• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Health: বেড়েই চলেছে বায়ু দূষণ ! শ্বাস-প্রশ্বাসের এই সমস্যাগুলি সম্পর্কে এখনই সাবধান হওয়া উচিত!

Health: বেড়েই চলেছে বায়ু দূষণ ! শ্বাস-প্রশ্বাসের এই সমস্যাগুলি সম্পর্কে এখনই সাবধান হওয়া উচিত!

Health: নিম্নমানের বায়ুর কারণে ভাইরাল জ্বরের মতো কঠিন সমস্যা হতে পারে, যা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণকে জটিল করে তোলে এবং মানুষকে অতিরিক্ত ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

Health: নিম্নমানের বায়ুর কারণে ভাইরাল জ্বরের মতো কঠিন সমস্যা হতে পারে, যা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণকে জটিল করে তোলে এবং মানুষকে অতিরিক্ত ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

Health: নিম্নমানের বায়ুর কারণে ভাইরাল জ্বরের মতো কঠিন সমস্যা হতে পারে, যা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণকে জটিল করে তোলে এবং মানুষকে অতিরিক্ত ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

  • Share this:

#কলকাতা: দিল্লি এনসিআর জুড়ে দূষণের (Air Pollution) মাত্রা সর্বকালের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যার কারণে হাসপাতালগুলিতে বাড়ছে শ্বাসকষ্টের সমস্যা (Respiratory Symptoms) নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। শ্বাসকষ্ট, ধোঁয়াশা থেকে সৃষ্ট মাথাব্যথা, অ্যালার্জিজনিত জ্বর, উপসর্গ এবং দমবন্ধ হওয়া পরিস্থিতি থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে দিল্লির বাতাসের গুণমান কমে গিয়েছে।

বায়ু দূষণ একটি বাস্তব সমস্যা, যা বিভিন্ন আরও অন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বায়ু দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ যে যে সমস্যাগুলি হয় সেগুলি হল- চোখ জ্বালা, চোখে চুলকানি, গলার অ্যালার্জি, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট। এছাড়াও নিম্নমানের বায়ুর কারণে ভাইরাল জ্বরের মতো কঠিন সমস্যা হতে পারে, যা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণকে জটিল করে তোলে এবং মানুষকে অতিরিক্ত ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়। বায়ু দূষণের কারণে বিদ্যমান অসুস্থতার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যাঁদের হাঁপানি (Asthma) ও ফুসফুস (Lung) জনিত রোগ রয়েছে।

গুরুতর দূষিত বায়ু শ্বাস নেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব: প্রতিবছরই এই সময়টা দূষণের মাত্রা দেশজুড়ে বেড়ে যায়। বায়ুর মধ্যে অ্যাসিড, নানা রকমের কেমিক্যাল, বিভিন্ন প্রকারের ধাতু, মাটি, ধুলো মিশে থাকে। এই সমস্ত উপাদান যখন একসঙ্গে দূষিত অবস্থায় আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করে, তখন তা আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এই সমস্ত উপাদান আমাদের ফুসফুসে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।

বায়ু দূষণ তাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা বাড়াতে পারে, যারা ফুসফুসের রোগ এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্য সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, দিল্লির বাতাসে ২.৫ মাইক্রন ঘনত্বের সূক্ষ্ম ধূলিকণার (পিএম ২.৫) বাড়ার কারণে ফুসফুসের সমস্যা বাড়ছে। বাতাসে ভাসমান সাধারণ ১০ মাইক্রন ঘনত্বের ধূলিকণা (পিএম ১০) নাকের রোমে আটকে গেলেও পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম ধূলিকণা সরাসরি পৌঁছে যেতে পারে ফুসফুস পর্যন্ত।

তাই যারা কোভিড থেকে সুস্থ (Covid-19 Survivors) হয়েছে, তাদেরও এই সময়ে সতর্কতা মেনে চলতে হবে। এই সমস্ত মানুষদের অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে পরিবারকে। বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়লে হাঁপানির মতো সমস্যাগুলি প্রকট হয়ে উঠতে পারে, এমনকি একটি সাধারণ ভাইরাল কাশিও কয়েকদিন ধরে থাকতে পারে।

  আরও পড়ুন:  পাইপ লাইন থেকে জলের বদলে পড়ছে লাখ লাখ টাকা ! কর্নাটকের ঘটনায় চাঞ্চল্য

যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে। বলা হয়েছে যে, দূষণ বাড়ার সময় শ্বাসকষ্ট, কাশি, গলা জ্বালা করার মতো সমস্যাগুলি অল্প সময়ের মধ্যে একজন ব্যক্তিকে জর্জরিত করতে পারে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য আমরা কয়েকটি উপসর্গের বিস্তারিত এই প্রতিবেদনে জানাচ্ছি।

দূষণের কারণে ফুসফুসের বার্ধক্য ত্বরান্বিত: বায়ু দূষণ একটি উদ্বেগজনক সমস্যা হতে পারে ফুসফুসের জন্য। ফুসফুস জনিত পূর্বের সমস্যা বা কোমর্বিডিটি থাকলে প্রকৃতপক্ষে ফুসফুসের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে দূষণ। বিশেষ করে বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা (পিএম ২.৫) এবং অপেক্ষাকৃত পুরু ধূলিকণার (পিএম ১০) মাত্রা বেশি হলে দমবন্ধ পরিবেশ তৈরি হয়। ফুসফুসের বয়স হয়ে গেলে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

  আরও পড়ুন: ন্যানি ললিতার কোলে জেহ ! সঙ্গে নেই করিনা-সইফ! প্রকাশ্যে ছবি

ফুসফুসের কার্যকারিতা এবং ক্ষমতা কমে যাওয়া: ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যাওয়া অক্সিজেন গ্রহণের মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি ঘুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যগুলিকেও প্রভাবিত করতে পারে। দূষণের চরম মাত্রা এবং দমবন্ধ বাতাস ফুসফুসের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে অত্যধিক দূষণের কারণে ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে গিয়ে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (Chronic Obstructive Pulmonary Disease) বা সিওপিডি (COPD)-র সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গগুলি প্রকট হতে পারে।

ফুসফুসে বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যার সৃষ্টি হয়। বায়ুদূষণের জেরে ফুসফুসে একাধিক সংক্রমণ হতে পারে। পালমোনারি ফাইব্রোসিসের (Pulmonary Fibrosis) মতো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাও হতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। আজকাল মহিলারাও কিন্তু এই সিওপিডি-তে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার মূল কারণ কিন্তু দূষণ। ভবিষ্যতে এই সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

হাঁপানির মতো উপসর্গ: বায়ু দূষণের কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্য়া হয়। যদিও শিশুদের দূষণ-সম্পর্কিত উপসর্গগুলির প্রকটের ঝুঁকি বেশি। এটিও দেখা গিয়েছে যে হাঁপানির মতো সমস্যা শিশুদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকী সুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানির মতো উপসর্গগুলি সমস্য়া তৈরি করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিন যত্ন। যাদের হাঁপানি আছে, বায়ু দূষণের কারণে হাঁপানি বাড়তে পারে।

ব্রঙ্কাইটিস এবং সিওপিডি-র মতো সমস্যা বাড়া: যাদের শ্বাসযন্ত্রের ব্যাধি রয়েছে বা যারা সম্প্রতি কোভিড থেকে সেরে উঠেছে তাদের এখনই তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। যেহেতু দূষণ শুধুমাত্র শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাগুলিকে বাড়িয়ে তোলে পারে না, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ এবং ব্রঙ্কাইটিসের মতো অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে। এই ধরনের সহজাত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ বায়ু দূষণ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। যার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিরাপদ থাকার জন্য কী করবেন?

দূষণের মাত্রা, তা বাড়ির ভিতরে বা বাইরেই হোক না কেন শ্বাসযন্ত্রের ব্যাধি এবং আগে থেকে অসুস্থতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসা কম করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে হবে না।

ইনহেলারও ব্যবহার করতে হবে প্রয়োজনে। যদি একান্তই বাইরে যেতে হয়, তাহলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তবে, সার্জিক্যাল ও কাপড়ের তৈরি মাস্ক ভাইরাস থেকে কিছু স্তরের সুরক্ষা দিতে পারে, তবে তারা দূষণ থেকে রক্ষা করতে কম কার্যকর। তাই চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন N95 মাস্ক ব্যবহার করার। বিশেষ করে যখন দূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে, তখন বাইরে বের হলে এই মাস্ক অবশ্যই পরা উচিত। মাস্ক এমন ভাবে পরতে হবে যাতে নাক এবং মুখ সম্পূর্ণরূপে ঢেকে থাকে।

দূষণের মাত্রা বৃদ্ধিতে কী ভাবে ফুসফুসকে সুস্থ রাখা যায়?

বলা বাহুল্য, ফুসফুস স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য অত্যাবশ্যক। একে সর্বদা নিরাপদ এবং সুস্থ রাখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমাদের শরীরে জীবাণু এবং প্যাথোজেন মোকাবিলা করার জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তবুও কয়েকটি অতিরিক্ত পদক্ষেপ ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে পারে।

ধূমপান ও তামাক সেবন এড়িয়ে চলতে হবে। দূষণযুক্ত এলাকায় খুব প্রয়োজন না থাকলে যাওয়া যাবে না। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে হবে, যা ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বায়ু বিশুদ্ধকারী গাছ, ডিভাইজ লাগানো যেতে পারে। বাড়ির বাইরে জল ছিটিয়ে দিতে পারলে ধুলো উড়বে না। মরসুমি ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে হবে।

Published by:Piya Banerjee
First published: