• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • EXPLAINED | Heart Health: ওপেন হার্ট সার্জারি নয়, হৃদরোগীর নিরাময়ে ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট আদতে কী?

EXPLAINED | Heart Health: ওপেন হার্ট সার্জারি নয়, হৃদরোগীর নিরাময়ে ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট আদতে কী?

EXPLAINED | Heart Health

EXPLAINED | Heart Health

ওপেন-হার্ট সার্জারির (Open-Heart Surgery) পরিবর্তে আজকাল হার্টের ভালভ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। (EXPLAINED | Heart Health)

  • Share this:

#কলকাতা: একটি সুস্থ হার্ট (Heart) সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। যাই হোক, যখন যত্ন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তখন আমরা প্রায়ই আমাদের হার্টকে উপেক্ষা করি। যদি ভারতে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন-দিন বাড়ছে। কার্ডিও ভাসকুলার ডিজিজে (Cardio Vascular Diseases) ভারতে ১৭.৭ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়। গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ (Global Burden of Disease)-র পরিসংখ্যান অনুসারে, ভারতে প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যার ২৭২ জনের কার্ডিও ভাসকুলার ডিজিজে মৃত্যু হয়। বিশ্বে এই সংখ্যা গড়ে ২৩৫।

ভালভুলার হৃদরোগ কী?

সাধারণত হার্ট ডিজিজ বলা হয়, কিন্তু যখন কোনও হার্টের ভালভ (Heart Valve) ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা অসুস্থ হয়, তখন তাকে বলা হয় ভালভুলার হার্ট ডিজিজ (Valvular Heart Disease)। একটি স্বাভাবিক হার্টে চারটি চেম্বার এবং চারটি ভালভ থাকে। হৃদস্পন্দনের সময়, একটি সুস্থ হার্টের ভালভ লিফলেট সম্পূর্ণরূপে খোলা এবং বন্ধ হয়, কিন্তু একটি অসুস্থ ভালভের ক্ষেত্রে এটি ঘটে না। যে কোনও ভালভ ত্রুটিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রায়ই দেখা যায় যে মহাধমনী ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভালভুলার হৃদরোগের কারণে বেশিরভাগ মৃত্যুই মহাধমনী ভালভ রোগের কারণে হয়।

হার্টের কখন সাহায্য প্রয়োজন?

বুকে ঝাঁকুনি অনুভব, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, বুকে ব্যথা, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, মাথা ঘোরা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এই সমস্ত অবস্থা নির্দেশ করে যে হার্টের চিকিৎসার প্রয়োজন। যাই হোক, যখন হৃৎপিণ্ডের পেশীতে রক্ত এবং অক্সিজেন সরবরাহকারী রক্তনালীগুলি সরু এবং শক্ত হয়ে যায়, তখন অবস্থা গুরুতর হয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। সাধারণত, এই ধরনের অবস্থা ঠিক করার জন্য ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হয়।

আরও পড়ুন: বারবার ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন! কেন হচ্ছে এমন! প্রতিকার কী, জেনে নিন

উপরে উল্লিখিত সমস্য়াগুলি ঠিক করার জন্য ওপেন-হার্ট সার্জারির (Open-Heart Surgery) পরিবর্তে আজকাল হার্টের ভালভ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। এই পদ্ধকিকে বলে ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (Transcatheter Aortic Valve Replacement)। এটি এমন একটি পদ্ধতি যাতে একটি সঙ্কীর্ণ মহাধমনী ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়, যেটি প্রায়শই সঠিকভাবে খুলতে ব্যর্থ হয়।

ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (TAVR) কী?

ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন (TAVR ) হল গুরুতর মহাধমনী স্টেনোসিসের চিকিৎসার জন্য একটি নতুন এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি। একটি সঙ্কীর্ণ এওর্টিক ভালভ, যা সঠিকভাবে খুলতে ব্যর্থ হয়, সেটিকে প্রতিস্থাপন করার একটি ন্যূনতম ছেদের দ্বারাকৃত প্রক্রিয়া হল ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেশন্ট। এটিকে কখনও কখনও ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ ইমপ্লান্টেশনও (TAVI) বলা হয়। কার্ডিয়াক স্টেন্ট স্থাপন করার মতোই ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ (Aortic Valve) প্রতিস্থাপনও প্রায় একই ধরনের একটি প্রক্রিয়া। যা একইভাবে প্রতিস্থাপিত ভালভ বসানো হয়। এই পদ্ধতিতে হৃৎপিন্ড বন্ধ বা বক্ষগহ্বর খোলার প্রয়োজন হয় না। ধাতব জাল এবং প্রাণী কলার সংমিশ্রণে তৈরি এই ভালভ একটি পাতলা তারের (ক্যাথিটার) মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং বিদ্যমান ভাল্বের উপর পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যথাস্থানে বসলে ভালভটি কাজ শুরু করে।

সাধারণত, আতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে বয়স্ক রোগীদের প্রচলিত ভালভ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি করা হয় না। টিএভিআর হল একটি ন্যূনতম ছেদের দ্বারা সঞ্চালিত প্রক্রিয়া, যাতে কোনও বড় অস্ত্রোপচার ছাড়াই সঙ্কীর্ণ এওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন করা যায়। TAVR ক্রমবর্ধমানভাবে সার্জিক্যাল ভালভ প্রতিস্থাপনের একটি পছন্দের বিকল্প হয়ে উঠছে। সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, এই পদ্ধতিটি কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের অস্ত্রোপচারের চেয়ে উচ্চতর বিকল্প। যা মৃত্যু, স্ট্রোক বা এক বছরের মধ্যে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

হার্ট ভাল রাখতে কী কী খাওয়া উচিত?

অস্ত্রোপচার ছাড়াও স্বাস্থ্যকর খাওয়া, শরীরচর্চায় সক্রিয় হওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা, ধূমপান ত্যাগ, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি মানসিক চাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আমরা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পারি।

আরও পড়ুন: ভারতের আকাশ কী ভাবে সুরক্ষিত রাখবে রাশিয়ান এস- ৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম?

পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি: পালং শাক, কলা, সবুজ শাক-সবজি হল ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের জন্য সুপরিচিত। বিশেষ করে এগুলি ভিটামিন K-র একটি দুর্দান্ত উৎস। যা আমাদের ধমনীকে রক্ষা করতে এবং সঠিক রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। এগুলিতে ডায়েটারি নাইট্রেটের পরিমাণও বেশি, যা রক্তচাপ কমাতে, ধমনীর দৃঢ়তা হ্রাস করতে এবং রক্তনালীগুলির আস্তরণের কোষগুলির কার্যকারিতা উন্নত করে।

গোটা শস্য: গোটা শস্যের মধ্যে তিনটি পুষ্টিসমৃদ্ধ অংশ রয়েছে- জীবাণু, এন্ডোস্পার্ম এবং ব্রান। সাধারণ ধরনের গোটা শস্যের মধ্যে রয়েছে গোটা গম, বাদামি চাল, ওটস, রাই, বার্লি, বাকউইট এবং কিনোয়া। পরিশোধিত শস্যের তুলনায় এই শস্যে ফাইবার বেশি থাকে। যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে খাদ্যতালিকায় আরও গোটা শস্য অন্তর্ভুক্ত করা হার্টের স্বাস্থ্যের উপকারী।

বেরি: স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি এবং রাস্পবেরিগুলি হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কারণ এগুলি পুষ্টিতে ভরপুর। বেরি অ্যান্থোসায়ানিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। যা হৃদরোগে অবদান রাখে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে প্রচুর পরিমাণে বেরি খাওয়া হলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডো মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি চমৎকার উৎস, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কম করে।

চর্বিযুক্ত মাছ এবং মাছের তেল: চর্বিযুক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যা আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার প্রতিরোধ করে। রোগগুলির ঝুঁকিও কম করে।

আখরোট: আখরোট ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, তামা এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের একটি দুর্দান্ত উৎস। খাবারের তালিকায় রাখতে হবে আখরোট। আখরোট হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমায়।

বিনস: বিনস রোগ প্রতিরোধী স্টার্চ ধরে রাখে। নিয়মিত এই সবজি খেলে পেটের অনেক সমস্যা কমে যায়। হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা অনেকটা হ্রাস পায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে বিনস খাওয়া হৃদরোগের কিছু ঝুঁকি কমাতে পারে। মটরশুটি এবং শিম জাতীয় খাবার উল্লেখযোগ্যভাবে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে।

ডার্ক চকোলেট: ডার্ক চকোলেট ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ, যা হার্টের স্বাস্থ্য বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, যারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত পাঁচবার ডার্ক চকোলেট খেয়েছে, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ কমে যায়।

আরও পড়ুন: ৫০ পেরোলেই সতর্ক হোন! শুধু মহিলারা নন, মারণ স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে পুরুষদেরও

আপেল: আপেলের রস বা গোটা আপেল খেলে উপকার পাওয়া যাবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আপেলে যে ফাইটোকেমিক্যাল থাকে তা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অর্ধেক করে দেয়।

কমলালেবু: এটি সাইট্রাস ফল, যেখানে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পটাসিয়ামে পূর্ণ এই ফল আমাদের হার্টকে ভালো ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

তরমুজ: তরমুজ খেলে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, শরীরে জলের মাত্রা বাড়ে। তরমুজ এলডিএল, কোলেস্টেরলের উৎপাদনকে অর্ধেক করে দেয়, যা ধমনী ও হার্টের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ওটস: এতে থাকে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্য়াগনেসিয়াম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ওটসে থাকা বেটা গ্লুক্যান খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। প্রতি দিন এক কাপ রান্না করা ওটমিল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

Published by:Raima Chakraborty
First published: