সুস্থ হয়ে উঠলেন এইচআইভি আক্রান্ত, বিশ্বের দ্বিতীয় রোগী হিসেবে নজির লন্ডনে

সুস্থ হয়ে উঠলেন এইচআইভি আক্রান্ত, বিশ্বের দ্বিতীয় রোগী হিসেবে নজির লন্ডনে
অ্যাডাম ক্যাস্টিজিলো৷ PHOTO- FACEBOOK

২০১১ সালে টিমোথি ব্রাউন নামে বার্লিনের এক রোগী একই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন৷

  • Share this:

#লন্ডন: বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে লন্ডনের এক এইআইভি আক্রান্ত রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন৷ অ্যাডাম ক্যাস্টিজেলো নামে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা পদ্ধতি শেষ হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পরেও তাঁর শরীরে নতুন করে এইআইভি সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি৷ এর পরই তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকরা৷ জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার পরে এবার নিজেকে 'নতুন আশার দূত' হিসেবে তুলে ধরতে চান অ্য়াডাম৷ সেই কারণেই নিজের পরিচিতি লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ্যে তাঁর ফিরে আসার গল্প তুলে ধরতে চাইছেন ওই যুবক৷

চিকিৎসকরা অবশ্য দাবি করেছেন, কোনও ওষুধ নয়৷ বরং স্টেম সেল চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যেই ওই রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন৷ কারণ তিনি ক্যান্সারেও আক্রান্ত ছিলেন৷ সেই কারণেই এক সুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে স্টেম সেল নিয়ে তাঁর শরীরে প্রতিস্থাপিত করা হয়৷ আর তা থেকেই ক্যান্সার তো বটেই, অ্যাডামের শরীরে এইআইভি জীবাণু প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা তৈরি হয়৷ ফলে এইচআইভি-র চিকিৎসার জন্য অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি বন্ধ হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পরেও সুস্থ জীবন কাটাচ্ছেন চল্লিশ বছর বয়সি ওই যুবক৷

২০১১ সালে টিমোথি ব্রাউন নামে বার্লিনের এক রোগী একই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন৷

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শীর্ষ গবেষক রবীন্দ্র কুমার গুপ্ত বলেন, 'এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে এইচআইভি-কে নিশ্চিতভাবে সারিয়ে তোলা সম্ভব৷'

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করায় ওই যুবকের শরীরে নতুন প্রতিষেধক কোষ তৈরি হয়৷ যার ফলে তাঁর শরীরে এইআইভি-র জীবাণু নতুন করে সংক্রমণ ছড়াতে পারেনি৷ এর জন্য যে ব্যক্তির স্টেম সেল অ্যাডামকে দেওয়া হয়, তাঁকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা৷ তাঁরা বলছেন, ওই ব্যক্তির স্টেম সেলে এমন একটি জিন ছিল, যা সচরাচর পাওয়া যায় না৷

তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ৷ ফলে তা বিশ্বের সমস্ত এইচআইভি আক্রান্তের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়৷ একমাত্র অ্যাডামের মতো যে রোগীরা এইআইভি-র সঙ্গে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে শেষ অস্ত্র হিসেবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়৷ তাছাড়া অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রে এইচআইভি-র প্রচলিত ওষুধের উপরেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসকরা৷ তাঁদের দাবি, সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ওষুধ খেয়েই দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন এইচআইভি আক্রান্তরা৷

First published: March 11, 2020, 8:39 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर