Home /News /explained /
Ukraine Crisis: ২৬ লক্ষ ইউক্রেনের বাসিন্দা পালিয়েছেন দেশ থেকে! কী করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দেখুন

Ukraine Crisis: ২৬ লক্ষ ইউক্রেনের বাসিন্দা পালিয়েছেন দেশ থেকে! কী করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দেখুন

AP

AP

Ukraine Crisis: ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) দেশগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) শুরু হওয়ার পর থেকে বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ইউক্রেন ছেড়েছে। রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর (UN Refugee Agency) বুধবার জানিয়েছে যে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ লাখেরও বেশি শরণার্থী (Refugee) ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। এই সমস্যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শরণার্থী সংকট (Refugee crisis)। বলে অভিহিত করেছে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা। ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) দেশগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ পোল্যান্ডে (Poland) প্রবেশ করেছে, আরও কয়েক হাজার নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে রয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ হাঙ্গেরি (Hungary), রোমানিয়া (Romania) এবং স্লোভাকিয়ায় (Slovakia) গিয়েছেন। যারা হামলা থেকে পালিয়ে গিয়েছে তাদের আশ্রয়, চাকরির সুযোগ, চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি জরুরি 'সুরক্ষা ব্যবস্থা' (Emergency Protection System) চালু করেছে।

সুরক্ষা ব্যবস্থা কোনও দেশে প্রবেশের পদ্ধতিগুলিকে সুগম করে। এটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, নব্বইয়ের দশকে প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া এবং কসোভোতে যুদ্ধের কারণে যখন হাজার হাজার লোককে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে সিরিয়া (Syria) থেকে ইউরোপে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের শরণার্থী (Refugee) হিসেবে চলে আসে। যদিও তখন এটি আগে ব্যবহার করা হয়নি। 'অস্থায়ী সুরক্ষা নির্দেশিকা' ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত ২৭টি দেশে প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য ন্যূনতম মান নির্ধারণ করে। সদস্য দেশগুলি চাইলে আরও অনুকূল পরিস্থিতি প্রদান করতে পারে। দেশগুলি চাইলে তাদের মধ্যে শরণার্থীদের স্থানান্তর করার পদ্ধতিগুলিকে সহজ করতে পারে, যদি শরণার্থীরা অন্য দেশে যেতে রাজি হয়।

নিম্নলিখিত নতুন নিয়মগুলির ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থী ইউক্রেনীয়দের জন্য এবং যারা তাদের সাহায্য করতে চায় তাদের জন্য।

কারা কারা যোগ্য?

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানো শুরু করে। তাই 'সুরক্ষা ব্যবস্থা' সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তটি সমস্ত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বা তার পরে ইউক্রেন থেকে পালিয়ে গিয়েছে। এটি তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য-স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তান অথবা যারা যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে শরণার্থী ছিল। তবে বিদেশি ছাত্রদের মতো স্বল্প সময়ের জন্য ইউক্রেনে বসবাসকারীদের জন্য এটি প্রয়োজ্য নয়।

কারা ইউক্রেন ছাড়ছেন?

যারা বিদেশে চলে যাচ্ছে তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ইউক্রেন নিয়ম করেছে ১৮-৬০ বছর বয়সি পুরুষরা দেশ ছাড়তে পারবে না।

তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন?

দেশের বাইরে কোনও ফ্লাইট না থাকায় শরণার্থীরা গাড়ি, বাস, ট্রেন বা পায়ে হেঁটে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পৌঁছচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, পোল্যান্ড (Poland) অর্ধেকেরও বেশি ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। আক্রমণের পর থেকে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৩ জন দেশটিতে প্রবেশ করেছে। হাঙ্গেরি (Hungary) ১২ মার্চ পর্যন্ত ২ লাখ ৪৬ হাজার ২০৬ জন শরণার্থী গ্রহণ করেছে। অন্য দিকে, মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮০ জন ইউক্রেন থেকে স্লোভাকিয়ায় (Slovakia) প্রবেশ করেছে। ১০ মার্চ পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ রাশিয়ায় আশ্রয় চেয়েছে। মলদোভায় (Moldova) বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন শরণার্থীর প্রবেশ করেছে। রোমানিয়া (Romania) জানিয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪২ জন শরণার্থী তাদের দেশে প্রবেশ করেছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল থেকে ৯৬ হাজার মানুষ রাশিয়ায় প্রবেশ করেছে।

চেক প্রজাতন্ত্রে (Czech Republic) ইউক্রেনীয় শরণার্থী প্রবেশের হার দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে এখনও পর্যন্ত এক লাখের বেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। সম্প্রতি, ফ্রান্সের (France) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের দেশে প্রায় আড়াই হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থী পৌঁছেছে। আয়ারল্যান্ড (Ireland) সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ শরণার্থী আয়ারল্যান্ডে পৌঁছেছে। এছাডা় অস্ট্রিয়া (Austria), ক্রোয়েশিয়া (Croatia), এস্তোনিয়া (Estonia), গ্রীস (Greece), ইতালি (Italy), লিথুয়ানিয়া ( Lithuania), নেদারল্যান্ডস (Netharlands), পর্তুগাল (Portugal) এবং সুইডেন (Sweden) হাজার হাজার ইউক্রেনীয়ের আগমনের খবর দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-র মার্চের একটি প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছিল যে যুদ্ধ শুরু হলে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যেতে পারে। মঙ্গলবার সংস্থাটি বলেছে যে শীঘ্রই এই সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। লাখ লাখ মানুষ ইউক্রেনের অভ্যন্তরে যুদ্ধ থেকে বাঁচতে পালিয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের কার্যালয় ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুমান করেছে যে আগামী দুই মাসের মধ্যে ৭৫ লাখ মানুষ ইউক্রেনে বাড়িছাড়া হবে।

উদ্বাস্তুরা কি প্রতিবেশী দেশগুলিতেই থাকবে?

ইউক্রেনীয়রা ৯০ দিনের জন্য ভিসা (Visa) ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) যে কোনও দেশে থাকতে পারবে। এতে তাৎক্ষণিক সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। ইউক্রেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত চারটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। সেই দেশগুলি হল-পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং রোমানিয়া। শেনজেন চুক্তির (Schengen Treaty) কারণে ইইউ ভুক্ত যে কোনও দেশে পৌঁছনোর পর কেউ বেশিরভাগ ব্লকের চারপাশে অবাধে ভ্রমণ করতে পারে। তাই অনেক ইউক্রেনীয় ইতিমধ্যেই ইইউ-র (EU) সদস্য দেশগুলিতে চলে গিয়েছে। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার ৩৫ জন ইউক্রেনীয় শরণার্থী জার্মানিতে (Germany) রেজিস্ট্রেশন করেছে। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২৩ হাজার ৮৭২ জন ইউক্রেনিয়ান ইতালিতে পৌঁছেছে।

ইউক্রেন থেকে আসা উদ্বাস্তুরা কতদিন থাকতে পারে?

ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ইউরোপে ভিসা (Visa) ছাড়া প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তারা ৯০ দিনের মেয়াদে যে কোনও দেশে ঘুরে বেড়াতে পারে। এর মানে হল যে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে কোনও দেশ বেছে নিতে পারে যেটিতে তারা থাকতে চায় এবং সেখানে অস্থায়ী সুরক্ষার জন্য আবেদন করতে পারে। যারা ইতিমধ্যে ইউরোপে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে চাইছে, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে কাজের।

ইইউ বলেছে যে তারা ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের তিন বছর পর্যন্ত ব্লকে থাকার এবং কাজ করার অধিকার দেবে। সুরক্ষার সেই সময়কাল প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে। থাকার মেয়াদ এক বছর পর আরও ৬ মাসের জন্য বাড়ানো যেতে পারে। যদি ইউক্রেন তখনও থাকার নিরাপদ না হয়, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী শাখা, ইউরোপীয় কমিশন সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে দিতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের থাকার মেয়াদ আছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য করবে সংশ্লিষ্ট দেশ। কিছু ক্ষেত্রে শরণার্থীদের বাড়ি ফেরা নিরাপদ কি না তাও খতিয়ে দেখতে পারে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরেও পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে যে কেউ আবারও ইইউতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারে।

কিছু দেশ ইতিমধ্যেই ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের বিনামূল্যে রেল ও বাস ভ্রমণ এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদান করছে। বহু মানুষকে অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বা ইউরোপীয় আত্মীয়ের পরিবারে রাখা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার অধীনে, ইউরোপীয় সরকারগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে যে শরণার্থীরা থাকার জায়গা পাবে বা জায়গা পেতে সহায়তা করবে। তাদের সামাজিক কল্যাণ সুবিধা এবং সম্ভবত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া উচিত। শরণার্থীরা যাতে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারে বা স্ব-নিযুক্ত কর্মী হতে পারে, তারও অনুমতি দেওয়া দরকার। ১৮ বছরের কম বয়সিরা যাতে পড়াশোনা আবারও শুরু করতে পারে তার জন্য তাদের স্কুলে প্রবেশাধিকার দেওয়া উচিত। যে সকল শিশু তাদের বাবা-মা ছেড়েই শরণার্থী হিসেবে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন : পুরসভায় পদ পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত নয়, কড়া বার্তা তৃণমূলের

ইউক্রেনীয়দের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্রিটেন ((Britain) দুটি ভিসা স্কিম চালু করেছে। কিন্তু এটি একটি আমলাতান্ত্রিক, সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৭০০টি ভিসা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন (Boris Johnson) প্রক্রিয়াটির মন্থর গতির পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে ব্রিটেনে (UK) আসতে চাওয়া শরণার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি খতিয়ে দেখা দরকার। তবে সমালোচনার মুখে পড়ে ইউক্রেনের শরণার্থীদের জন্য অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন সরকার। ঘোষণা করা হয়েছে, উদ্বাস্তু পরিবারের জন্য ব্রিটেনের যেসব নাগরিক তাদের অতিরিক্ত ঘর বা সম্পত্তি ছেড়ে দেবে, তারা প্রতি মাসে ৪৫৬ ডলার করে পাবে। সরকারের ‘হোমস ফর ইউক্রেন স্কিম’ নামে প্রকল্পের আওতায় কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য একটি অতিরিক্ত ঘর খালি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : নাম ঘোষণা হতেই প্রচারে বাবুল! বালিগঞ্জের দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকলেন জোড়াফুল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) গত সপ্তাহে বলেছে যে তারা ইতিমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরে থাকা ইউক্রেনীয়দের 'অস্থায়ী সুরক্ষিত' মর্যাদা দেবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি (Jen Psaki) গত মাসে বলেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও শরণার্থী গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে অধিকাংশ শরণার্থী ইউরোপে থাকতেই পছন্দ করবে। ইজরায়েল মঙ্গলবার বলেছে যে নতুন করে তারা মাত্র ৫ হাজার ইউক্রেনীয়কে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত। তবে, প্রায় ২০ হাজার ইউক্রেনীয়, যারা রুশ আক্রমণের আগেই দেশে এসেছিল তাদের সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। ইউক্রেনও প্রায় ২ লাখ ইহুদির আবাসস্থল, যাদের মধ্যে বহু মানুষ ইতিমধ্যেই ইজরায়েলে পালিয়ে এসেছে, আরও অনেকই পালিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

First published:

Tags: Refugee, Russia Ukraine War

পরবর্তী খবর