Home /News /explained /
Temperature Screening: Explained: সব জায়গাতেই এখন মাপা হয় তাপমাত্রা, এই স্ক্রিনিং কি করোনাকে সনাক্ত করতে পারে?

Temperature Screening: Explained: সব জায়গাতেই এখন মাপা হয় তাপমাত্রা, এই স্ক্রিনিং কি করোনাকে সনাক্ত করতে পারে?

ধরা পড়ে করোনা?

ধরা পড়ে করোনা?

Temperature Screening: শুধুমাত্র জ্বর পরীক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাযুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে উপসর্গহীন রোগীদের ক্ষেত্রে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাস (Coronavirus) সংক্রমণের অন্যতম উপসর্গ হল জ্বর। ৫০ শতাংশেরও বেশি কোভিড রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তির জ্বর (Fever) বা সর্দি হয়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রামক রোগের সূত্রপাত নির্ধারণে সহায়তা করে। ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা (Temperature Screening) করা হয়। বিমানবন্দর, রেল স্টেশন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র জ্বর পরীক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাযুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে উপসর্গহীন (Asymptomatic) রোগীদের ক্ষেত্রে। কারণ, তারা সংক্রমিত হলেও উপসর্গ না থাকার কারণে তা জানা যায় না।

কোভিডের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য জ্বর পরীক্ষা কি যথেষ্ট?

শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সত্যিই করোনাভাইরাসের একটি সাধারণ উপসর্গ। তবে এটি এটি একমাত্র উপসর্গ (Symptoms) নয়। সর্দি, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, গলা ব্যথাও প্রাথমিক উপসর্গ, যা সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। শুধুমাত্র তাপমাত্রা পরীক্ষা করা এবং এর উপর ভিত্তি করে লোকেদের আলাদা (Isolation) করা একটি ভুল ধারণা। এটি কেবল তখনই সহায়ক যখন কোনও ব্যক্তির মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়। এমন অনেক লোক থাকতে পারে যাদের জ্বর নাও থাকতে পারে এবং সমানভাবে সংক্রামক হতে পারে।

ওমিক্রনের ক্ষেত্রে জ্বর: এখন যেহেতু আমরা করোনাভাইরাসের একটি নতুন প্রজাতির সঙ্গে মোকাবিলা করছি, তাই ব্যক্তিটি সংক্রামিত কিনা তা সনাক্ত করা আরও কঠিন। ওমিক্রন প্রজাতিতে (Omicron Variant) সাধারণত ঠান্ডা-সদৃশ উপসর্গ দেখা যায়, যা হালকা। এছাড়া জ্বর ওমিক্রনের প্রাথমিক উপসর্গও নয়। ব্রিটেনের একটি গবেষণা অনুসারে, সর্দি, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং হাঁচি এই প্রজাতির কয়েকটি সাধারণ প্রাথমিক উপসর্গ। সর্বোপরি, ওমিক্রন প্রজাতিতে সংক্রমিত ৭৩ শতাংশ লোকের নাক দিয়ে জল পড়ে। ৬৮ শতাংশের মাথাব্যথা, ৬৪ শতাংশের ক্লান্তি এবং ৬০ শতাংশের হাঁচির সমস্যা হয়। সবচেয়ে বড় কথা টিকা এবং টিকা না নেওয়া রোগী, উভয়ের জন্যই উপসর্গ একই।

আরও পড়ুন: অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ? ফুলশয্যার রাত নিয়ে টেনশন? মিলনে অস্বস্তি? মাথায় রাখুন এই টিপসগুলো

অনিশ্চিত নির্ভুলতা: কয়েকটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে ইনফ্রারেড স্কিন থার্মোমিটারের (Infrared Skin Thermometer) নির্ভুলতা ডিজিটাল থার্মোমিটারের (Digital Thermometers) সমতুল্য, কিন্তু এটা অস্বীকার করা যায় না যে এতেও সবসময় ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে। ব্রাজিলের (Brazil) একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার চেকের পরিবর্তে একটি স্ক্র্যাচ-এন্ড-স্নিফ পরীক্ষা, যা গন্ধ না পাওয়ার উপসর্গ নির্ণয় করে তা কোভিড সংক্রমণ সনাক্ত করতে অনেক বেশি সহায়ক। কারণ, গন্ধ হ্রাস এই সংক্রামক রোগের আরেকটি সাধারণ উপসর্গ। গবেষণার সময় গবেষকরা দেখেছেন যে তাপমাত্রা পরীক্ষা অনেক ক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণ সনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

কী ভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে?

আমরা একটি অতিমারীর মাঝখানে আছি এবং কেউ জানে না কতদিন আমাদের এটি মোকাবিলা করতে হবে। ভাইরাস যাতে বৃহত্তর গোষ্ঠীতে ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য তাপমাত্রা পরীক্ষা করা মাত্র একটি উপায়। এটি ১০০ শতাংশ সঠিক নয়, তাই প্রতিটি ব্যক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি এমন কারও সংস্পর্শে আসেন যিনি কোভিডে আক্রান্ত বা নিজের কোনও উপসর্গ থাকে, তাহলে নিজেকে আলাদা করতে হবে। তা ছাড়া নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা এবং ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে অন্যদের থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন: নিজের সন্তানকে চিকেন পক্সে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে, জেনে নিন উপায়...

ভারতে কত ধরনের কোভিড টেস্ট করা যায়?

কোভিড টেস্টগুলি আমাদের সিস্টেমে করোনাভাইরাস সনাক্ত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি। টেস্টগুলি সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে, তা সে উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক। দুটি প্রাথমিক ধরণের কোভিড টেস্ট রয়েছে, যা ডায়াগনস্টিক টেস্ট এবং অ্যান্টিবডি টেস্ট নামে পরিচিত। ডায়াগনস্টিক টেস্ট মানুষের শ্লেষ্মা এবং লালায় সক্রিয় করোনভাইরাস সংক্রমণ সনাক্ত করে। অন্য দিকে, শরীর ইতিমধ্যেই ভাইরাসের মুখোমুখি হয়েছে কি না তা জানা যায় অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে।

মলিকিউলার টেস্ট (Molecular Test): মলিকিউলার টেস্ট পিসিআর (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) নামেও পরিচিত, এটি একটি সক্রিয় করোনভাইরাস সংক্রমণ সনাক্ত করার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সঠিক টেস্ট। এই টেস্টের জন্য সোয়াব ব্যবহার করে নাক এবং গলা থেকে শ্লেষ্মা সংগ্রহ করতে হয়। কোভিড-১৯ সনাক্ত করার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্টকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওমিক্রনের উত্থানের মধ্যে এই টেস্টের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। আরটি-পিসিআর টেস্ট একটি প্যাথোজেনের মধ্যে নির্দিষ্ট জেনেটিক উপাদানের উপস্থিতি সনাক্ত করে। নভেল করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ টেস্টগুলি ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের জিন খুঁজে বের করে। এই স্পাইক প্রোটিনকেই (Spike Protein) মানুষের কোষকে আক্রমণ করতে ভাইরাস ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: একঘেয়ে ডিমের ঝোলে অরুচি? ঝটপট বানিয়ে ফেলুন লোভনীয় 'চিলি এগ', রইল রেসিপি

র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা (Rapid Antigen Test): র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট, যা অ্যান্টিজেন টেস্ট নামেও পরিচিত। এটি ভাইরাস সনাক্ত করার একটি দ্রুত এবং সস্তা উপায়। মাত্র ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যায়। তবে, এটা বলা যায় না যে সেগুলি ১০০ শতাংশ সঠিক। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট থেকে ভুল ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। বাড়িতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা যতটা সুবিধাজনক বলে মনে হয়, পিসিআর টেস্টের তুলনায় দ্রুত এটির রিপোর্ট ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কেন এটি ঘটে তার পিছনে একটি বড় কারণ হল অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুধুমাত্র প্রোটিন অংশ দেখে, সম্পূর্ণ ভাইরাস আরএনএ নয়। সুতরাং, কোনও ডায়াগনস্টিক ভুল এড়াতে অন্য পদ্ধতিতে টেস্ট করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে একটি আরটি-পিসিআর টেস্ট (RT-PCR)।

অ্যান্টিবডি টেস্ট (Antibody test): অ্যান্টিবডি টেস্ট সক্রিয় করোনাভাইরাস সংক্রমণ সনাক্ত করতে পারে এবং অতীতে কেউ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে কি না তাও জানাতে পারে। যাই হোক, সংক্রমণ শুরু হওয়ার অন্তত কয়েক দিন পর পর্যন্ত অ্যান্টিবডি সনাক্ত করা সম্ভব নয়। অ্যান্টিবডি টেস্টের রিপোর্ট দ্রুত পাওয়া যায় না।

কাকে টেস্ট করতে হবে, কাকে করতে হবে না?

কেন্দ্রের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুসারে, কোভিড পজিটিভ রোগীদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা লোকেদের জন্য টেস্ট করা বাধ্যতামূলক নয়, যদি না তারা উচ্চ ঝুঁকি শ্রেণীর লোকেদের মধ্যে পড়ে। তা ছাড়া উপসর্গহীন ব্যক্তি, যাঁরা সবেমাত্র হোম আইসোলেশন সম্পন্ন করেছেন এবং যাঁরা আন্তঃরাজ্য ভ্রমণ করছেন তাঁদের নতুন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আরটি-পিসিআর টেস্টের (RT-PCR Test) প্রয়োজন নেই। যাঁদের জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা এবং গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতির না থাকার মতো উপসর্গগুলি রয়েছে, যাঁদের পূর্বের রোগ (Comorbidities) রয়েছে এবং যাঁরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেছে, তাঁদের টেস্ট করার প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়াও উপসর্গহীন ব্যক্তিদের মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এমনকী সার্জারির ক্ষেত্রেও যদি না উপসর্গ দেখা যায়, টেস্ট করানোর প্রয়োজন নেই। প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকা গর্ভবতী মহিলাদেরও (Pregnant Women) টেস্ট করার দরকার নেই যদি না উপসর্গ থাকে!

Published by:Suman Biswas
First published:

Tags: Coronavirus, Omicron, RT-PCR Test

পরবর্তী খবর