জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে লাভ হচ্ছে কার?

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম বাড়ার জন্য দেশে তেলের দাম বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম বাড়ার জন্য দেশে তেলের দাম বেড়েছে।

  • Share this:

লাফিয়ে লাাফিয়ে বাড়ছে পেট্রলের (Petrol)দাম। মুম্বইয়ে (Mumbai) ইতিমধ্যে ১০০টাকা ছাড়িয়েছে দাম। কলকাতা সহ দেশের বড় বড় শহরগুলিতেও দাম তিন অঙ্ক কয়েক দিনের মধ্যে ছুঁয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এইভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের দিন চালানো দুষ্কর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য লকডাউনের জেরে একদিকে উপার্জন বন্ধ, অন্যদিকে দাম বাড়ছে পেট্রলের। ফলে বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে সংসার কীভাবে চালানো হবে তা ভেবেই বাড়ছে চিন্তা। প্রশ্ন উঠছে এই পরিস্থিতিতে কীভাবে পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দাম বাড়ার জন্য মূলত বিশ্বজুড়ে ক্রুড তেলের (crude oil) দাম বৃদ্ধিকে দায়ি করেছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। পাশাপাশি তিনি মনমোহন সিংয়ের (Manmohan Singh) সরকারকেও দায়ি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার তেলের বন্ড নিয়েছিল যা বর্তমান সরকারকে সুদ সমেত মেটাতে হবে। ক্রু তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম বাড়ার জন্য দেশে তেলের দাম বেড়েছে। ভারতে তেলের দাম বৃদ্ধির পিছনে আরও একটি কারণ হলো, আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করা হয়। তার জন্যও দাম বাড়ছে।” কেন দাম বাড়ছে? মুম্বইয়ে পেট্রোলের দাম বর্তমানে ১০৩ টাকা ৬৩ পয়সা। যেখানে ডিজেলের দাম ৯৫টাকা ৭২ পয়সা। দিল্লিতে পেট্রোলের দাম প্রায় ৯৭টাকা ৫০ পয়সা, চেন্নাইয়ে (Chennai) দাম ৯৮টাকা ৬৫ পয়সা এবং কলকাতায় দাম পৌঁছেছে ৯৭টাকা ৩৮ পয়সা। মুম্বইয়ে স্থানীয় ট্যাক্সের দরুন সেখানে দাম এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কথা অনুযায়ী যদি দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে গত বছরে ক্রুড তেলের বেড়েছে প্রায় ১১৯ শতাংশ। যেখানে গতবছরের মে মাসে এক ব্যারালের দাম ছিল ৩০.৬১ ডলার সেখানে এবছরের মে মাসে তা বেড়ে হয়েছে ৬৬.৯৫ ডলার। বিরোধীরা কেন সরকারকে দায়ি করছে? যখন ক্রুড তেলের দাম কম ছিল তখন সেই সুবিধা নেওয়ার বদলে গত বছরের মার্চ মাসে সরকারের তরফে তেলের উপর এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পেট্রোলের ক্ষেত্রে এক্সাইজ ডিউটি ১৯টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩২টাকা ৯০ পয়সা করা হয়েছিল। এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে এক্সাইজ ডিউটি ১৫টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩১টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছিল। এরজন্যও তেলের দাম অনেকটাই বেড়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ট্যাক্স ছাড়াও তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত থাকে ডিলারের কমিশন। এবং ট্যাক্সের মধ্য যুক্ত থাকে কাস্টমস ডিউটি, এক্সাইজ ডিউটি এবং রাজ্য সরকারের ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (VAT)।এখনও পর্যন্ত পেট্রোল ও ডিজেলের কাস্টমস ডিউটি ২.৫ শতাংশ। এবং কাস্টমস ডিউটির উপর সোশাল ওয়েলফেয়ার সারচার্জ ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কে বেশি লাভ করছে? বিগত ৫ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলের উপর এক্সাইজ ডিউটি (excise duty ) কালেকশন ১৬৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪-১৪ সালে ওই কালেকশন ছিল ২৯ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা যা ২০১৯-২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। এবং ২০২০-২১ সালে তা পৌঁছেছে ৮৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকায়। ডিজেলের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা গেছে। ২০১৪-১৫ সালে এক্সাইজ ডিউটি কালেকশন ছিল ৪২ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ সালে তা ছিল ১লাখ ২৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। এবং ২০২০-২১ সালের এপ্রিল থেকে জানুয়রিতে তা গিয়ে পৌঁছয় ২ লাখ ৪ হাজার ৯০৬ কোটি টাকায়।

Published by:Pooja Basu
First published: