বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

নির্বাচনের আগে বিজেপিতে টলিউড অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ? কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে শীঘ্রই সাক্ষাৎ! তোলপাড় রাজনীতি

নির্বাচনের আগে বিজেপিতে টলিউড অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ? কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে শীঘ্রই সাক্ষাৎ! তোলপাড় রাজনীতি

২০২১ এ কি রাজনীতিতে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ? অন্তত রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা-কল্পনা তেমনটাই চলছে।

  • Share this:

#কলকাতা: ২০২১ এ কি রাজনীতিতে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ? অন্তত রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা-কল্পনা তেমনটাই চলছে। সম্প্রতি রুদ্রনীল ঘোষের জন্মদিনে বিজেপির যুবনেতার সাক্ষাৎ এবং শুভেচ্ছা বার্তা সে দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও রুদ্রনীল ঘোষের জন্মদিনে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু বিজেপির যুবনেতার সাক্ষাতের পাশাপাশি কৈলাশ বিজয়বর্গীর সঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষের বৈঠক করার আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপির এই যুবনেতা। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন অভিনেতা রুদ্রনীল?

বৃহস্পতিবার খোলামেলা প্রশ্নের উত্তর দেন রুদ্রনীল। NEWS 18 বাংলা-কে তিনি স্পষ্ট বলেন, "একুশের নির্বাচনে কোনও দলের হয়ে প্রচারের সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত নিইনি। কিছু কমিটমেন্ট রয়েছে, সেগুলো পূরণ করার পরে আরও ভাবনা-চিন্তা করে, রাজ্যের মানুষ কী বোঝেন, তাঁদের ভাবনার সঙ্গে আমার ভাবনার মিল হচ্ছে কিনা, সেই সব ভেবেই হয়তো সিদ্ধান্ত নেব।" তবে কৈলাশ বিজয়বর্গী সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে   জানিয়েছেন রুদ্রনীল। তিনি বলেন, "আমার এক পুরনো সাংবাদিক বন্ধু এসেছিল শুভেচ্ছা জানাতে। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখনও অনেক কিছু বোঝা, জানা বাকি রয়েছে। শঙ্কু বলেছে কৈলাসবাবুর সঙ্গে দেখা করাবে। আমি বলেছি ডেফিনেটলি দেখছি কী করব। কৈলাস বিজয়বর্গীয় কী বলবেন সেটা অবশ্যই শুনব।"

তবে অভিনেতা হলেও রাজনীতির সঙ্গে বরাবরই যুক্ত রুদ্রনীল ঘোষ, তা তাঁর  এ দিনের কথাতেও স্পষ্ট। রুদ্রনীল শুরু থেকেই রাজনীতি সচেতন। ছাত্রজীবনে যুক্ত ছিলেন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে। যদিও সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের পর পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় রুদ্রনীলের। তৃণমূলে যোগ দেন। রাজ্যের বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংসদের সভাপতি পদে বসেন। শাসক দলের হয়ে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে বারে বারে দেখা গিয়েছে রুদ্রনীল ঘোষকে। কিন্তু ২০১৯ এর পর থেকেই ঘটে ছন্দপতন। সিন্ডিকেট রাজ থেকে শুরু করে কাটমানি নেওয়া একের পর এক ইস্যু নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেন টলিউডের এই অভিনেতা। অবশ্য একে একে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকেও সরতে হয় রুদ্রনীল ঘোষকে।

বৃহস্পতিবার খোলামেলা সাক্ষাৎকারে শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুদ্রনীল। NEWS 18 বাংলা-কে তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি যেমন ভালবেসেছিলাম, এখনও তেমনই ভালবাসি। দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা যা বার্তা দিয়েছেন, যা যা কাজ করতে বলেছেন দলীয় কর্মীদের একাংশ তা করেনি। কাটমানি নিয়েছেন, সেই থেকে মনের মধ্যে একটা চাওয়া কষ্ট রয়েছে। দলনেত্রীর কাছের এখনও কিছু নেতা ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। যারা মুখোশ পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হয়তো এই বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর শব্দগুলো প্রযোজ্য।" এ দিন অবশ্য অভিনেতা স্পষ্ট করে দেন তিনি এখন নয়, একাধিকবার শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন বিভিন্ন অভিযোগের কথা। এ প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেন, "আমি কোথাও জানাইনি এটা নয়, কিন্তু আমি যতদূর জানানো সম্ভব ততটুকু জানিয়েছি।"

এ দিন হাওড়াতে শাসকদলের কার্যকলাপ নিয়ে সরব হন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি বলেন, "কিছু মানুষ হাওড়ার রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। হাওড়ার জন্য অবশ্যই আমি কিছু করতে চাই। আমি তো হাওড়ার জন্য চিরকালই করতে চেয়েছি। কিন্তু আমাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে।" টলিউড ইন্ডাস্ট্রিকেও রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে বলে এ দিন সরব হন অভিনেতা। রুদ্রনীল বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী শিল্পীদের সম্মান করেন। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রিকে যাঁদের দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারাই ইন্ডাস্ট্রিটাকে রাজনীতিকীকরণ করে দিয়েছেন। তাঁরা এখনও ক্ষতি করে যাচ্ছে এই ইন্ডাস্ট্রির।" বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন সে বিষয়ে অবশ্য তার অবস্থান স্পষ্ট করলেও কোন শিবিরের হয়ে একুশের নির্বাচনী প্রচার করবেন, সেই জল্পনা এ দিন জিইয়ে রাখলেন এই টলি অভিনেতা।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Shubhagata Dey
First published: January 7, 2021, 6:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर