শীত মানেই পিকনিক, রইল কলকাতার কাছে ৫টি অজানা জায়গার খোঁজ

শীত মানেই পিকনিক, রইল কলকাতার কাছে ৫টি অজানা জায়গার খোঁজ
photo source collected

ছত্রভোগ। এককালে বন্দর হিসেবে সুপরিচিত ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই গ্রাম। মহাপ্রভু এখান থেকেই নৌকায় পাড়ি দিয়েছিলেন পুরী।

  • Share this:

#কলকাতা: শীত মানেই পিকনিক। মিঠে রোদ গায়ে লাগিয়ে কষা মাংস খেতে খেতে মজার আনন্দ আর গল্পে মাততে কার না ভাল লাগে। কিন্তু শীতকাল হলেই তো আর অফিস ছুটি দিয়ে দেবে না। যাও তুমি সাত দিনের ছুটি নিয়ে পিকনিক করে এসো-- এ কথা তো কেউ বলবে না। তবে শীতকালে একটা পিকনিক না হলেই যে নয়। তবে তার জন্য ছুটি কে দেবে ! তার উপর আবার ছেলে মেয়েদের স্কুল। সব দিকেই চাপ। তবে ইচ্ছে থাকলে উপায় অবশ্যই হয়। সাত দিন ছুটি না জুটুক কপালে ! একদিন বা দুদিন তো পাওয়া যেতেই পারে। আর সেই ছুটিতেই চুটিয়ে নেওয়া যায় শীতের আমেজে পিকনিকের মজা। পরিবার হোক বা বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয় বান্ধবীকে নিয়েও একদিনের ছুটি কাটিয়ে আসাই যায়। কলকাতার আশে পাশেই রয়েছে এমন কিছু সুন্দর জায়গা, যেখানে গেলেই মন বলবে," এই এত আকাশ, এত আলো আগে দেখিনি।"

পাঁচটি শীতের আমেজে গা ভাসানোর সুন্দর জায়গার খোঁজ রইল:-

১) বিশ্রাম বাগানবাড়ি: ভাবছেন তো এ আবার কোথায়? নাম শুনেছেন কী? না শুনলেও চিন্তা নেই। কলকাতা থেকে খুব কাছে এই বাগানবাড়ি। একদিনে ঘুরে আসার জন্য পারফেক্ট। তার জন্য আপনাকে যেতে হবে টাকি। নদীর ধারে বাগানবাড়ি। বেশ সাজানো-গোছানো। গাছ গাছালিতে ভর্তি। পিকনিকের জন্য নীচের তলাটি ভাড়া দেওয়া হয়। রান্নাঘর আছে। আগে থেকে বলে রাখলে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা থাকবে। নিজেরাও লোক নিয়ে রান্না করে খেতে পারেন। এখান থেকে চট করে ঘুরে আসতে পারেন মাছরাঙা দ্বীপ। শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকালে করে যেতে পারেন। গাড়ি নিয়ে গেলে বারাসাত থেকে টাকি রোড ধরে সোজা। যোগাযোগের ফোন নম্বর: ৯০০৭০১২২৭১/ ৯০০৭০১২২৪৫

২) মানকুর: কোথাও পিকনিক করার জায়গা পাচ্ছেন না। নো চিন্তা। মানকুর আছে তো। হাওড়া থেকে সাউথের ট্রেন ধরে নামুন বাগনান। বাগনান থেকে অটো ধরে সোজা রূপনারায়ণ নদীর তীরে। গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন। গিয়ে নিজের পছন্দ মতো জায়গা খুঁজে নিলেই হল। কোনও টাকা পয়সা লাগে না। তবে হ্যাঁ এখানে গেলে ল্যাংচা অবশ্যই খাবেন।

৩) ছত্রভোগ: এককালে বন্দর হিসেবে সুপরিচিত ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই গ্রাম। মহাপ্রভু এখান থেকেই নৌকায় পাড়ি দিয়েছিলেন পুরী। তবে সেই আদি গঙ্গা এখন আর নেই। গঙ্গা ছাড়াও জায়গাটি এত সুন্দর একবার গেলে আর ফিরতে ইচ্ছে করবে না। ত্রিপুরাসুন্দরীর মন্দির রয়েছে। যার নাম ডাক খুব। এ ছাড়াও পুরনো অনেক মন্দির রয়েছে। যা আপনার মন ভরিয়ে দেবে। শিয়ালদা থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে করে মথুরাপুররোড স্টেশনে নেমে ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার গেলেই ছত্রভোগ গ্রাম। এখানে পিকনিক করতে হলে স্টেশন থেকে সব কিনে নেবেন। আর নিজেরাই রান্নার সরঞ্জাম নিয়ে যাবেন।

৪) সুখারিয়া: মন্দির ঘেরা একটি জায়গা। জায়গার নামটিও এত সুন্দর শুনলেই যেতে ইচ্ছে করবে। মন্দিরময় জায়গা। শিব আর কালি মন্দিরে ঘেরা সুখরিয়া গ্রাম। গ্রামের উত্তর দিকে রয়েছে গঙ্গা। নদীর ধারেই রয়েছে কয়েকশো বছরের পুরোনো সিদ্ধেশ্বরী মন্দির। নদীর ধারেই রয়েছে পিকনিকের জায়গা। এখান থেকে আপনি সবুজদ্বীপেও ঘুরে আসতে পারেন। হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকালে সোমড়াবাজার নামুন। স্টেশন থেকে ২০ থেকে ২৫ মিনিট হেঁটেও যেতে পারেন। অটো বা টোটোতেও যেতে পারেন।

৫) কাশফুল বাগানবাড়ি: কাশফুল তাও শীতকালে ! এতো শরৎকালের আনন্দ নিয়ে আসে মনে। ভয়ের কিছু নেই এই বাগান বাড়ির মজার বিষয় হল এই কাশফুল। গাছে গাছে ঘেরা বাগানবাড়ি। আর চারিদিকে কাশফুল। পিকনিক করার জন্য দারুণ জায়গা। সড়কপথে জাগুলিয়া  থেকে ভৌমিক পাড়ার আনন্দপুর। আর ট্রেনে গেলে কাঁচরাপাড়া স্টেশনে নেমে যেতে হবে। যোগাযোগের নম্বর: ৯২৩১৯১৯৭৮০

First published: 05:52:35 PM Dec 06, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर