বিনোদন

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

নগরকীর্তনের সঙ্গে কীর্তনের কোন যোগই নেই, জানালেন ছবির সঙ্গীত পরিচালক প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়

নগরকীর্তনের সঙ্গে কীর্তনের কোন যোগই নেই, জানালেন ছবির সঙ্গীত পরিচালক প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়
  • Share this:

সব সমস্যা মিটিয়ে মুক্তি পাচ্ছে নগরকীর্তন ৷ শুক্রবার অর্থাৎ ২২শে ফেব্রুয়ারি দর্শকদের জন্য হলে মুক্তি পাচ্ছে কৌশিক গাঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ৷ আরও একটি সম প্রেমের গল্প বলেছেন কৌশিক ৷ এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এরআগেও ২টি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা হয়েছিল দু’জনের ৷ ডেট সমস্যায় কাজ করা হয়নি ৷ কিন্তু এবার হল, বলছেন সঙ্গীত পরিচালক এবং এটাই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের এখনও পর্যন্ত সেরা ছবি বলেই মত প্রবুদ্ধবাবুর ৷ ছবির সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে ছবি নিয়ে, ছবির সঙ্গীত নিয়ে অনেকটা আলোচনায় স্পষ্ট হল ছবির প্রতি তাঁর অগাধ আবেগের কথা...

ছবির নাম নগরকীর্তন ৷ তাহলে কী ছবির সঙ্গীতে কীর্তনের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে ?

এটা একেবারেই ভুল ধারণা ৷ কোনভাবেই ছবির সঙ্গীতে কীর্তনের প্রভাব নেই ৷ এমনকী কীর্তনের জন্য যেই ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহৃত হয়, সেগুলিও গুরুত্ব পায়নি ৷ উল্টে ব্যবহার করা হয়েছে পিয়ানো অ্যাকর্ডিয়ান, চেলো, ইউকেলিলি, এসরাজের মতো বাদ্য ৷ ভায়োলিনও ব্যবহৃত হয়েছে ৷ এছাড়াও  বৃহন্নলাদের দিয়ে ব্যাক আপ ভোকাল করিয়েছি, যারা ছবিতে অভিনয়ও করেছেন ৷  ছবির ক্লাইম্যাক্সে জোরে জোর হরিধ্বনি উঠেছে সঙ্গে ইউকেলিলি ও চেলোর শব্দ ৷ অনেকে ছবি নিয়ে লিখতে গিয়ে কীর্তনের কথা উল্লেখ করছেন ৷ খুব ভুল এই তথ্য ৷ কীর্তন শুধুমাত্র একটি চরিত্রের মতো এসেছে ছবিতে ৷ বাড়তি কোনও গুরুত্ব নেই ৷

আপনি তো কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম কাজ করলেন ৷ কেমন ভাবে ছবির সুর তৈরি হল ? কোনও বিশেষ নির্দেশ ছিল পরিচালকের ?

সুরের ব্যাপারটা কৌশিক পুরোপুরি আমার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন ৷ শুরুতে ছবিটি আমায় দেখান ৷ ব্যস, তারপর আর কিছু বলেননি ৷ প্রায় পুরো ছবির সুর তৈরির পর কৌশিকের সঙ্গে কথা হয় ৷ আমার সুরের সঙ্গে কৌশিক সহমতই ছিলেন ৷

গল্পটি কী ? 

একটি প্রেমের গল্প ৷ তবে সেই প্রেমের মধ্যে অস্বাভিকতা রয়েছে ৷ কিন্তু প্রেম তো প্রেমই হয় ৷ সেখানেই কৃষ্ণের গল্প বা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আঙ্গিকে আনা হয়েছে কীর্তনকে ৷ এক রূপকথার গল্প তৈরি করেছেন পরিচালক যেখানে ছবির নামে কীর্তন ব্যবহারের এক আলাদা তাৎপর্য রয়েছে ৷

কেন নামের সঙ্গে মিলিয়ে কীর্তনকে ব্যবহার করলেন না ছবির সঙ্গীতে ?

তাহলে তো ছবির যে বিভিন্ন স্তরগুলি রয়েছে, তা ছোঁয়াই যেত না ৷ বিজ্ঞাপন দুনিয়ায় একটা কথা খুবই প্রচলিত, যা হল A for Apple ৷ মানে যা দেখছেন সেটাই ৷ সেইভাবে সুর তৈরি হয়নি ৷ যেভাবে ছবির গল্প এগিয়েছে তাতে পিয়ানো অ্যাকর্ডিয়ানের সুর খুব মানিয়েছে ৷ সঙ্গে চেলোর আওয়াজও খুব গাঢ়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ৷

আর বাঁশি ব্যবহার করা হয়েছে তো ? ছবিতে ঋত্বিক তো বাঁশি বাজান !

হ্যাঁ, বাঁশি ব্যবহার হয়েছে তবে সেটাই ছবির গল্পের সঙ্গে মানিয়ে ৷ ছবিতে ঋত্বিক বাঁশি বাজান ঠিকই কিন্তু ওর আসল কাজ ছিল অন্য ৷ একটি খাবার দোকানের ডেলিভারি বয় ৷ সময় করে কীর্তন দলের সঙ্গে কাজ করে ৷ আর সেই প্রেক্ষিতেই তার সঙ্গে আলাপ পুটি ওরফে ঋদ্ধির ৷ এখানে কুছ কুছ হোতা হ্যায় বাজানো হয়েছে বাঁশিতে ! ব্যস ওইটুকুই ৷

ঋত্বিকের সঙ্গে নাকি সুরের কোন সম্পর্কই নেই ৷ ঋত্বিক নিজেই সে কথা জানিয়েছেন ৷ কিন্তু ছবিতে দেখে কেমন লেগেছে ঋত্বিককে ? 

ঋত্বিক অনবদ্য অভিনেতা ৷ যেই চরিত্র ও অভিনয় করে, সেটাই পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলে ৷ এখানেও ব্যতিক্রম হয়নি ৷ যেভাবে বাঁশিতে হাত রেখেছে বা বাজানোর অভিনয় করেছে, কারও বোঝা সম্ভব নয়, যে ও বাঁশি বাজাতে পারে না !

আর ঋদ্ধি ? 

খুবই ভাল ৷ অভিনয়ে জাতীয় পুরষ্কারই সে কথা জানিয়ে দিয়েছে ৷ কিন্তু অন্যান্যদের অভিনয়ও চোখ জোড়াবে ৷ বিশেষ করে কয়েকজন রূপান্তরকামী রয়েছেন এই ছবিতে, যাদের কথা উল্লেখ করতেই হয় ৷ যেমন রয়েছেন শঙ্করী ৷ ছবিটি দেখা উচিৎ সকলের ৷ অভিনয়ের মান এত উন্নত আর কৌশিকের গল্প বলার নৈপুণ্যে আলাদা মাত্রা পেয়েছে নগরকীর্তনে ৷

First published: February 21, 2019, 5:02 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर