• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Omicron:ভারতে ওমিক্রনের থাবা, শিশুদের জন্য কতটা ভয়ের ? কীভাবে মোকাবিলা করবেন? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Omicron:ভারতে ওমিক্রনের থাবা, শিশুদের জন্য কতটা ভয়ের ? কীভাবে মোকাবিলা করবেন? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেছেন যে, কোভিডে সংক্রমিত হওয়ার মাত্র ৯০ দিন পরেই ওমিক্রনে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা ডেল্টা প্রজাতির তুলনায় তিন গুণ বেশি

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেছেন যে, কোভিডে সংক্রমিত হওয়ার মাত্র ৯০ দিন পরেই ওমিক্রনে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা ডেল্টা প্রজাতির তুলনায় তিন গুণ বেশি

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেছেন যে, কোভিডে সংক্রমিত হওয়ার মাত্র ৯০ দিন পরেই ওমিক্রনে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা ডেল্টা প্রজাতির তুলনায় তিন গুণ বেশি

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বলা হয়, করোনাভাইরাস (Coronavirus) শিশুদের খুব একটা কাবু করতে পারে না। কারণ সংক্রমণ বিরোধী প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune Response) শিশুদের বেশি থাকে। বরং, ২০২০ সালের গোড়ার দিকে অতিমারি শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রাপ্তবয়স্করা বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। গুরুতর পরিস্থিতিতে জ্বর, ক্লান্তি, কাশি এবং মাল্টিসিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিন্ড্রোমের (Multisystem Inflammatory Syndrome) মতো সাধারণ উপসর্গগুলি ছাড়া বাচ্চাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি অথবা মৃত্যুর কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল না। তবে এখন করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়ান্ট ওমিক্রন (Omicron)-এর কথা সামনে আসার পর বিশেষজ্ঞরা প্রমাদ গুনছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিশুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার এবং গুরুতর উপসর্গের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে (Omicron)। কারণ, ১৮ বছরের কম বয়সি এবং শিশুরা এখনও কোনও টিকা পায়নি বেশির ভাগ দেশেই।

করোনার ওমিক্রন (Omicron) প্রজাতি প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় (South Africa) শনাক্ত করা হয়েছিল এবং ইতিমধ্যেই ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতেও এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জনের শরীরে ওমিক্রন (Omicron) ধরা পড়েছে। ডেল্টা প্রজাতির (Delta Variant) কারণে ভারতে দ্বিতীয় ঢেউ এসেছিল। তবে নতুন এই প্রজাতিটির স্পাইক প্রোটিনে (Spike Protein) আরও মিউটেশন রয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই নতুন ভ্যারিয়ান্টের স্পাইক প্রোটিনেই ৩০টি মিউটেশন ঘটেছে। করোনাভাইরাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল-- এই স্পাইক প্রোটিন। এর সাহায্যেই মানবকোষে প্রবেশ করে ভাইরাস। যা এটিকে কিছুটা বেশি সংক্রমণযোগ্য করে তোলে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা সামনে না-আসলেও ওমিক্রন ডেল্টা প্রজাতির চেয়ে আরও গুরুতর কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলেছে যে, নতুন এই প্রজাতি আগের প্রজাতিগুলির তুলনায় ৫০০ শতাংশ বেশি সংক্রামক হতে পারে। তবে ওমিক্রনে আক্রান্তদের সকলেরই এখনও পর্যন্ত মৃদু উপসর্গ দেখা গিয়েছে।

কোভিডের ওমিক্রন প্রজাতি কি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের উপর বেশি প্রভাব ফেলবে?

দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ওমিক্রন প্রাদুর্ভাবের পরে মাঝারি থেকে গুরুতর উপসর্গ নিয়ে আরও বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ক্রিস হানি বারাগওয়ানাথ হাসপাতালের (Chris Hani Baragwanath Hospital) চিকিৎসক রুডো মাথিভা (Rudo Mathivha) জানিয়েছেন যে, হাসপাতালে একই সময়ে ৫-১০ জন শিশুকে ভর্তি করা হচ্ছে। এই চিকিৎসক আরও দু’টি গুরুতর বিষয় তুলে ধরেছেন। যা থেকে জানা গিয়েছে যে, এক জন ১৫ বছর বয়সি কোভিড আক্রান্ত রোগী মারা গিয়েছে। ১৭ বছর বয়সি আর এক জন রোগী আইসিইউ-তে রয়েছে। তবে হাসপাতালটি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি যে, দু'জন ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না। মাথিভা জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট শিশুদের পূর্বে কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল না, শুধুমাত্র প্রথম দুই দিন জ্বর ছিল। এর পর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মত: অনেক দিন ধরেই বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা শিশুদের টিকা (Covid Vaccine) দেওয়ার বিষয়ের উপর জোর দিচ্ছেন। যদিও কিছু দেশে ১২ বছরের বেশি বয়সিদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে ভারতের মতো বেশ কয়েকটি দেশ এখনও পর্যন্ত ১৮ বছরের কম বয়সিদের টিকা দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, কোভিড বিধি মেনে চলা এবং টিকা দেওয়াই এখন একমাত্র রাস্তা। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছে বলে জানা গিয়েছে। রুডো মাথিভা বলেছেন যে, সব বয়সিদের মধ্যেই গুরুতর কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে, বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে।

বাচ্চাদের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও টিকা নেই:

ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশ এখনও বাচ্চাদের টিকাকরণ (Vaccine Administration In kids) শুরু করতে পারেনি। প্রাথমিক ভাবে শিশুরা নিজেরাই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল। জটিলতার কোনও লক্ষণ ছিল না। এই কারণে তাদের টিকা দেওয়ার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। যাই হোক সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাচ্চাদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। নতুন প্রজাতিগুলির বিকাশে এই সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। যদিও কোভিড টিকা নিলেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে না। তবে ঝুঁকি অবশ্যই কমে, সংক্রমণের তীব্রতার সম্ভাবনা হ্রাস করে এবং হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি হ্রাস করে। দক্ষিণ আফ্রিকার হাসপাতালে শিশুদের অবস্থা বিবেচনায় রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুদের টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের ঝুঁকি:

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেছেন যে, কোভিডে সংক্রমিত হওয়ার মাত্র ৯০ দিন পরেই ওমিক্রনে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা ডেল্টা প্রজাতির তুলনায় তিন গুণ বেশি। যার অর্থ পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি আগের চেয়ে বেশি হতে পারে। উপরন্তু, তিনি হাইলাইট করেছেন যে, টিকা না-নেওয়া ব্যক্তিদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, "খুব কম দেশই শিশুদের টিকা দিচ্ছে। শিশুরা এবং টিকা না-নেওয়া ব্যক্তিরা বেশি সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। আমরা এখনও বাচ্চাদের উপর ওমিক্রন প্রজাতির প্রভাব সংক্রান্ত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে একটি ব্যাপক এবং বিজ্ঞান-ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এটি সেই একই ভাইরাস, যার আমরা মোকাবিলা করছি।" স্বামীনাথন আরও বলেছেন যে, সংক্রমণ কমাতে ১৮ বছরের বেশি বয়সি সকলকে টিকা দেওয়ার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ওমিক্রন প্রজাতি কি করোনার অন্যান্য প্রজাতিগুলির চেয়ে বেশি মারাত্মক?

বর্তমানে নতুন প্রজাতির একাধিক মিউটেশন (Mutations) রয়েছে, স্পাইক প্রোটিনেই তিরিশের বেশি মিউটেশন। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, তা শুধুমাত্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে নয়, টিকার (Vaccine) কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও। বর্তমানে উপলব্ধ কোভিড টিকাগুলি নতুন প্রজাতির বিরুদ্ধে ততটা কার্যকর প্রমাণিত না-ও হতে পারে, যতটা হওয়া উচিত। তবে টিকা কার্যকর হবে কি না, তা শুধুমাত্র সময়ই বলবে। নতুন প্রজাতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলেছে যে, নতুন এই প্রজাতি আগের প্রজাতিগুলির তুলনায় ৫০০ শতাংশ বেশি সংক্রামক হতে পারে। তবে ওমিক্রনে আক্রান্তদের সকলেরই এখনও পর্যন্ত মৃদু উপসর্গ দেখা গিয়েছে। অনেকের আবার কোনও উপসর্গই নেই। বিজিএস গ্লেনিগেলস গ্লোবাল হাসপাতালের পালমোনোলজিস্ট বিশ্বনাথ বেল্লাডের (Vishwanath Bellad) মতে, "ভাইরাসগুলি বেঁচে থাকার জন্য পরিবর্তিত হতে পারে। এটি সমস্ত অণুজীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই মিউটেশনগুলির কারণে চিকিৎসা পদ্ধতিতে সামান্য পরিবর্তন করতে হবে।"

আরও পড়ুন: নাগাল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের পরেই আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি উঠছে; জানুন কী আছে এই আইনে?

কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিন কি ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হবে?

ভারত বর্তমানে একাধিক টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্যে মডার্নার একমাত্র mRNA টিকা এখনও দেশে উপলব্ধ নয়। এখনও পর্যন্ত সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (Serum Institute of India)-র কোভিশিল্ড (Covishield), ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech)-এর কোভ্যাক্সিন এবং রাশিয়ান স্পুটনিক ভি (Sputnik V) টিকা ভারতে দেওয়া হচ্ছে। আর রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকা উভয়ই অ্যাডেনোভাইরাল ভেক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনাক্রম্যতা তৈরি করে। অন্য দিকে, কোভ্যাক্সিন (Covaxin) হোল-ভিরিয়ন ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভেরো সেল প্রাপ্ত প্ল্যাটফর্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। যেখানে নিষ্ক্রিয় ভাইরাসটি প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না, তবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। যেহুতু নতুন ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনে অনেক মিউটেশন রয়েছে, যেগুলিকে টিকার অ্যান্টিবডি টার্গেট করে। তাই স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন হলে টিকার কার্যকারিতার কিছু পরিবর্তন হতে পারে। চিকিৎসক পান্ডার মতে, শুধুমাত্র সময়ই বলতে পারে এবং নির্ধারণ করতে পারে যে, টিকাগুলি নতুন প্রজাতির বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, "বিভিন্ন ধরনের টিকা রয়েছে। কিছু ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে টার্গেট করে। তাই যদি সেখানে পরিবর্তন ঘটে, তা হলে টিকা কার্যকর না-ও হতে পারে।" সহজ কথায়, স্পাইক প্রোটিন, যা ভাইরাসটিকে হোস্ট কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, তা যদি পরিবর্তন হতে থাকে, তা হলে টিকার ফলে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিগুলির পক্ষে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:ভারত-সহ বহু দেশে কমতে শুরু করবে জনসংখ্যা, এর জন্য কি দায়ী মহামারি?

কোভিড-উপযুক্ত আচরণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ:

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের জীবনকে ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করেছে। মানুষ অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। তাই নতুন প্রজাতি সামনে আসার পর কোভিড উপযুক্ত আচরণ (Covid-Appropriate Behaviour) মেনে চলা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টিকা নেওয়া ছাড়াও মাস্ক পরা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা, কোভিড উপযুক্ত আচরণ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই ভারতে থাবা বসিয়েছে ওমিক্রন। তাই আমাদের অবশ্যই সব চেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

First published: