ফিল্ম রিভিউ: গুপ্তধনের অছিলায়, ছোটবেলা খুঁজে পাওয়া

ফিল্ম রিভিউ: গুপ্তধনের অছিলায়, ছোটবেলা খুঁজে পাওয়া

Film Still

ব্যস্ত জীবন ৷ দুরন্ত গরম ৷ অফিস পলিটিক্স ৷ নিউজ পেপারের হাত ধরে কখনও পঞ্চায়েত ভোট, মেট্রোর আলিঙ্গন, কাশ্মীর অশান্তি নিয়ে যখন বাঙালি জেরবার ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: ব্যস্ত জীবন ৷ দুরন্ত গরম ৷ অফিস পলিটিক্স ৷ নিউজ পেপারের হাত ধরে কখনও পঞ্চায়েত ভোট, মেট্রোর আলিঙ্গন, কাশ্মীর অশান্তি নিয়ে যখন বাঙালি জেরবার ৷ ঠিক তখনই যদি নস্টালজিয়ার তাক থেকে টুক করে নেমে আসে ছোটবেলা ! টুক করে যদি ধুলো ঝেড়ে সামনে এসে দাঁড়ায় টুনটুনির গল্প, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায় কিংবা ফেলুদা ! তাহলে কেমন হয়? উপরের এই সমস্ত কাণ্ড ঘটলে যা হবে, তাই আসলে টলিউডের একেবারে নতুন পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ ৷ যেখানে প্রত্যেকটি দৃশ্যে অদ্ভুত এক ভালোলাগা, অদ্ভুত এক ইনোসেন্স, আর সঙ্গে আপনার ছোটবেলা স্মৃতি ৷ সারি সারি নারকেল গাছ ৷ সামনে টলটল করা পুকুরের জল ৷ ভাঙা-পোড়া মন্দির ৷ মস্ত দালানওয়ালা জমিদার বাড়ি ৷ আর সেই বাড়িতেই আমাদের গোয়েন্দা সোনাদার প্রবেশ ৷ সোনা দা ওরফে আবির চট্টোপাধ্যায় গোয়েন্দা হয়েও গোয়েন্দা নয়, বরং দাদার মতোই প্রোটেকটিভ, নির্ভেজাল বন্ধুত্ব ৷ সঙ্গে ভাইপো কাম বন্ধু আবির ওরফে অর্জুন চক্রবর্তী ৷ মিষ্টি মেয়ে ঝিনুক ওরফে ইশা সাহা ৷ মোটামুটি এই তিনজনই গুপ্তধনের সন্ধানের মূল কাণ্ডারি৷

    আরও পড়ুন 

    ফিল্ম রিভিউ: মূল দৃষ্টি সম্পর্কে, কোণে পরে রইল থ্রিলার

    ধাঁধা, ধাঁধার সমাধান ও শেষমেশ গুপ্তধনের সন্ধান ৷ তার মাঝে খলনায়কের প্রবেশ ৷ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু, কেলেংকারি ৷ এই সবই রয়েছে এই ছবিতে ৷ তবে চিত্রনাট্যের ঠাসা বুনোটে, বার বার যেভাবে পরিচালক ভুলে যাওয়া বা ফেলে আসা ছোটবেলা কিংবা বাঙালিয়ানাকে টেনে নিয়ে এসেছেন ছবিতে তা কিন্তু বাহবা পাওয়ার যোগ্য ৷ গোটা ছবিতে টেকনোলজির বাড়াবাড়ি নেই ৷ ক্যামেরার কেতা নেই ৷ চিত্রনাট্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে ঘুরেছে ক্যামেরা ৷ অভিনেতারাও যেন বেশ যত্নবান, নিজেদের চরিত্র নিয়ে ৷ সহজ কথায় বলতে গেলে এই ছবি একেবারে কমপ্যাক্ট ৷ কোনও অংশেই মনে হবে না, একটু বাড়াবাড়ি হচ্ছে বা শ্লথ ৷

    গুপ্তধনের সন্ধানে দেখে একবারেও মনে হয় না, এ ছবি পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছবি৷ ভীষণ পরিণত তাঁর পরিচালনা ৷ আবির, অর্জুন ও ঝিনুকের অভিনয় একেবারে পারফেক্ট ৷ নজর কেড়েছেন রাজতাভ দত্ত ৷ এই ছবির সংলাপও অনেকটা ধাঁধা ও কবিতার পথ অনুসরণ করেছে, যা কিনা শুনতে ভালো লাগে ৷ শেষমেশ বলতে হয়, ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ ছবিটি মন ভালোর ছবি ৷ যেখানে গোয়েন্দার রহস্যের মধ্যে ঢুকে পড়ে বাঙালির ফেলে আসা সমস্ত অনুভূতি ৷ আর এই উপাদানেই বাজিমাত করেছেন পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

    First published:

    লেটেস্ট খবর