• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Explained | Coronavirus: তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মুখে চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেল্টা প্রজাতির নতুন সাবভ্যারিয়েন্ট, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Explained | Coronavirus: তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মুখে চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেল্টা প্রজাতির নতুন সাবভ্যারিয়েন্ট, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

Explained | Coronavirus: ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পর নতুন করে আরও একটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যা কোভিড ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টেরই একটি ভাগ।

  • Share this:

#কলকাতা: কোভিড নিয়ে চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পর নতুন করে আরও একটি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যা কোভিড ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টেরই একটি ভাগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই ওই ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ দেখা গিয়েছে। মূলত ব্রিটেনেই সব থেকে বেশি থাবা বসিয়েছে কোভিডের এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট। করোনাভাইরাসের একাধিক রূপ পরিবর্তন হওয়ার হওয়ার পর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের নতুন এই রূপ প্রকাশ্যে এসেছে।

ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন যে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সব থেকে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল কিন্তু ডেল্টার এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট কতটা ক্ষমতাশালী, তা নিয়ে চলছে গবেষণা। নতুন ভ্যারিয়েন্টের নাম দেওয়া হয়েছে, ডেল্টা সাবভ্যারিয়েন্ট AY 4.2। এক নজরে জেনে নেওয়া যাক, কোভিডের নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের বিষয়ে বেশ কিছু নতুন তথ্য।

AY 4.2 সাবভ্যারিয়েন্ট কী?

কোভিডের B.1.617.2 অথবা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের একটি রূপ AY 4.2। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল এবং দেশে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পিছনে মূল কারণই ছিল এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। তার পর একাধিক বার নিজের রূপ পরিবর্তন করেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৫টি ভিন্ন রূপে রয়েছে কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, ডেল্টার নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের প্রথম খোঁজ মিলেছিল চলতি বছরের জুলাই মাসে।

এত দিন পর্যন্ত সে ভাবে আক্রমণ না-করলেও বর্তমানে নতুন ওই ভ্যারিয়েন্ট নিজের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং আক্রমণ করছে। এই বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে বলা হয়েছে যে, ইংল্যান্ডেও AY 4.2 ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ দেখা গিয়েছে এবং গত ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। এই সাবভ্যারিয়েন্টের মধ্যে যে দুই ধরনের স্পাইক প্রোটিন রয়েছে, সেগুলি হল-- A222V এবং Y145H।

কোথায় এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে?

Cov-lineages.org থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে জানা যাচ্ছে যে, ব্রিটেনে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে। ব্রিটেনে যাঁরা নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ নতুন এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও আমেরিকাতেও এই ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ মিলেছে। এমনকী, রাশিয়া, ইজরায়েল এবং আরও কয়েকটি দেশে অল্প পরিমাণে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অন্য দিকে রাশিয়া সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, ১১ বছরের এক কিশোর অন্য দেশ থেকে রাশিয়ায় এসেছিল এবং তার শরীরেই প্রথম ডেল্টার ওই নতুন ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। লন্ডনের UGL জেনেটিক্স ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর ফ্রাঙ্কোস বাল্লোক্স টুইট করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র লন্ডনে সবথেকে বেশি মাত্রায় AY.4.2 ভ্যারিয়ান্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। অন্য দেশেও এর সন্ধান পাওয়া গেলেও তা খুবই সামান্য।

AY.4.2 ভ্যারিয়েন্টের জন্য কি চিন্তা বাড়ছে?

এখনও পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)-এর তরফে AY.4.2 ভ্যারিয়েন্টের বিষয়ে তেমন কিছু জানানো হয়নি। অতীতে মোট চারটি ভ্যারিয়েন্টের বিষয়ে জানিয়েছে WHO। তাদের তরফে জানানো হয়েছিল যে, করোনার যে ভ্যারিয়েন্টগুলির জন্য সব থেকে বেশি চিন্তা, সেগুলি হল-- Alpha (B.1.1.7, প্রথম দেখা গিয়েছিল ব্রিটেনে), Beta (B.1.351, সাউথ আফ্রিকা), Gamma (P.1, ব্রাজিল) এবং Delta (B.1.617.2, ভারতে)। এগুলিতে আক্রান্ত হলে অতিদ্রুত শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।

তবে AY.4.2 নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে গোটা বিশ্বে। যে সব বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে গবেষণা করছেন, তাঁদের একাংশের বক্তব্য AY.4.2 ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কোনও কারণ নেই। সংক্রমিত করার ক্ষমতা থাকলেও তা শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে না। এ বিষয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এক রাশিয়ান গবেষক জানিয়েছেন, কোভিডের প্রধান যে ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে, তার থেকে AY.4.2-এর প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ক্ষমতা রয়েছে।

কেন এই ভ্যারিয়েন্টকে অত্যন্ত গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী আরও ৬ মাস গোটা বিশ্ব জুড়ে আক্রমণ করতে পারে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। দেখা গিয়েছে, কোভিড ভাইরাস ইতিমধ্যে এভোলিউশনারি লিমিটে পৌঁছে গিয়েছে। ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডনের এক প্রফেসর জানিয়েছেন, সম্ভবত AY.4.2 ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট একদম শীর্ষে পৌঁছে যাবে। আর তার পর ধীরে ধীরে আক্রমণের হার কমতে থাকবে। তবে AY.4.2 ভ্যারিয়েন্টকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তা হলেই এই ভ্যারিয়েন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আমেরিকার প্রাক্তন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশনার জানিয়েছেন, AY.4.2 কতটা সংক্রামক এবং কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ডিরেক্টর রশেল ওয়েলেনস্কি বলেন, বর্তমান সময়ে AY.4.2 এর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই যে ভ্যাকসিন নিয়েছি, তার উপর AY.4.2-কতটা প্রভাব ফেলবে, তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।” তবে যাঁরা এখনও ভ্যাকসিন নেননি, তাঁদের উপর ব্যাপক ভাবে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২০ সালের গোড়ার দিক থেকেই এ দেশে আক্রমণ শুরু করেছে কোভিড। প্রায় দু’বছর হতে চলল। কিন্তু আক্রমণ কমেনি। বর্তমানে দেশ জুড়ে চলছে উৎসবের মরশুম। এই পরিস্থিতিতে লক্ষাধিক মানুষ একত্রিত হচ্ছেন। এতেই চিন্তা বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোভিড প্রোটোকল না-মানলে পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে। অন্য দিকে উৎসবের মরশুমে ফের বাড়তে শুরু করেছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যাও। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ভাবে চলতে থাকলে অতি দ্রুত কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে।

তবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোভিডের আক্রমণ আটকাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনেশনের গতি বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কোভিড ডোজের সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে ভারতে। এরই সঙ্গে কোভিড প্রোটোকল মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাস্ক পরার পাশাপাশি বারবার হাত ধোয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। সঙ্গে ভিড় এড়িয়ে চলার কথাও বলা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, কোভিড এখনও পুরোপুরি ভাবে বিদায় নেয়নি এবং কবে তা বিদায় নেবে, সেই বিষয়েও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তত দিন প্রত্যককে সতর্ক থাকতে হবে।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: