২০১৭ সালে মৃত বলে ঘোষিত! বেঁচে আছেন প্রমাণ করতেই ৩ বছর লড়ে চলেছেন মহিলা

২০১৭ সালে মৃত বলে ঘোষিত! বেঁচে আছেন প্রমাণ করতেই ৩ বছর লড়ে চলেছেন মহিলা

বিপাকে মহিলা...খাতায়-কলমে অর্থাৎ অফিসিয়ালি তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বেঁচে আছেন তিনি। আর গত তিন বছর ধরে সেটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন

বিপাকে মহিলা...খাতায়-কলমে অর্থাৎ অফিসিয়ালি তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বেঁচে আছেন তিনি। আর গত তিন বছর ধরে সেটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন

  • Share this:

#প্যারিস: বেঁচে আছেন। সে কথা প্রমাণ করতে গিয়েই লড়াই শুরু। শেষমেশ নিজের বাঁচার প্রমাণপত্র ছিনিয়ে এনেছিলেন উত্তরপ্রদেশের লাল বিহারী। পদে পদে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিলেন প্রশাসন-সহ নানা দুর্নীতিকে। এই ঘটনার উপরে ভিত্তি করেই দিন কয়েক আগে মুক্তি পেয়েছে পঙ্কজ ত্রিপাঠি (Pankaj Tripathi) অভিনীত কাগজ (Kaagaz)। ফ্রান্সের এই মহিলার ঘটনাটিও যেন একই রকম! জিন পাউচে (Jeanne Pouchain) নামের এই মহিলা এখন বড় বিপাকে পড়েছেন। খাতায়-কলমে অর্থাৎ অফিসিয়ালি তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বেঁচে আছেন তিনি। আর গত তিন বছর ধরে সেটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।

৫৮ বছর বয়সী এই মহিলা জানাচ্ছেন, প্রতিটি মুহূর্তে এক অজানা আতঙ্গে ভুগছেন। কোনও মতেই সেন্ট জোসেফ গ্রামের নিজের বাড়ি ছেড়ে যেতে চান না তিনি। কিন্তু বিপরীত পরিস্থিতি বিপাকে ফেলছে বার বার। ইতিমধ্যেই তাঁর গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবার ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করার পালা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অত্যন্ত দুঃখ, ক্ষোভ আর হতাশার সঙ্গে পাউচের বক্তব্য- আমি কি সত্যি বেঁচে নেই? কী করে বোঝাই আমি কিছুই করিনি, আমি এখনও বেঁচে আছি ?

২০১৭ সালে লায়ন কোর্টে এক মামলার রায়ে জানিয়ে দেওয়া হয় যে পাউচে মৃত। কিন্তু এখনও ডেথ সার্টিফিকেটের কোনও অস্তিত্ব নেই। ঘটনায় একাধিক তথ্য-প্রমাণেও গণ্ডগোল হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মামলা শুরু হয় এক আইনি ঝামেলা থেকে। পাউচের পুরনো কোম্পানির এক কর্মী কাজ হারানোর পর ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা শুরু করে। এর পর একাধিক আইনি জটিলতা চলে। মামলা চলাকালীন পাউচের আইনজীবী জানিয়ে দেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মক্কেলের সংস্থা দায়বদ্ধ নয়। এর পর মামলাটির নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

এর পর উচ্চ আদালতে মামলা ওঠে। তবে এর মাঝেই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যায়। বেশ কয়েকবার শুনানির সময়ে পাউচে হাজির হননি। এর কারণ হিসেবে জানানো হয়, পাউচে বা তাঁর কোনও আত্মীয় না কি আদালতের তরফে কোনও নির্দেশই পাননি। ঠিক এই সময়ে আদালতের কোনও প্রক্রিয়ার মাঝেই একটা বড় ভুল হয়ে যায়। আর পাউচেকে মৃত বলে ঘোষণা করে দেওয়া হয়।

দিন কয়েক আগেই পাউচের আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে মামলা করেছেন। তবে এ এক অদ্ভুত ঘটনা। আইনজীবীর কথায়, একটা বড় ভুল হয়েছে। অবিলম্বে বিষয়টির রায় দেওয়া উচিৎ। আপাতত নিজের বেঁচে থাকা প্রমাণ করতে ব্যস্ত ফ্রান্সের মহিলা!

Published by:Rukmini Mazumder
First published:

লেটেস্ট খবর