Lopamudra Mitra to Joy Sarkar : ‘তুমি গাও, তুমি গাও, আমি মাছের ঝোল আর ভাত রাঁধলাম গো’

জয় সরকার ও লোপামুদ্রা মিত্র , ছবি-ফেসবুক

সকলের বাহবার মাঝখানে ভেসে উঠল একটি মন্তব্য—‘তুমি গাও, তুমি গাও।আমি মাছের ঝোল আর ভাত রাঁধলাম গো।’ লিখেছেন আর কেউ নন, তাঁর স্ত্রী, লোপামুদ্রা মিত্র ৷

  • Share this:

    কলকাতা : ‘‘ কফির কাপ মনখারাপ/ লাজুক প্রেম কাঁধের তিল/ একটা নাম চিঠির খাম/ ফটোর ফ্রেম হোক সামিল ’’...এটাই শুরু গানের ৷ শুধু গানের কথাই নয় ৷ সঙ্গে গান গেয়েও ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন সুরকার জয় সরকার ৷ অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস ও মন্তব্য আসতে সময় নেয়নি ৷

    সকলের বাহবার মাঝখানে ভেসে উঠল একটি মন্তব্য—‘তুমি গাও, তুমি গাও।আমি মাছের ঝোল আর ভাত রাঁধলাম গো।’ লিখেছেন আর কেউ নন, তাঁর স্ত্রী, লোপামুদ্রা মিত্র ৷ লেখার সঙ্গে ভালবেসে দিয়েছেন একটি প্রেমের ইমোজিও ৷ যার দু’চোখে ফুটে উঠছে ভালবাসার পানপাতা ৷ সামাজিক মাধ্যমে এই তারকা স্বামী স্ত্রী জুটির যুগলবন্দি এখন সুপারহিট ৷ গত দু’দিনে লোপামুদ্রার মন্তব্যে ‘লাইক’ পড়েছে ১৮০০-র বেশি ৷ সঙ্গীতশিল্পীর সুরসিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এসেছে অসংখ্য পাল্টা মন্তব্য ৷

    তা হলে গড়পড়তা দাম্পত্যের কোলাজ তাঁদের মধ্যেও? প্রসঙ্গ তুলতেই ফোনের ওপারে লোপামুদ্রার হাসি৷ ‘‘আরে জয় যখন গানটা পোস্ট করেছে, আমি তখন সত্যি ভাত মাছের ঝোল রান্না করছিলাম ৷ তাই ভাবলাম সেটাই লিখি ওখানে ৷’’ জানালেন শিল্পী ৷ হাসির রেশ তখনও মিলিয়ে যায়নি ৷ বললেন, ‘‘জয় তো যায় নিজের স্টুডিয়োতে ৷ ওখানে গিয়ে গান করে, তার পর পোস্ট করে ৷’’ মন্তব্যে কোথাও কি মিশে আছে চাপা দুঃখ?

    এমনিতেই চারদিকে এখন দুঃখের সময়৷ ওই  মন্তব্যে আলাদা করে কোনও মান অভিমান মিশে নেই ৷ বলছেন লোপামুদ্রা ৷ নিছকই দাম্পত্য-সংলাপ ৷ তবে লোপামুদ্রা সাম্প্রতিক প্রায় লকডাউনে নিয়মিত রান্না করছেন ৷ শখে নয়, প্রয়োজনে৷ জানালেন, তিনি কোনওদিনই রান্না করতে পছন্দ করতেন না৷ এমনকি, আগে রীতিমতো ভয় পেতেন রান্না করার প্রশ্নে ৷ এখন অবশ্য সব শিখে গিয়েছেন ৷ উপভোগ না করলেও ভয় আর পাচ্ছেন না৷ নতুন কাজ শিখে বেশ ভালই লাগছে ৷

    কথায় কথায় শিল্পী ফিরে গেলেন অতীতে ৷ ‘‘ মা বলত একটু আধটু রান্না শিখে রাখ ৷ আমি বলতাম, আমি রান্না করার জন্য জন্মাইনি৷ খাওয়ার জন্য জন্মেছি৷’’ বলতেন লোপামুদ্রা ৷ বিয়ের আগে বা পরে রান্নাঘরের সঙ্গে বর্ণপরিচয় হয়নি, করার ইচ্ছেও ছিল না ৷ কিন্তু সম্প্রতি তাঁর গৃহসহায়িকা অসুস্থ ৷ ফলে তাঁকেই খুন্তি ধরতে হয়েছে৷ সহজ রন্ধনপ্রণালী চেয়ে পোস্টও করেছিলেন ফেসবুকে ৷ তার পর অজস্র রেসিপি পেয়েছেন ৷ এবং সেগুলো থেকে জমিয়ে রান্নাও করে ফেলেছেন ৷

    বিয়ের প্রায় উনিশ কুড়ি বছর পর এই প্রথম মাছ ভাজলেন এতদিনে ৷ ওমলেট ঠিক করে ওল্টাতেও পারতেন না৷ এখন সেই হাতেই জলখাবারে বানিয়ে ফেলছেন উপমা বা চিঁড়ের পোলাও ৷ ভাত ডাল তরকারি মাছ মাংস ডিমও শেখা হয়ে গিয়েছে ৷ শুধু দুর্বলতা রয়ে গিয়েছে রুটি লুচি পরোটায় ৷ ওগুলো এখনও আয়ত্তে আসেনি ৷

    তিনি একা নন৷ ঘরের কাজে সমানে অংশ নেন জয় সরকারও৷ সকাল বিকেল দু’বেলা বাসন মাজার ভার তাঁরই ৷ সে দায়িত্ব সুরকার পালন করেন হাসিমুখেই ৷ ‘‘কিচ্ছু রান্না পারি না বলে আগে লজ্জাই লাগত৷ এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি৷’’ আসলে অপছন্দের কাজগুলোও আমাদের দিয়ে কোনও না কোনও সময়ে জীবন করিয়ে নেয় ৷ তখন নিজেই নিজের মুশকিল আসান না হয়ে উপায় নেই!

    আপাতত জয়ের পোস্টে লোপামুদ্রার রসবোধে হাসির হুল্লোড় নেটিজেনদের মধ্যে ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: