photo source collected

Ex-British Royal Marin: তালিবানিদের হাতে শেল্টার হাউসের কুকুর , বিড়ালকে ছেড়ে তিনি নিজের দেশে ফিরে যাবেন না। তালিবানির গুলি খেতেও রাজি। তবুও নিজের পোষ্যদের ছাড়বেন না প্রাক্তন ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন 'পল' !

  • Share this:

#কাবুল: আফগান আকাশে এখন শুধুই আতঙ্কের হাওয়া বইছে। প্রায় দু'দশক পর আবার তালিবানরা নিজেদের অধিকার দেখাতে শুরু করেছে আফগানিস্তানে। এই অবস্থায় ওই দেশের প্রায় সব মানুষই পালিয়ে আসতে চাইছে দেশ ছেড়ে। সেই ভয়াবহতার ছবিও ধরা পড়েছে কাবুল বিমান বন্দরে। হাজারে হাজারে মানুষ ছুটে চলেছে প্লেনের পিঁছনে। হারিয়ে যাচ্ছে কোলের শিশু। অন্য দেশে এসে রিফিউজির জীবন কাটাতেও রাজি তারা। আর সেই আশাতেই প্রাণ নিয়ে ছুটছেন মানুষ। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও আফগানিস্থান ছাড়তে চান না প্রাক্তন ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন পল 'পেন' ফারদিং। তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। আফগানিস্তান তাঁর দেশ নয়, তবুও কেন ছাড়তে চান না তিনি?

এর পিঁছনে রয়েছে এক মানবিক কারণ ! ২০০৭ সালে আফগানিস্থানে আসেন পল। সে সময় আফগানিস্তানের আজকের আফগানিস্তানের থেকে অনেকটাই আলাদা। জীব জন্তুর ওপর বরাবর ভালোবাসা ছিল পলের। আফগানিস্তানে এসে তিনি প্রথম একটি অনাথ অসহায় কুকুরকে খুঁজে পান রাস্তায়। কুকুরটিকে আশ্রয় দেন পল। এবং ভেবে ফেলেন এখানেই একটি পশু চিকিৎসালয় এবং সেল্টার হাউস খুলবেন তিনি। সেই মতো ২০০৭ থেকে চেষ্টা করে একটি ফার্ম হাউসের মতো বানান পল। সেখানে রাস্তার অসহায় কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে প্রায় সব জন্তুকেই রেখেছেন তিনি। এবং এই পশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য ২৫ জন আফগানিকে কাজে রেখেছেন। এছাড়াও তিন জন আফগান মহিলাকে তিনি পশু চিকিৎসক বানিয়েছেন। যাঁরা পলের পশুদের চিকিৎসা করেন। পলের কাছে এরাই সব কিছু।

View this post on Instagram

A post shared by BBC News (@bbcnews)

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পল জানিয়েছেন, " আমি ব্রিটিশ নাগরিক। কিন্তু তবুও আমি যাব না আফগানিস্তান ছেড়ে। আমাকে যদি যেতেই হয়, তবে আমার সব পশুরা এবং কর্মীরা আমার সাথে যাবে। যদি সে ব্যবস্থা করা হয় তবেই আমি যাব। নয়ত আমি তালিবানিদের গুলিতে মরতেও রাজি। কারণ আমি চলে গেলে আমার পোষ্যরা মারা যাবে। ওদেরকে তালিবানরা মেরে ফেলবে। মেয়েদের অবস্থা খারাপ হবে। তালিবানরা যতই বলুক, তারা বদলে গেছে। তার তো কোনও প্রমাণ দেখছি না। রাস্তায় বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষ যাতে দেশ ছাড়ার জন্য বিমান বন্দরে পৌঁছতে না পারে তার জন্য কড়া পাহারায় রয়েছে তালিবানরা। কুকুরদের ওরা পশু হিসেবে গন্য করে না। কুকুর ছেড়ে দিন মানুষকেই মানুষ ভাবে না। এই অবস্থায় আমি আমার সব কিছু ছেড়ে পালাতে পারব না। ওদের ছেড়ে গেলে আমি এমনিই মরে যাব। তার থেকে ভালো তালিবানদের গুলির সামনে দাঁড়ানো।" এই সাক্ষাৎকারের পর গোটা বিশ্ব কুর্নিশ জানিয়েছে পলকে। যেখানে মানুষ সন্তানকে ফেলে নিজে পালিয়ে বাঁচতে চাইছে। হারিয়ে যাচ্ছে শিশুরা। সেখানে পল কিছুতেই ছাড়বেন না তাঁর পোষ্যদের। মরতে হলে পোষ্যদের সঙ্গেই মরবেন।

Published by:Piya Banerjee
First published:

Tags: Afghanistan, Animal shelter in Afghanistan, Ex-British Royal Marin, Paul ‘Pen’ Farthing, Taliban