Home /News /explained /
High Cholesterol Levels: পায়ের নানা অংশে ব্যথা? কেন সময় নষ্ট না করে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো দরকার?

High Cholesterol Levels: পায়ের নানা অংশে ব্যথা? কেন সময় নষ্ট না করে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো দরকার?

মূলত পায়ের বেশ কিছু উপসর্গ দেখে বোঝা সম্ভব শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ছে।

  • Share this:

#কলকাতা: শরীরে কোলেস্টেরলের (Cholesterol) মাত্রা যত বাড়বে, ততই চিন্তা বাড়ে। কারণ কোলেস্টেরলের বৃদ্ধির কারণে শরীরে একাধিক রোগের সংক্রমণ বাড়ে। হৃদরোগ, যকৃত সহ শরীরের একাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই সঠিক সময়ে শরীরের খেয়াল রাখা দরকার এবং নিয়মিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কী ভাবে বোঝা যাবে যে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে? বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এই প্রতিবেদনে-

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক কোলেস্টেরল কী?

কোলেস্টেরল হল একটি মোমের মতো পদার্থ। শরীরের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কোলেস্টেরল প্রয়োজন রয়েছে। কারণ কোষের গঠন এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও হরমোন তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় কোলেস্টেরল। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণ কোলেস্টেরল শরীরে জমে গেলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে। লিভারে কোলেস্টেরল তৈরি হয়ে তা গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এবং গোটা শরীরে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করে লাইপোপ্রোটিন (Lipoprotein)। লাইপোপ্রোটিন মূলত একটি কণা, যা প্রোটিন দ্বারা আবৃত থাকে। কোলেস্টেরল যখন কোনও ফ্যাট এবং কম প্রোটিন কনটেন্টের সঙ্গে মিশে যায় তখন কোলেস্টেরল শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে।

কী ভাবে শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে?

অতিরিক্ত পরিমাণে অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন জাঙ্ক ফুড, ঠাণ্ডা পানীয় ইত্যাদি গ্রহণ করার ফলে কোলেস্টেরল বাড়ে। কারণ এগুলির মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্যাট থাকে। যা লাইপোপ্রোটিনের সঙ্গে মিশে শিরা ও ধমনীতে বাধা বা ব্লকেজ তৈরি করে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হন অনেকে।

শরীরে কী ভাবে কোলেস্টেরল আসে?

শরীরে কোলেস্টেরলের উৎস মূলত দু'টি। প্রথমটি হল লিভার। প্রতিটি মানুষের যকৃতে প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল তৈরি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে শরীরে কোলেস্টেরল প্রবেশ করে। যেমন মাংস, দুধ জাতীয় খাবার খাবার ইত্যাদি। এই ধরনের খাবার গ্রহণ করার ফলে শরীরে প্রয়োজনের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে কোলেস্টেরল তৈরি হয়। যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

মদ্যপান

মদ্যপানের কারণে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেকেই আছেন যাঁরা খুব ঘন ঘন অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করেন। যার ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

পায়ের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল কেমন প্রভাব ফেলতে পারে?

কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবথেকে চিন্তার তা হল, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা যে বাড়ছে তা আগাম কোনও পূর্বাভাস দেয় না। কোলেস্টেরল যখন বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যায় তখনই শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ প্রকাশ পায়। একমাত্র নিয়মিত যদি শারীরিক পরীক্ষা করা হয় তাহলেই কোলেস্টেরলের মাত্রা বোঝা সম্ভব। ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে কোলেস্টেরলের মাত্রা বোঝা সম্ভব। রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেলে পায়ে অ্যালার্জি তৈরি হয়। মূলত পায়ের বেশ কিছু উপসর্গ দেখে বোঝা সম্ভব শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ছে। এছাড়াও আরও কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়। সেগুলি কী কী? জেনে নেওয়া যাক-

পায়ে ব্যথা-

কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে পায়ের বিভিন্ন শিরা ও ধমনী বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যার ফলে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পায়ের বিভিন্ন কোষে পৌঁছতে পারে না। যার ফলে পা ভারী হয়ে যেতে পারে। এবং পা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কোলেস্টেরলের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন এমন অনেকে আছেন যাঁরা জানিয়েছেন, উচ্চ কোলেস্টেরলের জন্য পায়ে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব হয় এবং তার সঙ্গে হাঁটা-চলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। পায়ের বিভিন্ন অংশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। শুধু তাই নয়, ওঠার ও বসার সময়ও যন্ত্রণা অনুভূত হয়। পায়ে হেঁটে খুব অল্প দূরত্ব অতিক্রম করলেও যন্ত্রণা অনুভব করেন তাঁরা।

লেগ ক্রাম্প (Leg Cramp)

শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে গেলে পায়ের পেশিতে টান ধরতে পারে। ঘুমোনোর সময় পায়ের পেশিতে টান অনুভব করতে পারেন অনেকে। সেই সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বুড়ো আঙুল বা পায়ের পাতাতেও টান ধরতে পারে। তবে সব থেকে সমস্যা হয় রাতে ঘুমোনোর সময়। এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হলে বসে থাকা অথবা পা ঝুলিয়ে রাখলে আরাম মিলতে পারে। কারণ পা ঝুলিয়ে রাখলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। যার ফলে ব্যথা কমার সম্ভাবনা থাকে।

ত্বক এবং নখের রঙ পরিবর্তন

শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে ত্বক এবং নখের রঙে বেশ কিছু পরিবর্তন হতে পারে। রক্ত যেহেতু সঠিকভাবে পৌঁছতে পারে না সেকারণে চামড়া বা ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যায়। এবং পায়ের আঙুলের নখ সঠিক হারে বৃদ্ধি পায় না। শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা দরকার। কারণ কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণে এই উপসর্গগুলি প্রকাশ পেতে পারে।

পায়ের পাতা ঠাণ্ডা হয়ে যায়

শীতকালে সাধারণত সকলেরই পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যায়। কিন্তু কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে বছরের যে কোনও সময়ে পায়ের পাতা ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে। এমনকী, গ্রীষ্মকালেও পায়ের পাতা ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে। কারণ, রক্ত সঠিকভাবে সঞ্চালন করতে না পারার জন্যই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোলেস্টেরলের ফলে অন্য কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?

কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে শরীরের শুধুমাত্র পায়ে আক্রমণ করে এমনটা নয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আঘাত করতে পারে। ধমনীতে কোলেস্টেরল জমে যাওয়ার ফলে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে। যার ফলে ব্রেনে রক্ত পৌঁছয় না। ফলস্বরূপ ব্রেন স্ট্রোক দেখা দিতে পারে। অন্য দিকে, কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে হার্টেও সঠিক পরিমাণে রক্ত পৌঁছয় না। এবং সেক্ষেত্রেও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কী কী ভাবে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব?

অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করা প্রয়োজন- যে সব খাবারে অত্যধিক পরিমাণে ফ্যাট থাকে সেই সব খাবার যতটা কম খাওয়া যায় ততই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। খাসির মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ঘি, মাখন খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন- হবু মায়েদের শরীরে ডায়াবেটিসের মাত্রার উপর নজরদারি চালানোর নতুন মডেল, জেনে নিন

লবণ কম খাওয়া- বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রান্নায় নির্দিষ্ট পরিমাণ লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, কাঁচা নুন খাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ধূমপান বন্ধ করা- কোলেস্টেরল রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ধূমপান সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করতে হবে। কেন না, ধূমপানের ফলে শারীরিক সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যায়।

নিয়মিত শরীরচর্চা- বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিযমিত শরীরচর্চা করলে কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। দৈনিক কম করে ৩০ মিনিট শরীর চর্চা করতে হবে। সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব হাঁটতে হবে।

Published by:Suman Majumder
First published:

Tags: Cholesterol problem, Knee pain, Pain

পরবর্তী খবর