advertisement

জৌলুস নেই, তবু নিময় মেনে এখনও নতুন যাত্রাপালার বোধন হয় রথযাত্রায়

Last Updated:
#কলকাতা: দিনকয়েক আগে থেকেই স্কুল থেকে ফেরার সময় চোখটা একটু বেশিই এদিক ওদিক ঘুরছে ৷ এই তো মল্লিকজেঠুদের বাড়ির পাতাবাহারি গাছটা পাঁচিলের এক্কেবারে ধার ঘেষেই ৷ তবে, গাঙ্গুলিকাকুদের বাড়িতে তো পাঁচিলই নেই ৷ আর ওঁদের বাড়িতে আরও অনেক বেশি পাতাবাহারি গাছ রয়েছে ৷ রথের দিন দুপুর থেকেই তো বাবার কিনে দেওয়া দোতলা রথটাকে সাজিয়ে ফেলতে হবে ৷ সেই কারণে আগে থেকেই পাতাবাহারি গাছগুলোকে দেখে রাখা এই আর কি!
আর রথের দিন তো চরম ব্যস্ততা ৷ সন্ধ্যায় রথ টানা হবে ৷ পাড়ার বন্ধুরাও তো রথ নিয়ে বের হবে ৷ তবে, আমার রথটাই যেন সেরা লাগে দেখতে ৷ এ যেন একটা অলিখিত প্রতিযোগিতা! ছোটবেলার সেই রথের স্মৃতি কতই মধুর ৷ ঠিক একইভাবে রথের দিন কলকাতার যাত্রাপাড়ার সেই জৌলুস এখন ইতিহাস ৷ রথযাত্রার দিনটা এখনও একটু বেশিই বিশেষ দিন যাত্রাশিল্পীদের কাছে ৷ এদিনই হয় যাত্রাপালার বায়না ৷ এদিন থেকে প্রতিবছর নতুন যাত্রার সৃচনা ঘটে ৷ এখন আর তেমন জাঁক নেই ৷
advertisement
চিত্‍পুরের যাত্রাপাড়া বলতে পুরো চিত্‍পুর রোডটা নয় ৷ চিত্‍পুরের যাত্রাপাড়ার ব্যাপ্তি হচ্ছে নতুনবাজার থেকে অ্যালেন মার্কেটের আগে অবধি ৷ কেবলমাত্র তরুণ অপেরা ও নট্ট কোম্পানির অফিস ছিল — শোভাবাজার স্ট্রিট ও হরচাঁদ মল্লিক স্ট্রিটে | অবশ্য তরুণ অপেরার গদিঘর ছিল চিত্‍পুরেই | এখন তো তরুণ অপেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৷ নট্ট কোম্পানি অবশ্যই এখনও চিত্‍পুরের বাইরেই অফিস রেখে আজও ব্যবসা চলাচ্ছে ৷ আর রথযাত্রার দিন দূর-দূরান্তের গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন জেলা থেলে বিভিন্ন ক্লাব,লাইব্রেরি বা অন্য ধরনের সংগঠন দল বেঁধে যাত্রাপালা বুকিং করতে আসেন ৷ বুকিং করার সময় একটা টাকা দিয়ে বুকিং করেন ৷ সুতরাং রথযাত্রার তিথি আসলে চিত্‍পুরের যাত্রা দলগুলির অগ্রিম রোজগারের একটা দিন ৷ নায়েক পার্টিদের অগ্রিম বুকিংয়ের সঙ্গে মিষ্টির প্যাকেট, ক্যালেন্ডার ও পোস্টার দেওয়া হয় — যাতে তাঁরা তাঁদের জায়গায় ফিরে গিয়ে প্রচার শুরু করতে পারেন ৷ নায়েক পার্টি বুকিংয়ের বিনিময়ে একটা নির্দিষ্ট হারে কমিশন পেয়ে থাকেন ৷
advertisement
advertisement
সেই কারণে কোনও কোনও যাত্রাদলের অফিসে বিশেষ পুজোর ব্যবস্থাও হয় এখনও ৷ অনেক লোকজনের সমাগম ঘটে এই পুজোকে কেন্দ্র করে ৷ অনেকে আবার সিন্নিও পুজোয় দিতেন ৷ দুপুরে সেই সিন্নি ও ফলমূল প্লেটে সাজিয়ে সকলকে দেওয়া হতো সহৃদয়ে, সমাদরের সঙ্গে | আগেকার দিনে বেশিরভাগ দল বাংলা ক্যালেন্ডার ছাপাত পালার নাম, নায়ক-নায়িকার নাম ও সুরকারের নাম দিয়ে | এই ক্যালেন্ডারের বেশ চাহিদা ছিল নায়েক পার্টির কাছে | রথযাত্রার দিন মালিকরা পালাকার, সুরকার — এঁদের প্রত্যেককে কিছু অগ্রিম দিতেন | এই অগ্রিম দেওয়াকে বলা হয় ‘সাইদ’ করা ৷ অনেক দলে সুরকারের রথের দিন একটু সুরও করে দিতে হতো ৷ একে বলা হত ‘সুরভাঙা’. অনেক দলে নাটকও পড়া হত ৷
advertisement
আগে রথযাত্রার দিন চিত্‍পুরের যাত্রাপাড়ায় লোকে লোকারণ্য হত ৷ শিল্পী ও সুরকার ও পালাকারদের পকেট গরম হতো ৷ নায়েক পার্টিরা বড় থলে ভরে মিষ্টির প্যাকেট, ক্যালেন্ডার ও পোস্টার নিয়ে ঘরে ফিরে যেতেন বুকভরা আশ্বাস নিয়ে | যাত্রাপালার গান হলে পাড়ার ভেঙে পড়া ক্লাবঘরটার ছাউনি হবে, লাইব্রেরির বই কেনা যাবে ৷ আগে যাত্রা হতো ষষ্ঠী থেকে জ্যৈষ্ঠি | অর্থাত্‍ দুর্গাপুজোর ষষ্ঠি থেকে জৈষ্ঠ্য মাস অবধি ৷ কমবেশি একশো আশি দিন থেকে দুশো দিন ৷ এখন হোম এন্টারটেনমেন্টের যুগে পুরনো যাত্রার সে সুদিন আর নেই ৷ তবু বাংলার যাত্রা আছে, ছিল এবং থাকবে ৷ লোকশিক্ষা ও মনোরঞ্জনের মাধ্যম হয়ে ৷
view comments
বাংলা খবর/ খবর/ফিচার/
জৌলুস নেই, তবু নিময় মেনে এখনও নতুন যাত্রাপালার বোধন হয় রথযাত্রায়
Next Article
advertisement
Mamata Banerjee-Abhishek Banerjee Meeting: কারা যাচ্ছেন রাজ্যসভায়? দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় কালীঘাটের বাড়িতে মমতা-অভিষেক বৈঠকে আলোচনা
কারা যাচ্ছেন রাজ্যসভায়? দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় কালীঘাটের বাড়িতে মমতা-অভিষেক বৈঠকে আলোচনা
  • দুপুর তিনটের পর থেকে এই বৈঠক হয় কালীঘাটের বাড়িতে

  • বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে, সূত্রের খবর

  • পাশাপাশি রাজ্যসভা ভোটের প্রাথী নিয়েও আলোচনা বলেই সূত্রের খবর

VIEW MORE
advertisement
ফরচুন কুকি
ফরচুন কুকি ভাঙুন আর ঝটপট জেনে নিন, আজ আপনার জীবনে কী সারপ্রাইজ লুকিয়ে আছে!
fortune cookie
advertisement