Home /News /explained /
Expalined: গরম বাড়তেই দিল্লিতে বিয়ারের আকাল, দেশের বিয়ার সরবরাহে সমস্যার কারণ কী?

Expalined: গরম বাড়তেই দিল্লিতে বিয়ারের আকাল, দেশের বিয়ার সরবরাহে সমস্যার কারণ কী?

দিল্লিতে (Delhi) এখন বিয়ারের আকাল চলছে, সরবরাহে প্রভাব পড়েছে দেশের আরও বেশ কিছু শহরে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সারা দেশে বিয়ারের (Beer) চাহিদা বাড়ে। অ্যালকোহল-বিলাসী না হলেও অেকে মনে করেন যে বিয়ারের একটি ঠান্ডা ক্যান গরমের হাত থেকে খানিক স্বস্তি দিতে পারে। যদিও দিল্লিতে (Delhi) এখন বিয়ারের আকাল চলছে, সরবরাহে প্রভাব পড়েছে দেশের আরও বেশ কিছু শহরে। অনেক জায়গাতেই ক্রেতারা বিয়ার পাচ্ছেন না, পেলেও অপছন্দের ব্র্যান্ডের সঙ্গে আপোস করতে হচ্ছে। বিভিন্ন কারণ রাজধানীতে বিয়ার সরবরাহকে প্রভাবিত করেছে। প্রচণ্ড গরম, ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং সীমিত সরবরাহের ফলে বিয়ারের বিশাল সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের রেস্তরাঁ-বারগুলি থেকে বিয়ার প্রায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে বলা যায়। শিল্প বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে এই পরিস্থিতি জুলাই পর্যন্ত চলবে। গত বছরের নভেম্বরে নতুন আবগারি নীতি (Delhi Excise Policy 2021-22) কার্যকর হওয়ার পরে খুচরো বিক্রেতারা গ্রাহকদের জন্য দুর্দান্ত অফার দিচ্ছে। যার কারণে বিয়ার-সহ সব ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে হঠাৎ করে। বিয়ার অমিল হওয়ার পেছনে এটাও একটা বড় কারণ।

এখন পরিস্থিতি কী?

দিল্লিতে প্রতি বছর বিহারের চাহিদা তুঙ্গে থাকে এবং সেই সীমিত সরবরাহও দেখা দেয়। যদিও মদ বিক্রেতারা বলছেন যে এই প্রথমবার সমস্ত বড় ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন ধরনের লেগার এবং স্ট্রং বিয়ারের ক্যান, পাঁইট এবং বোতল তাদের তাক থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। কিছু বিক্রেতা আবার ক্রেতাদের থেকে বেশি দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ ব্র্যান্ডের বিয়ার সম্পূর্ণ খুচরো মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এবং খুচরো বিক্রেতারা বিয়ারের দামে কোনও রকম ছাড় দেয় না।

প্রচণ্ড গরমে চাহিদা বেড়েছে কতটা?

কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান অ্যালকোহলিক বেভারেজ কোম্পানিজ (Confederation of Indian Alcoholic Beverage Companies)-র ডিরেক্টর জেনারেল বিনোদ গিরি (Vinod Giri) বলেছেন যে আগের বছরের তুলনায় এই বছর বিয়ারের চাহিদা কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, "মার্চের প্রথম দিকে গরমকাল শুরু হওয়ার কারণে এই সময় চাহিদা হঠাৎ করে বেড়েছে। সাধারণত এপ্রিল, মে এবং জুনে বিয়ারের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। এই সময়কালে বিক্রির জন্য মার্চ মাসেই বিয়ার মজুত করে ফেলে বিক্রেতারা। যাই হোক, এবার মার্চ থেকেই চাহিদা বাড়তে শুরু করায় দোকানগুলি পর্যাপ্ত পরিমাণে বিয়ার মজুত করতে পারেনি।" এপ্রিলের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত দিল্লি তাপপ্রবাহের (Heatwave) সাক্ষী হয়েছে। তাপমাত্রা কোনও কোনও দিন ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। গত কয়েকদিনে বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

দিল্লিতে কোনও স্থানীয় ডিস্টিলারি না থাকার জন্যই কি সমস্যা আরও বেশি? বিনোদ গিরি জানিয়েছেন, যে রাজ্যগুলিতে স্থানীয় ডিস্টিলারি (Distilleries) রয়েছে সেই রাজ্যগুলি অন্যান্য রাজ্যে বিয়ার রফতানি করার আগে নির্মাতাদের প্রথমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বলে৷ দিল্লির কোনও ডিস্টিলারি নেই। রাজস্থান, হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং জম্মু থেকে এখানে বিয়ার সরবরাহ হয়। সীমিত সরবরাহের কারণে সবসময় পাওয়া যায় না। গ্রীষ্মকালে দিল্লিতে বিয়ারের ঘাটতি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এই বছর উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি থেকে কম সরবরাহের কারণে ঘাটতি আরও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবগারি বিভাগের একজন সিনিয়র কর্তা।

নতুন আবগারি নীতি কি দায়ী?

কিছু বিক্রেতা এই বছরের সরবরাহ ঘাটতির জন্য দিল্লি সরকারের আবগারি নীতিকেও দায়ী করেছেন। একজন বিক্রেতা জানিয়েছেন যে ডিসকাউন্ট পদ্ধতির ফলে বিক্রেতাদের হাতে নগদ কম থাকছে। মরসুম শুরু হলেও বিয়ার মজুত করার জন্য খুব বেশি বিনিয়োগ তাঁরা করেননি। গত নভেম্বরে দিল্লি সরকার নতুন আবগারি নীতি লাগু করে। সেই থেকে ব্যক্তিগত খুচরা বিক্রেতারা গ্রাহকদের আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে, যার ফলে বিয়ার সহ সমস্ত ধরণের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে।

বিয়ারের প্রিয় ব্র্যান্ড মেলার সম্ভাবনা কত দূর? বিয়ার-প্রেমীরা অভিযোগ করেছেন যে শহরের মদের দোকানগুলিতে বিয়ারের সাধারণ ব্র্যান্ডগুলিই পাওয়া যাচ্ছে না। এক ক্রেতা বলেন, "সাধারণ ব্র্যান্ডের বিয়ার নেই। মদের দোকানদার নতুন ব্র্যান্ডগুলো বেচার চেষ্টা করে, যা আমি কখনও খেয়ে দেখিনি। সরবরাহ না থাকার কারণে ক্যান বা বোতল, যেটাই যখন পাওয়া যাচ্ছে সেটাই কেনা হচ্ছে।"

দিল্লিতে বিয়ারের চাহিদা কেমন থাকে?

সাধারণত, দিল্লিতে বিয়ারের বার্ষিক বিক্রি প্রায় ৩১৫-৩২০ মিলিয়ন কেস। যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ গরমের মাসগুলিতে বিক্রি হয়। কিন্তু চাহিদা বাড়ার কারণে এই বছর বিয়ারের বার্ষিক বিক্রি ৩৩০-৩৪০ মিলিয়ন কেস পর্যন্ত যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

First published:

Tags: Beer

পরবর্তী খবর