• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • EXPLAINED: অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস কেন গঠন করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার?

EXPLAINED: অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস কেন গঠন করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার?

Centre Is Pushing For All India Judicial Service

Centre Is Pushing For All India Judicial Service

আমরা এই প্রতিবেদন এটা জানব যে অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস কী কী কাজে লাগবে এবং এটা চালুর পথে কী কী বাধা রয়েছে। (Explained)

  • Share this:

#কলকাতা: সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে একটি প্রকাশিত হয়েছ যে নিম্ন বিচার বিভাগে (Lower Judiciary) কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আইএএস (IAS) এবং আইপিএসের (IPS) আদলে অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস (All-India Judicial Service) চালু করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই মাসেই কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju) এবং রাজ্যের আইন মন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠকের আলোচ্যসূচির অংশ করা হতে পারে জুডিসিয়াল সার্ভিস। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে সমস্ত রাজ্যকে একই মতে আনতে আগ্রহী আইনমন্ত্রী। মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেছেন, "সরকারের দৃষ্টিতে, সামগ্রিক বিচার প্রদান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য একটি সঠিকভাবে তৈরি অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জেলা এবং অধস্তন আদালত স্তরে। তবে সমস্ত রাজ্যকে বোর্ডে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।" জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠনের প্রস্তাবটি যদিও কয়েক দশকের পুরনো। খুব বেশি সমর্থন পায়নি এই প্রস্তাব। বদলে মামলার সংখ্যা ও বিচার বিভাগে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নিয়মিত নিয়োগে জোর দিতে বলা হয়েছিল। কারণ, এগুলির জরুরি সমাধান প্রয়োজন। বর্তমানে, বিভিন্ন হাই কোর্ট এবং রাজ্য সার্ভিস কমিশনগুলি বিচার বিভাগে অফিসার নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেয়। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য একটি মানসম্মত প্রবেশিকা পরীক্ষা নিতে পারে। আমরা এই প্রতিবেদন এটা জানব যে অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস কী কী কাজে লাগবে এবং এটা চালুর পথে কী কী বাধা রয়েছে।

অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস কী ভাবে সাহায্য করবে?

এই বছরের তথ্যে বলা হয়েছে যে জেলা এবং অধস্তন আদালতগুলিতে ৩.৮ কোটি মামলা জমে রয়েছে। এই ভাবে সমগ্র ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় মুলতুবি থাকা মামলার সংখ্যা ৪.৪ কোটিও বেশি। নিম্ন বিচার বিভাগে ২ হাজার বিচারকের প্রয়োজন রয়েছে। এই বছরের জুলাই পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, বিচার বিভাগের অফিসার পদে ৫ হাজারের বেশি শূন্যপদ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতে বিচারক-জনসংখ্যার অনুপাত প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার ১৯ জন বিচারক। যদিও আইন কমিশন (Law Commission) সুপারিশ করেছিল যে প্রতি ১০ লাখ লোকে বিচারক সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হওয়া উচিত। এই সবগুলি শূন্যপদগুলি দ্রুত পূরণ করা এবং নিম্ন বিচার বিভাগে নিয়োগ গতি আনার জরুরি প্রয়োজনের দিকে ইঙ্গিত করেই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠনের প্রস্তাব করছে।

আরও পড়ুন: দীপাবলির পর কি সোনার দাম কমবে? সোনা কেনার সঠিক সময় এখনই? জানুন...

কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক (Union Law Ministry) গত বছরের মার্চ মাসে সংসদে বলেছিল যে একটি সঠিকভাবে তৈরি অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস সামগ্রিক ন্যায়বিচার দেওয়ার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে একটি সর্বভারতীয় যোগ্যতা নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন আইনি প্রতিভা বিচার ব্যবস্থায় আসবে। আইন মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে একটি সর্বভারতীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ফলে সমাজের প্রান্তিক ও বঞ্চিত অংশগুলিকে এগিয়ে আনা যাবে, সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে। ২০১৮ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে দেশের ১২ রাজ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (OBC) মাত্র ১২ শতাংশ বিচারক রয়েছেন। যা ভারতের মোট জনসংখ্যায় ওবিসি-র আনুমানিক অংশের চেয়ে অনেক কম। অনুমান করা হয়, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি ওবিসি। অন্য দিকে, নিম্ন বিচার বিভাগের বিচারকদের দলিত (Dalit) ও আদিবাসী (Tribals) সম্প্রদায়ের বিচারক যথাক্রমে মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের কম ও প্রায় ১২ শতাংশ। ২০১১ সালের আদমশুমারির পরিসংখ্যান অনুসারে, দলিতরা দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশের বেশি এবং আদিবাসীরা ৯ শতাংশের কম।

আরও পড়ুন: দূষণে রাশ টানতেই নিষিদ্ধ আতশবাজি! কোন রাজ্যে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল

এটা কী ভাবে কাজ করবে?

আইন মন্ত্রক বলেছে যে অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের সেরা প্রতিভাদের তুলে আনা হবে। ১৯৫৮ সালে প্রথম আইন কমিশন অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিসের সুপারিশ করেছিল। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে জমা দেওয়া রিপোর্টেও একই প্রয়োজনীয়তার পুনরাবৃত্তি করেছিল তারা। সুপ্রিম কোর্টও কেন্দ্রকে সুপারিশ করেছে যাতে কেন্দ্রীয় সরকার অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে।

ভারতীয় সংবিধানের ৩১২ অনুচ্ছেদ (Article 312) বলে ভারতের সংসদ একাধিক সর্বভারতীয় সার্ভিস গঠন করতে পারে। 'অল-ইন্ডিয়া সার্ভিস' গঠনেরও ক্ষমতা হয়েছে সংদের। অনুচ্ছেদ ৩১২ অনুযায়ী, এই ধরনের একটি সার্ভিস গঠন করা যেতে পারে যদি রাজ্যসভায় উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রস্তাব সমর্থন করে। ভোটের আয়োজন এক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় বা সমীচীন। কোনও বর্তমান আইনের বলেই অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন করা যায় না। তাহলে, মোট কথা যেটা বোঝা গেল, অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠনের জন্য সংসদীয় বিল আনতে হবে। আইএএস, আইপিএস ইত্যাদির জন্য যে নিয়ম মানা হয়, এক্ষেত্রে সেটাই করতে হবে, একটি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিতে হবে।

অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলি কী কী?

নিম্ন আদালতে বিচারকদের বাছাই, নিয়োগ হাই কোর্ট এবং রাজ্য সরকারগুলি করে। আইন মন্ত্রক বলেছে যে ২০১২ সালে অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠনের জন্য প্রস্তাব আনা হয়েছিল। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীদের এবং হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের সামনে আনা হয়েছিল। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে এই বিষয়ে আরও আলোচনা ও বিবেচনার প্রয়োজন। মন্ত্রক উল্লেখ করেছে যে অল ইন্ডিয়া জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠনের বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলি এবং হাই কোর্টগুলির ভিন্ন মত ছিল। যদিও কয়েকটি রাজ্য সরকার এবং হাই কোর্ট এই প্রস্তাবের পক্ষে ছিল, কেউ কেউ পক্ষে ছিল না। আবার কেউ কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের আনা প্রস্তাবে পরিবর্তন চেয়েছিল। কয়েকটি রাজ্য সরকার আশঙ্কা করে যে নিম্ন বিচার বিভাগে তাদের নিয়োগের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া ফেডারেলিজমের নীতিতে আঘাত। এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে ভাষার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। যেহেতু নিম্ন আদালতগুলির কাজকর্ম সেই রাজ্যের ভাষাতে হয়। তাই সর্বভারতীয় সার্ভিস থেকে এমন বিচারকদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে যিনি সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ভাষায় সাবলীল। অর্থাৎ যাঁরা হিন্দিভাষী উত্তরপ্রদেশে এবং তামিলভাষী তামিলনাড়ুতে সমান স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন। এই প্রশ্নে সরকার মনে করে যে আইএএস এবং আইপিএস অফিসাররাও ভাষার বাধা অতিক্রম করে বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করছেন। তাই বিচারকদেরও সমস্যা হবে না। আইএএস অফিসাররা যদি প্রশিক্ষণের সময় বিভিন্ন রাজ্যের ভাষা শিখতে পারেন, তাহলে বিচারকরাও শিখতে পারেন।

আরও পড়ুন: চাষিদের জন্য তৈরি হচ্ছে এগ্রিস্টেক প্রজেক্ট, এটি আসলে কী?

প্রকৃতপক্ষে, আইন মন্ত্রক উল্লেখ করেছে যে বেশিরভাগ হাই কোর্ট চায় নিম্ন বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকুক। গত বছর সংসদে কেন্দ্র বলেছিল যে মতামতের ভিন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। তবে তার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Published by:Raima Chakraborty
First published: