• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Corona And Sinus Infection Difference: করোনা এবং সাইনাস সংক্রমণের মধ্যে পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে? জেনে নিন

Corona And Sinus Infection Difference: করোনা এবং সাইনাস সংক্রমণের মধ্যে পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে? জেনে নিন

কোভিড ১৯ এবং সাইনাস ইনফেকশন উভয়েই আপার রেসপিরেটরি সিস্টেমের (Upper Respiratory System) উপর হানা দেয়।

কোভিড ১৯ এবং সাইনাস ইনফেকশন উভয়েই আপার রেসপিরেটরি সিস্টেমের (Upper Respiratory System) উপর হানা দেয়।

কোভিড ১৯ এবং সাইনাস ইনফেকশন উভয়েই আপার রেসপিরেটরি সিস্টেমের (Upper Respiratory System) উপর হানা দেয়।

  • Share this:

#কলকাতা: কোভিড ১৯-এর (Covid 19) প্রভাবে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। গত বছর থেকে থাবা বসানো শুরু করেছে ওই ভাইরাস। কবে মুক্তি মিলবে তাও নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না কেউ। শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক ভাবেও বিপর্যস্ত অনেকে। কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেই যে পুরোপুরি শারীরিক সমস্যা মিটে যাবে এমনটা সব সময় ভাবার কোনও কারণ নেই। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরেও অনেকের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি লং কোভিডে (Long Covid) আক্রান্তেও হয়েছেন অনেকে। বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশ, কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর অনেকেরই দীর্ঘ দিন শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি শরীরের দুর্বলতা থাকে অনেক দিন। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা চলতি বছরেই আছড়ে পড়বে করোনার তৃতীয় ঢেউ। তাতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শিশুদের সব থেকে বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কোভিড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও আতঙ্ক রয়ে গিয়েছে। সাধারণ জ্বর, সর্দি হলেও অনেকেই তা কোভিডের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে। ভয় পাচ্ছেন অনেকে। কোভিড আক্রান্ত হলে বেশ কিছু সাধারণ উপসর্গ প্রকাশ পায়। তার মধ্যে রয়েছে, গলায় ব্যথা, জ্বর, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। তবে কোভিড না হলেও সাধারণ জ্বর বা শরীর অসুস্থ হলে এই উপসর্গগুলি প্রকাশ পায়।

কোভিডের ক্ষেত্রে অন্যতম উপসর্গ নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সাইনাসের (Sinus) সমস্যা। সাধারণ ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। তাই সাধারণ ভাইরাসেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। যার প্রভাবে জ্বর, গলাব্যথা বা সাইনাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যেহেতু আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় তাই জ্বর বা শারীরিক নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর জন্য অতিরিক্ত চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

সাইনাস ইনফেকশন এবং কোভিডের উপসর্গ কেন একই?

এই বিষয়ে জানতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে সাইনাস ইনফেকশন কেন হয়। মূলত মানবশরীরে নাকের মধ্যে বেশ কিছু বায়ু-ভর্তি থলি থাকে। সাইনাস ইনফেকশন হলে সেই থলি বা পকেটগুলি ফুলে যায়। যার ফলে নাকের ভিতরের পেশি সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি, নাকের ভিতরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ক্রমশ বৃদ্ধি হয়। অন্য দিকে, কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হলেও একই সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তাঁরও নাকের ভিতরে থাকা বায়ুর থলি বা পকেটগুলি বেড়ে যায়। ফলে শ্বাসের সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা খুব দ্রুত শুরু হয় এবং নাক বন্ধ হয়ে যায় খুব দ্রুত। কিন্তু সাধারণ ভাইরাসে সাইনাসে সংক্রমণ হলে তা বোঝা যাবে কমপক্ষে ১০ দিন পর। এবং ধীরে ধীরে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অযথা দুশ্চিন্তা না করার। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই যে করোনা সংক্রমণ হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, বলছেন তাঁরা।

উভয় ক্ষেত্রে একই উপসর্গ প্রকাশ-

কোভিড ১৯ এবং সাইনাস ইনফেকশন উভয়েই আপার রেসপিরেটরি সিস্টেমের (Upper Respiratory System) উপর হানা দেয়। তাই উভয় ক্ষেত্রেই রোগের উপসর্গগুলি সমান। কী কী উপসর্গ প্রকাশ পায়?

কোভিড সংক্রমণ এবং সাইনাস ইনফেকশনের ক্ষেত্রে যে যে উপসর্গগুলি প্রকাশ পায় সেগুলি হল-

১) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া

২) মাথা ব্যথা

৩) গলায় ব্যথা

৪) কাশি হওয়া

৫) জ্বর আসা

৬) ক্লান্তি ভাব

কোভিড ১৯ এবং সাইনাস ইনফেকশনের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলি দেখা দেয়।

সাইনাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে আরও কিছু উপসর্গ-

সাইনাস ইনফেকশন এমন একটি রোগ যা মূলত আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় প্রকাশ পায়। যে কারও এই সমস্যা হতে পারে। সাধারণ জ্বর এবং সাইনাস ইনফেকশনের উপসর্গগুলি মূলত একই। যাঁরা ধূমপান করেন, যাঁদের সহজেই ঠাণ্ডা লেগে যায় অথবা যাঁদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে তাঁরা সাধারণত এই সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলেও সাইনাসের সমস্যা দেখা দেয়। এর সঙ্গে সাইনাস সংক্রমণের এমন কিছু উপসর্গ রয়েছে যা অন্য রোগের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। কী কী সেগুলি?

আরও পড়ুন- করোনা ভ্যকসিন নিয়ে ভুয়ো তথ্যে বিভ্রান্ত হচ্ছেন? আজই জেনে নিন ঠিক-ভুল...

১) উপরের তালুতে চাপ অনুভূত হওয়া

২) মাথায় ব্যথা হওয়া

৩) চোখের ভিতরে চাপ অনুভূত হওয়া

৪) দাঁতে ব্যথা হওয়া

৫) মুখে দুর্গন্ধ হওয়া

৬) ভিন্ন রঙের সর্দি নির্গত হওয়া

এই উপসর্গগুলি সাইনাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে দেখা দেয় যা কোভিডের ক্ষেত্রে দেখা দেয় না।

কোভিড ১৯ এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু উপসর্গ-

কোভিড ১৯-এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয় যা সাইনাস সংক্রমণের ক্ষেত্রেও দেখা দেয়। কোনও ব্যক্তির শরীরে কোভিড আক্রমণ করলে তা বুঝতে মোটামুটি ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। তার আগে কোনও ভাবেই করোনায় আক্রান্ত কোনও রোগীকে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তবে পরীক্ষা করলে তা বোঝা সম্ভব। কোভিড ১৯-এর ক্ষেত্রে যে যে উপসর্গগুলি ফুটে ওঠে-

১) শ্বাস কষ্টের সমস্যা

২) গা-হাত পায়ে ব্যথা

৩) হজমে সমস্যা হওয়া

৪) গন্ধ ও স্বাদ চলে যাওয়া, কোনও খাবারের স্বাদ পান না কোভিডে আক্রান্ত রোগী

৫) নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে

কোভিডের উপসর্গগুলি কী ভাবে ফুটে ওঠে?

এটা পুরোপুরি বলা খুব কঠিন যে কী ভাবে কোভিড ১৯-এর উপসর্গগুলি ফুটে ওঠে। বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে কোভিড উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে সাধারণত প্রথমে কোনও কোভিডে আক্রান্তের জ্বর হয়। এবং ধীরে ধীরে গলা ব্যথা, সাইনাস ইনফেকশন দেখা দেয়। তবে বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশ, কোভিড আক্রান্তের অধিকাংশজন মধ্যে স্বাদ ও গন্ধ অনুভব করতে পারেন না। এর সঙ্গে বমি ভাব, ক্লান্তি অনুভব করেন কোভিডে আক্রান্তরা।

অন্য দিকে, কোনও ব্যক্তির অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থাকলেও তিনি সাইনাসের সমস্যায় ভুগতে পারেন।

কখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

যে কোনও রকম উপসর্গ দেখা দিলেই যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে রোগীকে বেশি দিন ফেলে রাখা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। কারণ না চিকিৎসা না করালে তার ফল মারাত্মক হতে পারে।

First published: