Rituparna Sengupta: ‘নিজেকে নিংড়ে সেরাটুকু উজাড় করে দিয়েছিলাম ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যানে ’

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ছবি-ফেসবুক

প্রয়াত পরিচালককে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ৷ দীর্ঘ পোস্টে উঠে এসেছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের পরিচালনায় তাঁর অভিনয়ের স্মৃতিও ৷

  • Share this:

    কলকাতা :  তখনও তিনি পা রাখেননি কৈশোরে ৷ কাকার সূত্রে পরিচয় হয়েছিল বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ছবির সঙ্গে ৷ তাঁর পরিচালনা-বৈদগ্ধ্য আজীবন ঘিরে রেখেছে তাঁকে ৷ প্রয়াত পরিচালককে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ৷ দীর্ঘ পোস্টে উঠে এসেছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের পরিচালনায় তাঁর অভিনয়ের স্মৃতিও ৷

    ঋতুপর্ণা লিখেছেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ছবি ‘গৃহযুদ্ধ’ দেখেছিলেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো ৷ মমতাশঙ্কর, অঞ্জন দত্ত, গৌতম ঘোষের অভিনয় তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল ৷ তখন জানতেনও না একদিন এই পরিচালকের ছবি ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’-এ তিনিই হবেন নায়িকা ৷ কেরিয়ারে গোড়াতেই এত বড় মাপের ছবিতে অভিনয় তাঁকে অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলেছিল, উপলব্ধি ঋতুপর্ণার ৷ অভিনয়জীবনের শুরুতে ওই জটিল চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরা ছিল যথেষ্ট কঠিন ৷ স্বীকার করেছেন ঋতপর্ণা ৷ কীভাবে নিজেকে নিংড়ে সেরাটুকু উজাড় করে দেবেন ‘রজনী’-র চরিত্রে, ভাবতে ভাবতে বিনিদ্র রাত কাটাতেন নিজেই ৷

    আদ্যন্ত পারফেকশনিস্ট বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের পছন্দের লোকেশন ছিল পুরুলিয়া ৷ সে সময় ছবির পুরো ইউনিটকে রাঢ়বঙ্গের জনহীন প্রান্তরে নিয়ে গিয়ে কাজ করা খুব সহসজসাধ্য ছিল না৷ লিখেছেন ঋতুপর্ণা ৷ কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি ছিলেন অবিচল ৷ ঋতুপর্ণার চোখে এখনও সেই ছবি ভাসে যেখানে তীব্র রোদে তিনি মাথায় টুপি পরে চলে গিয়েছেন স্বাভাবিক আলো পরীক্ষা করতে ৷ শ্যুটিঙে পৌঁছতেন সকলের আগে ৷ ঋতুপর্ণা মনে করেন তাঁর নিজের প্রজন্মে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ছিলেন পথপ্রদর্শক ৷

    আলোর বিষয়ে ছিলেন সাঙ্ঘাতিক খুঁতখুঁতে ৷ কাকভোর এবং গোধূলির সময়কার আলো ছিল তাঁর পছন্দের ৷ ওই আলোতে শট নিতে ভালবাসতেন ৷ এরকমও হয়েছে পছন্দসই আলো পাননি বলে সারাদিন প্যাক আপ করে দিয়েছেন তিনি ৷

    তাঁর কাছে বকুনি খাওয়ার স্মৃতিও আছে ঋতুপর্ণার ঝাঁপিতে ৷ তিনিই তাঁকে নায়িকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন বলে বিশ্বাস ঋতুপর্ণার ৷ ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর ‘উত্তরা’ ছবিতেও ডাক পেয়েছিলেন তিনি ৷ কিন্তু সে সময় অন্য ছবির কাজ থাকায় ‘উত্তরা’-র অফার নিতে পারেননি তিনি ৷ সেই আক্ষেপ আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন ৷ ‘উত্তরা’-তে অভিনয় না করার অনুশোচনা কোনওদিনও যাবে না, লিখেছেন ঋতুপর্ণা ৷

    পরেও তাঁর ছবি দেখে প্রশংসা করেছিলেন প্রয়াত পরিচালক ৷ বলেছিলেন তিনি আবার কাজ করতে চান ঋতুপর্ণাকে নিয়ে ৷ কিন্তু সেই পরিকল্পনা অপূ্র্ণই থেকে যায় ৷ বুদ্ধদেব দাশগপ্তর ছবির মধ্যে ঋতুপর্ণার প্রিয়তম চার হল, ‘তাহাদের কথা’, ‘বাঘ বাহাদুর’, ‘চরাচর’, ‘উত্তরা’ এবং ‘গৃহযুদ্ধ’ ৷

    তাঁর মতো প্রতিভাবান ও দূরদর্শী পরিচালকের প্রয়াণে একটি যুগে অবসান হল বলে মনে করেন ঋতুপর্ণা ৷ পরিচালকের প্রয়াণদিবসকে ভারতীয় চলচ্চিত্র দুনিয়ার ক্ষেত্রে ঘোর তমসাচ্ছন্ন দিন বলে লিখেছেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: