Lopamudra Mitra: সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ইয়াস দুর্গতদের মাঝে শিল্পী

লোপামুদ্রা মিত্র, ছবি-ফেসবুক

নিজেকে ত্রাতা হিসেবে ভাবতে চান না লোপামুদ্রা মিত্র ৷ তাই যে টুকু পৌঁছে দিতে পেরেছেন দুর্গতদের কাছে, তাকে সাহায্য বলতেই ভালবাসেন শিল্পী ৷

  • Share this:

    কলকাতা :  ত্রাণ নয়, সাহায্য ৷ নিজেকে ত্রাতা হিসেবে ভাবতে চান না লোপামুদ্রা মিত্র ৷ তাই যে টুকু পৌঁছে দিতে পেরেছেন দুর্গতদের কাছে, তাকে সাহায্য বলতেই ভালবাসেন শিল্পী ৷ গত বছর আমফানের পরও বিপন্নদের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত ৷ এ বার ‘ইয়াস’-এর পরও তাঁর সেই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়নি ৷  সহযোগীদের নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুট অঞ্চলের চারটি গ্রামে পৌঁছ গিয়েছিলেন তিনি ৷ বিরামপুর, বগুরান জলপাই, রঘুসর্দার বগুরান এবং হরিপুর ৷ ঘূর্ণিঝড়ধ্বস্ত এই চার জনপদের প্রায় ৩০০ পরিবারের হাতে তুলে দিলেন অত্যাবশ্যকীয় কিছু জিনিস ৷ তার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন, বিস্কুট যেমন ছিল, সেরকমই ছিল জিয়োলিন এবং জামাকাপড় ৷

    ‘‘ অতিমারির আগে স্বাভাবিক সময়ে আমরা শিল্পীরা মেদিনীপুরে প্রচুর অনুষ্ঠান করেছি ৷ বছরভর মেদিনীপুরের বিভিন্ন অংশ থেকে অনুষ্ঠানের ডাক আসে৷ তাই ভাবলাম এই বিপদের দিনে ওঁদের পাশে দাঁড়াব না?’’ বললেন লোপামুদ্রা ৷ এই উদ্যোগে তাঁর পাশে আছে চারণ ফাউন্ডেশন এবং অন্য একটি সংগঠন ৷ সাহায্য নিয়ে পরের সপ্তাহে রসুলপুর এবং হরিপুরে আবার যাবেন তাঁরা ৷

    বিপর্যস্ত এলাকায় বানভাসিদের অবস্থা দেখে আঁতকে উঠতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের ৷ এখনও অনেকেরই দিন কাটছে উঁচু রাস্তার উপর, খোলা আকাশের নীচে ৷ মাইলের পর মাইল জুড়ে চাষের জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে অন্তত ৬ থেকে ৮ ফুট জল৷ নোনা জলে চাষের জমির যা অবস্থা, আগামী কয়েক বছর সেখানে কিছু বপন করা যাবে কি না সন্দেহ ৷ কৃষকের পাশাপাশি জুনপুট জুড়ে বাস প্রচুর মৎস্যজীবীর ৷ তাঁদের নৌকো, জাল সব ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে ইয়াস ৷ বিপর্যস্ত ওই এলাকায় একটি হাইস্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতায় সাহায্য বন্টন করতে পেরেছেন তাঁরা ৷

    দুর্গতদের দাতব্য জিনিস সংগ্রহ করা হয়েছিল ‘চড়ুইভাতি’-তে ৷ নিছক গানের স্কুল না বলে ‘চড়ুইভাতিকে’ ওয়ার্ক প্লেস বলতেই পছন্দ করেন লোপামুদ্রা ৷ ইচ্ছুকরা ওই ঠিকানাতেই পৌঁছে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন সাহায্যের জিনিস ৷ নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে দেওয়া যাবে টাকাও ৷ তবে বন্টনের জন্য পুরনো জমাকাপড় আর সংগ্রহ করছেন না লোপামুদ্রা ও তাঁর সহযোগীরা ৷ কারণ হিসেবে জানালেন, এক এক জন এতটাই খারাপ জামাকাপড় দিয়েছেন, সে কথা বলার নয় ৷ এমনকি, ব্যবহৃত মাস্কও পেয়েছেন তাঁরা! তাই জামাকাপড় বাদ দিয়ে বাকি সব কিছুই সংগ্রহ করছেন৷

    সাহায্য নিয়ে ইয়াসবিধ্বস্তদের মাঝে পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি করোনারোগীদেরও জন্যও ভেবেছেন লোপামুদ্রা ৷ ভার্চুয়াল গান-আড্ডায় সময় কাটিয়েছেন নিভৃতবাসে থাকা রোগীদের সঙ্গে ৷ তবে তাঁর কাছে প্রবীণদের তুলনায় অল্পবয়সিরাই বেশি এসেছেন বলে জানান গায়িকা ৷ মোট আট বার আড্ডা দিয়েছেন তিনি ৷ চেষ্টা করেছেন মুশকিল আসান হয়ে নিভৃতবাসীদের মন ভাল রাখার ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: