corona virus btn
corona virus btn
Loading

'ফেলুদা করার প্রস্তাব এলেই তাড়াতাড়ি পাকা চুল কালো করব, জিমে গিয়ে ভুঁড়ি কমাব': সব্যসাচী চক্রবর্তী

'ফেলুদা করার প্রস্তাব এলেই তাড়াতাড়ি পাকা চুল কালো করব, জিমে গিয়ে ভুঁড়ি কমাব': সব্যসাচী চক্রবর্তী

News18 Bangla-র সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। উঠে এল অবাক করা কিছু তথ্য।

  • Share this:

#কলকাতা: ৬ ফুটের বেশি উচ্চতা। সঙ্গে খানিক গাম্ভীর্য। দেখলেই মনে হয় পাক্কা গোয়েন্দা। তবে তিনি নাকি অভিনেতা হতেই চাননি। জীবনে কোনও দিন নাকি চিত্রনাট্য পড়ে ছবি করতে রাজি হননি। সব্যসাচী চক্রবর্তী নিজেকে অভিনেতা হিসেবে পয়েন্ট দিতেও নারাজ।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর ওয়েব সিরিজ ‘লালবাজার’। সিরিজটি প্রেজেন্ট করেছেন অজয় দেবগ‍ন। নিউজ18 বাংলার সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন সব্যসাচী। উঠে এল অবাক করা কিছু তথ্য।

প্রশ্ন- গোটা জীবন মোটামুটি রহস্য-রোমাঞ্চ নিয়েই আছেন। ‘লালবাজার’-ও তার ব্যাতিক্রম নয়। চিত্রনাট্য পড়ে খুব ভাল লেগেছিল আপনার?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: লালবাজার-এর মধ্যে কী ছিল, যেটা আমাকে আকৃষ্ট করেছে, তা বলতে পারব না। লালবাজার তৈরি করেছে আমার খুব পরিচিত একজন প্রযোজক। সুরিন্দর ফিল্মস-এর সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। সায়ন্তন (‘লালবাজার’-এর পরিচালক)আমার খুব পছন্দের মানুষ। বাচ্চা ছেলে, কিন্তু সায়ন্তন-শুভ দু’জনই খুব ভাল কাজ করে। ওরা যখন এসে আমাকে বলল, আমি হ্যাঁ বলে দিলাম।

প্রশ্ন- আপনি চিত্রনাট্য পড়েননি? নিজের চরিত্র সম্পর্কে না জেনেই হ্যাঁ বলে দিয়েছিলেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  আমি ওসব ভাবিনি। চরিত্রটা কেমন। কতক্ষণ আছি বা কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমার চরিত্র, আমি এসব নিয়ে কতদিনই মাথা ঘামাই না। আমি আসলে প্রযোজক-পরিচালক কে, সেটা দেখি। বিশেষ করে পরিচালক পছন্দের হলে, হ্যাঁ বলে দিই। পাঠ ছোট না বড়, দেখি না।

প্রশ্ন- মানে কোনও ছবির ক্ষেত্রেই চিত্রনাট্য পড়েন না?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পড়ি না। চরিত্রটা কতক্ষণ পর্দায় সময় পাবে। দর্শকের কাছে কতটা পৌঁছবে, সত্যি এসব ভাবি না।

প্রশ্ন- আমি খুব অবাক হলাম। আপনার ছবি করা দেখে এটাই ভেবেছিলাম, যে আপনি খুব বেছে কাজ করেন। বলিউডেও ‘খাকি’ কিংবা ‘দিল সে’-তে ছোট চরিত্র হলেও দারুণ ছাপ ফেলেছিলেন। এখন বুঝলাম ভাবনাটা সম্পূর্ণ ভুল।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: সত্যি আপনি ভুল ভাবেন। তবে ‘খাকি’-র কথা উ‍ঠল যখন, একটা গল্প মনে পড়ে গেল। এই ছবি কেমন করে পেলাম ও শেষ পর্যন্ত কীভাবে অভিনয় করলাম, সেটা গল্পের মতোই বটে।

প্রশ্ন- মনে পড়ল যখন, একটু খুলে বলুন।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: ‘খাকি’ ছবিটিতে যে আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন প্রযোজক কেসু রামসে ও পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী, এতে আমি খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম। এই ছবির প্রস্তাব আসার আগে আমি ‘দেশ’ নামে একটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। রাজা সেনের ছবি। জয়া বচ্চনের বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ পাই।

প্রশ্ন- অভিষেক বচ্চনও তো ছিল ছবিটিতে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  হ্যাঁ। তবে ওঁর সঙ্গে তেমন সিন ছিল না। আমার আর জয়াদির, একসঙ্গে অনেক দৃশ্য ছিল। কাজ করতে গিয়ে এ কথা, সে কথা হত, যেমন হয় আর কী। এরকমই কথা হচ্ছে, উনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি হিন্দি ছবি করো না কেন?'

প্রশ্ন- এ তো দারুণ ব্যাপার। তারপর?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: (হেসে) বললাম হিন্দি ছবিতে আমাকে কেউ কাজ দেয় না। কী করে করব? আরও বললাম, করতে চাইলে তো একটু দৌড়োদৌড়ি করতে হবে। লোকজনকে বলতে হবে, আমি হিন্দি ছবি করতে চাই। জয়াদি বললেন, ‘করো না কেন?’ বুঝিয়ে বললাম, এসব করতে গেলে বম্বেতে গিয়ে থাকতে হবে। সেটা না করলে, সমস্যা হবে। আমাকে তো ওখানে ছোটখাটো চরিত্র দেবে। সকলকে নেওয়া হয়ে গেলে আমার কাছে ডেট চাইবে। তখন এখানকার কাজ ফেলে কী করে যাব। এই সব কারণের জন্য হিন্দি ছবি করা হয়ে ওঠে না।

প্রশ্ন- জয়া বচ্চন তখন কী বললেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  মন দিয়ে সব শুনলেন। আরও বললাম, আমার যে সাংঘাতিক একটা ইচ্ছে আছে, যে হিন্দি ছবি করতে হবে। খুব নাম করতে হবে, এমনটা নয়। কয়েকজনের অভিনয় খুব ভাল লাগে। যদি তাঁদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়, দারুণ হবে। জয়াদি জিজ্ঞেস করলেন, কার সঙ্গে কাজ করতে চাও? বললাম, যেমন পরেশ রওয়াল, অমরেশ পুরি, যেমন আপনার কত্তা। আমার বিশ্বাস জয়াদি কথাটা মনে রেখেছিলেন। ‘খাকি’-র সময় তিনি আমার নাম সাজেস্ট করেছিলেন, বলে আমার ধারণা। না হলে কলকাতার একটা অনামী অভিনেতাকে, রাজকুমার সন্তোষী ডেকে কাজ দেবেন কেন? তাও আবার অমিতাভ বচ্চনের ছবিতে।

প্রশ্ন-অনামী আপনি মোটেও নন।

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  আচ্ছা যাই হোক। তবে অমিতাভের পাশে আমি কে? আমার মনে হয় জয়াদির হাত ছিল এতে।

প্রশ্ন- উপভোগ করলাম বিষয়টা।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: গল্প এখনও শেষ হয়নি। ‘খাকি’ ছবিতে ফাইনালি যখন আমাকে নেওয়া হল, আমাকে একটা পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হয়েছিল। যে মিস্টার বচ্চনের পাশে পাশে থাকবে। আমি তো খুব খুশি। কিন্তু সেই চরিত্রটা আমাকে শেষ অবধি দিলেন না। প্রথমদিন শ্যুটিং করতে গিয়ে চরিত্র বদলের কথা জানতে পারলাম। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। ভাবলাম নিশ্চয়ই কোন ছোট রোল দেবে। তখন পরিচালক বললেন, প্রধান খলনায়কের চরিত্রটা আপনাকে করতে হবে।

প্রশ্ন- তারপর?

সব্যসাচী চক্রবর্তী: আমি তো কিছুই জানি না। কোনও প্রস্তুতিই নেই। রাজকুমার অভয় দিয়ে বললেন, আপনি পারবেন। এদিকে আমার মাপের পুলিশের জামা তৈরি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী পরবো। পরিচালক বললেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তো, পায়জামা পঞ্জাবি পরলেই হবে। এক্ষুনি তৈরি হয়ে যাবে। আমার মনের ভেতর যে তখন কী হচ্ছে, আমিই জানি। পরদিন সকাল থেকে মিনিস্টার দেবধরের চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করলাম। আর আমার যে চরিত্রটা করার কথা ছিল, সেটা করলেন প্রকাশ রাজ। ওঁ আমার থেকে অনেক ভাল করেছে চরিত্রটা। তবে দেবধর হিসেবে আমিও মন্দ করিনি।

প্রশ্ন- মন্দ? রীতিমতো শোরগোল ফেলেছিল দেবধর। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই ‘খাকি’-র অজয় দেবগন, ‘লালবাজার’ প্রেজেন্ট করলেন।

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  সিরিজ লঞ্চ করার সময় অজয়কে সে কথা আমি বললামও। অজয় ওই ওয়েবিনারে বলল, ‘আমি এত কপ ড্রামা করেছি। পুলিশ হতে হতে বুড়ো হয়ে গেলাম।’ আমি বললাম, আমিও তাই। পুলিশ আর গোয়েন্দা করছি সারাক্ষণ। তখন ও বলল, 'পুলিশের উল্টোদিকের ভিলেনও হয়েছি।' আমি মনে করিয়ে দিলাম ‘খাকি’-র কথা। একসঙ্গে খারাপ লোক হলাম, সে কথা। খানিক স্মৃতিচারণা হল। আর এটা মানতেই হবে। অজয় প্রমোট করেছে বলেই লালবাজার লোকে বেশি দেখেছেন।

প্রশ্ন- ‘লালবাজার’ নিয়ে তো মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সব্যসাচী চক্রবর্তী: হ্যাঁ সেটা শুনেছি। অনেকে বলছেন হিন্দি ছবির মতো জমেনি। তবে আমার মনে হয় না তেমন খারাপ হয়েছে। পরিচালকের প্রথম দ্বিভাষিক কাজ বলে, সেই জৌলুসটা হয়তো নেই। পরের সিজনের কথা তো চলছে। পরের সিজনটা আরও ভাল হবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন- এই নিয়ে দু’বার ওয়েবে কাজ করলেন। ৮০-র দশকের মাঝামাঝি থেকে কাজ করছেন, ছবি, থিয়েটার, টিভি এখন ওয়েব। সব বদল দেখেছেন আপনি। কেমন লাগে?

 সব্যসাচী চক্রবর্তী:  আমার খুব ভাল লাগে। এত গুনী অভিনেতা আছেন, কলাকুশলী আছেন। কাজের সুযোগ অনেক বেড়ে গিয়েছে, মাধ্যম বাড়ায়।আর ওয়েবে অনেক রকম কাজ হচ্ছে। ক’দিন আগে ‘পঞ্চায়েত’ দেখলাম। এত মুগ্ধ হয়েছি কী বলব। আমার এসব গল্পই ভাল লাগে। প্রেমের গল্প, থ্রিলার, খুন, সেক্স-এসব আমার ভাল লাগে না।

প্রশ্ন- কিন্তু সারাজীবন রহস্যেই কাটালেন।

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  কী করব আর। চোর, ডাকাত, খুনি এই সব নিয়েই কাটিয়ে দিতে হল। গোয়েন্দা আর পুলিশ করে হাঁপিয়ে গেলাম।

প্রশ্ন- আচ্ছা, আপনার চেহারার আদল বেশ অন্য রকম। অভিনেতা কেমন, তা নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা করব না। এই মুহূর্তে এরকম চেহারার অধিকারী হলে প্রচুর ভাল চরিত্র পাওয়া যায়। আপনার মনে হয়, বয়সটা যদি কম হত। আপনি এই সময় অভিনয় শুরু করলে, অনেক ভাল কাজ পেতেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  সে আমি জানি না। কী করে বলি বলুন তো। পেতাম কী পেতাম না, মুশকিল বলা। আমি মধ্যমেধার অভিনেতা। আমাকে কে, কতখানি কাজ দিত, সন্দেহ আছে।

প্রশ্ন- এটা আপনার বিনয়।

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  না আমি সত্যি কথাই বলছি। আমি কি আর উচ্চ মানের অভিনেতা?

প্রশ্ন- আচ্ছা বাকি সব ছেড়ে দিচ্ছি। তাহলে এতগুলো ফেলুদা করলেন কী করে?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  পরিচালকের মনে হয়েছিল আমি ফেলুদার আদব কায়দাটা ভাল করে রপ্ত করতে পারব। আমাকে মানাবে তাই নিয়েছিলেন। লোকের ভাল লেগেছে আমার পরম সৌভাগ্য। জানেন প্রথম যখন আমি ১৩ পার্বন করি, ধরেই নিয়েছিলাম আমাকে কেউ মেনে নেবে না। একটা লিড চরিত্র ওরকম হতে পারে? রোগা লিকলিকে, চুল আঁচরানো নেই। এরকম আবার নায়ক হয় নাকি? আমি কলাকুশলীই হতে চেয়েছিলাম। টেলিকাস্ট হওয়ার পর ব্যাপারটা উল্টে গেল। লোকের কী ভাল যে লাগলো। আমিই অবাক হয়ে গেলাম।

প্রশ্ন- আপনি ফেলুদা মিস করেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:   খুবই মিস করি। এত ভাল চরিত্রায়ন। এত ভাল লেখা। এত ভাল গল্প। মিস করবো না। ফেলুদা হিসেবে কাজ করার সুযোগ আবার মিললে দারুণ লাগবে।

প্রশ্ন- ডাক এলে আবার করবেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  সুযোগ এলে কে না করে? প্রস্তাব এলেই তাড়াতাড়ি পাকা চুল কালো করব। জিমে গিয়ে ভুঁড়ি কমিয়ে ফেলব।

প্রশ্ন- আচ্ছা একটু আগে বললেন কলাকুশলী হতে চেয়েছিলেন। পরিচালনা করবেন?

সব্যসাচী চক্রবর্তী:  না ওটা আমার দ্বারা হবে না। সিনেমেটোগ্রাফি বা সাউন্ডের কাজ করতে পারি। পরিচালকের কাজটা খুব কঠিন। এত ধৈর্য আমার নেই। এটা-ওটা না হলেই আমার চট করে মাথা গরম হয়ে যায়। আর পরিচালক হতে গেলে অনেক ‘এলেম’ লাগে, ওটা নেই আমার।

Arunima Dey

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: July 7, 2020, 10:52 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर