• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Influenza Virus: বারবার ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন! কেন হচ্ছে এমন! প্রতিকার কী, জেনে নিন

Influenza Virus: বারবার ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন! কেন হচ্ছে এমন! প্রতিকার কী, জেনে নিন

বিশেষজ্ঞদের দাবি, কোভিড ভাইরাসের মতো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও ভ্যারিয়ান্ট বদল হচ্ছে, তাই এই পরিস্থিতিতে অনেকেই এক বারের বদলে দু’বার করে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, কোভিড ভাইরাসের মতো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও ভ্যারিয়ান্ট বদল হচ্ছে, তাই এই পরিস্থিতিতে অনেকেই এক বারের বদলে দু’বার করে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, কোভিড ভাইরাসের মতো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও ভ্যারিয়ান্ট বদল হচ্ছে, তাই এই পরিস্থিতিতে অনেকেই এক বারের বদলে দু’বার করে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।

  • Share this:

#কলকাতা: কোভিড পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোভিড আক্রন্ত না-হলেও ঋতু পরিবর্তনের জেরে অনেকে জ্বরে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের (Influenza Virus) কারণে এই সময় অনেকে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই কোভিড ভেবে ভয় পাচ্ছেন। তাই তাঁদের পরামর্শ, সুস্থ ও এবং চিন্তামুক্ত থাকতে হলে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায় যে, একই ঋতুতে অনেকে দুই বা ততোধিক বার জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে, করোনার থেকে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দৈনিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর শুধু জ্বর নয়, এর সঙ্গে শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত একাধিক সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, সুস্থ থাকতে হলে সাধারণ জ্বরের ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন- চাষিদের জন্য তৈরি হচ্ছে এগ্রিস্টেক প্রজেক্ট, এটি আসলে কী?

এই বিষয়ে তাঁদের দাবি, কোভিড ভাইরাসের মতো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও ভ্যারিয়ান্ট বদল হচ্ছে, তাই এই পরিস্থিতিতে অনেকেই এক বারের বদলে দু’বার করে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সারা দেশে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যাও যে খুব একটা স্বস্তি দিয়েছে, এমনটা নয়। অন্য দিকে এই দেশের কোভিড পরিস্থিতিও খুব একটা স্বস্তির নয়। তার উপর আবার অনেকেই ইনফ্লুয়েঞ্জায় (Flu) আক্রান্ত হচ্ছেন। যার ফলে জ্বর-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রত্যেকের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। এতে সাধারণ জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়ান্টের জন্য অনেকে একই সিজনে দু’বার বা তার থেকেও বেশি বার ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে ভুগছেন।

সেন্টার ফর ডিজিজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (Centre for Disease Control and Prevention বা CDC)-এর তরফে জানানো হয়েছে যে, ২০২০-২০২১ বর্ষে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যে হেতু গত বছরের অধিকাংশ সময় দেশজুড়ে লকডাউন ছিল, ফলে সাধারণ মানুষ বাড়ি থেকে কম বেরিয়েছেন। সেই কারণে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা অনেক কম ছিল। আর এতে আক্রান্তের সংখ্যাও ছিল অনেক কম। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র যে লকডাউনের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমেছে, এমনটা কিন্তু নয়। এর পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাড়িতে থাকা ইত্যাদি বিধি মেনে চলার জন্যই ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে।

কিন্তু চলতি বছরে পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। গত বছর যে চিত্র ধরা পড়েছিল, তার থেকে অনেকটা ভিন্ন চিত্র ধরা পড়েছে এই বছর। বেশ কিছু পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে যে, প্রচুর মানুষ চলতি বছরে সব থেকে খারাপ মাত্রায় ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এ বার আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোভিডের পাশাপাশি যদি ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে, তা হলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।

কেন ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি?

বর্তমানে যেহেতু কোভিড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়া ভীষণ দরকার। কোভিডের মতোই সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার প্রভাবে শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপতর হতে পারে। যার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে থেকে জানা গিয়েছে যে, ২০২০ সালে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ছিল ২৭৫২ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪৪ জন। যেখানে ২০১৯ সালে এই সংখ্যাটিই ছিল অনেক গুণ বেশি। সেই বছর ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৭৯৮ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২১৮ জন। গত বছর থেকে কোভিড-বিধি হিসেবে যে হেতু সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হয়েছিল এবং পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহারের জোর দেওয়া হয়েছিল, সেই কারণে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই কারণে কোভিড ভ্যাকসিনের সঙ্গে সাধারণ জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়াটা খুবই জরুরি।

কেন একই বছরে ২ বার জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে?

সাধারণত কোনও এক ব্যক্তি একই ঋতুতে এক বারই ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে আক্রান্ত হয়। কিন্তু বর্তমানে অনেকে একাধিক বার জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। জেনে নেওয়া যাক, এর কারণ গুলো--

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একাধিক প্রকার রয়েছে। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা A, B, C এবং D। এর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা A এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা B ঋতু ভিত্তিক জ্বর। যা বিভিন্ন ঋতু পরিবর্তনের সময়ে দেখা দেয়। ফলে কোনও একটি সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা A দ্বারা আক্রান্ত হলেও ইনফ্লুয়েঞ্জা B বা অন্য কোনও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যারিয়ান্টের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সে ক্ষেত্রে খুব একটা মারাত্মক প্রভাব পড়ে না। খুব সাধারণ প্রভাব পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের উপর। এর পাশাপাশি একটি ভ্যারিয়ান্টের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, সেই অ্যান্টিবডি অন্য কোনও ভ্যারিয়ান্টের উপর সঠিক ভাবে কাজ না-ও করতে পারে। আর সেই কারণে অনেকে একই ঋতুতে ২ বার করে আক্রান্ত হচ্ছেন।

প্রতিরোধের উপায়?

কোভিড আক্রান্তের পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পারছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, খুব সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব। এই বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য, প্রত্যেককে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সাবধান থাকলেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে?

যদি কোনও ব্যক্তি জ্বরে আক্রান্ত হন, তা হলে তাঁর থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। কারণ কোভিডের মতোই এই ভাইরাস কাশি, হাঁচি অথবা কথা বলার সময় ছড়ায়। অর্থাৎ হাঁচি-কাশির সময় এক ব্যক্তির নাক-মুখ থেকে বেরোনো ড্রপলেট অন্য ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করতে পারে। তাই জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি না-যাওয়াই ভালো। সেই সঙ্গে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে থাকার বন্দোবস্ত করে দিতে হবে।

ব্যবহার করতে হবে মাস্ক। কারণ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস নাক, মুখ ও চোখের মাধ্যমে শরীরের ভিতর প্রবেশ করে। তাই সব সময় মাস্ক পরে থাকা দরকার। এতে ভাইরাস শরীরের ভিতর ঢোকার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

হাত সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বারবার হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে বা কোনও স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত স্যানিটাইজ করতে হবে। এই নিয়ম মেনে চললে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে দূরে থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই ধরনের সাধারণ কিছু নিয়ম মানলেই ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

Published by:Suman Majumder
First published: