জুলফিকর শুধু ছবি নয়, একটা জার্নি : পাওলি দাম

ছবি: paolidamofficial.com

বহু ফিল্ম সমালোচকরা মনে করেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ক্ষত ছবি থেকে পাওলি-র কামব্যাক৷ কারণ, বেশ কিছু বছর

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: বহু ফিল্ম সমালোচকরা মনে করেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ক্ষত ছবি থেকে পাওলি-র কামব্যাক৷ কারণ, বেশ কিছু বছর ধরে টলিউডের পর্দায় পাওলি প্রায় অনুপস্থিত ছিলেন ৷ কিন্তু কামব্যাক শব্দটাকে হেসেই উড়িয়ে দিলেন পাওলি ৷ টলিউডের বোল্ড, বিন্দাস নায়িকা নামেই পরিচিত পাওলি দাম সোজাসাপটা জানিয়ে দিলেন, ‘কিছুদিন বিরতি নিয়ে ফেরা মানেই কামব্যাক নয় ৷ ভালো ছবির অপেক্ষা !’ আর এই ভালো ছবির অপেক্ষার পর, ‘ক্ষত’, ‘জুলফিকর’, ‘দেবী’ !

    সৃজিতের ছবি ‘জুলফিকর’-এ আপনি ৷ তাও আবার প্রসেনজিতের বিপরীতে, জুলিয়াস সিজারের বউয়ের চরিত্রে ৷ কেমন লাগছে?

    পাওলি: কেমন লাগছে, তা বলাটা বেশ কঠিন ৷ কারণ, সৃজিতের (পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়)-এর ‘জুলফিকর’ ছবিটি তো আর শুধুমাত্র ছবি নয়, একটা জার্নি, একটা অভিজ্ঞতা ৷ আর সেই জার্নির প্রায় কেন্দ্র বিন্দুতে দাঁড়িয়ে নিজের অভিনয় ক্ষমতাকে উজাড় করে দেওয়া ছাড়া আর কোনও ভালোলাগা থাকতে পারে কিনা সন্দেহ ৷ আসলে কী, ‘জুলফিকর’ ছবিটা আমার কাছে অনেকটা উইশ ফুলফিলমেন্টের মতো ৷ আমি সৃজিতের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম ৷ আমার মনে হয়, শুধু আমি কেন? টলিউডের বহু অভিনেতা, অভিনেত্রীরাই সৃজিতের ছবিতে কাজ করতে চায় ৷ কারণ, সৃজিতের ছবি মানেই একেবারে অন্যরকম অ্যাপ্রোচ ৷ আর সেই লোভ অভিনেত্রী হিসেবে আমিও সামলাতে পারিনি ৷

    এককথায় ‘জুলফিকর’ মাল্টিস্টারার ৷ তা এরকম মাল্টিস্টারার ছবিতে অভিনয় করতে কতটা স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন?

    পাওলি: হ্যাঁ, সেই অর্থে এই ছবি একেবারেই মাল্টিস্টারার ৷ একদিকে প্রসেনজিত, দেব, পরমব্রত, কৌশিক সেন, অঙ্কুশ, আমি, নুসরত ৷ কিন্তু ওই যে বললাম, সৃজিতের ছবি মানেই অন্যরকম ৷ তাই মাল্টিস্টারার হয়েও, প্রত্যেকটা অভিনেতাকে নিজের জায়গার ছক কেটে দিয়েছেন সৃজিত ৷ আর অভিনয়ের লড়াইটা একেবারে প্রকাশ্যে ৷ তবে আমার মনে হয়, সৃজিতে এই ‘জুলফিকর’ শেক্সপিয়রের ‘জুলিয়াস সিজার’ ও ‘অ্যান্টনি ক্লিয়োপেট্রার’ একেবারে অন্যরকম টেকঅন ! পর্দায় এর আগে কলকাতাতে অনেক পরিচালকই দেখিয়েছেন, হাওডা় ব্রিজ, ভিক্টোরিয়া, পার্কস্ট্রিট ৷ কিন্তু সৃজিত ‘জুলফিকর’-এ যেভাবে কলকাতা দেখিয়েছে, তা এর আগে সিনেমার পর্দায় দেখা যায়নি ৷ কলকাতার অন্ধকার গলিই ফুটে উঠেছে জুলফিকরে৷

    কিছুদিন আগেই তো আপনার ‘দেবী ’ছবির টিজার লঞ্চ করল? যেখানে আপনি ‘দেবদাস’-এর ফিমেল ভার্সান !

    পাওলি: হ্যাঁ, এই ছবিটা একেবারেই অন্যরকম ৷ এরকমই একটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্র অনেক দিন ধরেই খুঁজছিলাম ৷ ‘দেবী’ ছবিকে অনেকেই নারীবাদী ছবি মনে করবেন ৷ হয়তো ছবিতে আমার চরিত্রকেও নারবাদী মনে হবে ৷ আমি ফেমিনিস্ট নই, আবার ফেমিনিজমের বিরুদ্ধেও নই৷ প্রেমে আঘাত পেয়ে ছেলেরা যেরকম করতে পারে, মেয়েরাও পারে ৷ একই রকম ডিলেমা, মানসিক চাপ মেয়েদেরও হয় ৷ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই ‘দেবদাস’কে এই সময়ে মেয়েদের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করেছে পরিচালক রিক বসু ৷ যেটা ব্রিলিয়ান্ট ! আমি নিজেকে সত্যিই খুব লাকি মনে করি ৷ কারণ, দেবেশ চট্টোপাধ্যায়ের ‘নাটকের মতো’, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘টোপ’, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘ক্ষত’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছি ৷ প্রত্যেকটি চরিত্রই দারুণ চ্যালেঞ্জিং ৷

    আর ‘মহানায়ক’-এর সুচরিতা সেন, সেটা চ্যালেঞ্জ নয় ?

    পাওলি: ঠিক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং বলব দায়িত্ব ৷ কারণ, ‘মহানায়ক’ এমন এক সময়কে তুলে ধরেছে, তা ঠিকঠাকভাবে উপস্থাপন করা বেশ কঠিন ৷

    ‘মহানায়ক’ ধারাবাহিক নিয়ে তো মিশ্র প্রতিক্রিয়া ৷ সমালোচনাও তো হচ্ছে প্রচুর..

    পাওলি: কোনও কাজ করলে, তা নিয়ে ভালো কথা ও মন্দ কথা দুটোই হবে ৷ তবে এক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, ‘মহানায়ক’-এ সুচরিতা সেনের চরিত্রে অভিনয় করে, আমি কিন্তু প্রশংসাই বেশি পেয়েছি ৷ শুধু এখানকার মানুষেরা নয়, বঙ্গ সম্মলনে গিয়ে ওখানেও অনেকেই আমার কাজের প্রশংসা করেছে ৷ আর সবচেয়ে বড় হল সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আমাকে বলেছে, ‘পাওলি ভীষণ ভালো করছ মহানায়কে !’ এই দু’জনের প্রশংসা পাওয়ার পর আমার কাজ নিয়ে কেউ সমালোচনা করলেও, সেটা এমনিই গায়েব হয়ে যায় মাথা থেকে ৷

    First published: