Home /News /entertainment /
Gehraiyaan Review : প্রেমের জটিল সমীকরণ পরতে পরতে! কতটা গভীর দীপিকা-সিদ্ধান্তের 'গেহেরাইয়া'

Gehraiyaan Review : প্রেমের জটিল সমীকরণ পরতে পরতে! কতটা গভীর দীপিকা-সিদ্ধান্তের 'গেহেরাইয়া'

Gehraiyaan Review

Gehraiyaan Review

Gehraiyaan Review : মস্তিষ্ক সাবধান করলেও, অবাধ প্রেমের হাতছানি এড়িয়ে যাওয়া কি সহজ? রেটিং: ৩/৫

  • Share this:

#মুম্বই: 'তু মর্জ হ্যায়,দাওয়া ভি, পর আদত হ্যায় হমে!' 'গেহেরাইয়া' (Gehraiyaan Review) ছবির গানের এই কথা বহু সম্পর্কের জন্য প্রযোজ্য। একদিকে অবাধ প্রেম। অন্যদিকে নিজের বিপদ বুঝেও ক্রমশ সেই দিকেই এগিয়ে যাওয়া। মস্তিষ্ক সাবধান করলেও, অবাধ প্রেমের হাতছানিকে এড়িয়ে যাওয়া কি সহজ? প্রতারণা, লোকে কী বলবে-র মতো বিষয় যেন কালো চাদরে অনায়াসে ঢাকা পড়ে যায়। তখন শুধুই আনন্দে ভেসে যাওয়া। স্রোত যেদিকে যাচ্ছে, সেদিকেই ভেসে চলাই লক্ষ্য।

যোগা প্রশিক্ষক আলিশার (দীপিকা পাডুকোন) শৈশব ঘুরে ফিরে আসে এই ছবিতে। ছোটবেলা থেকেই সে সম্পর্কের ওঠাপড়া দেখেছে। সম্পর্ক বিষাক্ত হয়ে উঠলে পরিণতি কী হতে পারে, সেই ভাবনা আজও তাড়া করে বেড়ায় তাকে। আর তার ফলাফল অ্যাংজাইটি অ্যাটাক। আলিশা স্বপ্ন দেখে নিজের যোগা স্টুডিওকে বড় করার। কিন্তু রূঢ় বাস্তব আর প্রতিদিনের জীবন যুদ্ধে সেই স্বপ্ন সত্যি করার দিকে যে মনোযোগ দরকার তাতেও ঘাটতি হয়। কারণ সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়েছে তারই কাঁধে। ৬ বছর ধরে আলিশা সম্পর্কে রয়েছে করণের (ধারিয়া কারওয়া) সঙ্গে। করণ একজন উঠতি লেখক। বিজ্ঞাপন সংস্থার চাকরি ছেড়ে নিজের উপন্যাস প্রকাশ করার চেষ্টা করছে। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলেও বাড়ির বিল মেটাতে হয় আলিশাকেই। আলিশার মুখেই শোনা যায়, করণের মধ্যে এখনও একটি শিশু রয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই শিশু মন আলিশার মনের গভীরতায় ডুব দিতে পারে না।

এমন থোড় বড়ি খাড়ার মধ্যেই হঠাৎ ফোন আসে টিয়ার (অনন্যা পাণ্ডে)। আলিশার খুড়তুতো বোন। বিদেশে পড়তে গিয়ে টিয়া ও করণের শৈশব কেটেছে একসঙ্গে। প্রেমিক জেইনের (সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী) সঙ্গে বাগদান সেরেছে টিয়া। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এর প্রস্তুতি চলছে। তার আগে আলিশা ও করণের সঙ্গে জেইনের দেখা করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা টিয়ার। জেইন রিয়েল এস্টেটে কর্মরত একজন ধনী, সুদর্শন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী পুরুষ। চার জনের দেখা হয় টিয়া ও জেইনের বিলাসবহুল ইয়াচে। শৈশবের স্মৃতিচারণে মেতে ওঠে করণ ও টিয়া। কিন্তু তাল মেলাতে পারে না আলিশা। সে বরাবরই অন্তর্মুখী, স্বল্পভাষী। সমুদ্রের মতোই তার বয়ে চলা আছে। কিন্তু মনের মধ্যে রয়েছে গভীরতাও। সেই গভীরতায় ডুব দিতে আসে জেইন।

আলিশার সাদাকালো রংবিহীন জীবন হঠাৎই অন্য মানে খুঁজে পায়। সারাক্ষণ কপালে ভাঁজ থাকত যে আলিশার, মোবাইলে জেইনের মেসেজ নোটিফিকেশন দেখে তারও ঠোঁটের কোণ অজান্তেই হেসে ওঠে। জেইনের হঠাৎ স্পর্শ যেন মুহূর্তে আলিশাকে মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যায়। উথাল পাথাল মন নিয়ে আলিশা জেইনের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না। করণ আলিশার অভ্যেস। আর জেইন বহু বছরের মেঘলা দিনের পরে রোদ ঝলমলে দিনের মতো এলো আলিশার জীবনে। একদিকে অবাধ যৌনতা। আর অন্যদিকে আলিশার মনের সবকটি স্তর স্পর্শ করে গেল জেইন।

আবেগে ভেসে থাকা আলিশার চোখের সামনে শুধুই জেইনের প্রতি প্রেমের পর্দা। মাঝে মধ্যে বোন টিয়া জানতে পারলে কী পরিণতি হবে এই ভাবনা এলেও, সামলে নেয় জেইন। আলিশা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে জেইনের সঙ্গে বাকি জীবনটা কাটানোর। কিন্তু টিয়ার সঙ্গে শুধুই প্রেমের সম্পর্ক নয় জেইনের। তাদের দুজনের সম্পর্কের মধ্যে আছে জেইনের বহু বছরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আরও ধনী হতে চাওয়ার বাসনা।  আবেগে ভেসে যাওয়া সম্পর্ক কোথায় গিয়ে থামবে তা ছবির দ্বিতীয়ার্ধেই রয়েছে। ছবির দ্বিতীয়ার্ধে রয়েছে বেশ কিছু টুইস্ট। তবে ছবির দ্বিতীয় অংশ কতটা গভীর হতে পারল, তা প্রশ্ন চিহ্নের মুখেই থেকে গেল।

ছবির নাম গেহেরাইয়া (Gehraiyaan Review)। আর তাই এই ছবি জুড়ে রয়েছে নীল সমুদ্রের ক্যানভাস। সেই ক্যানভাসে মানুষের জটিল মন ও সম্পর্কের ছবি এঁকেছেন পরিচালক শকুন বাত্রা। আলিশা ও জেইনের প্রেমের মুহূর্তগুলো কবিতার মতো এগিয়েছে। অভিনয়ের দিক থেকে এই ছবিতে প্রতিবারের মতোই মুগ্ধ করেছেন দীপিকা পাডুকোন (Deepika Padukone)। এই চরিত্রটি তাঁর থেকে ভালো হয়তো কেউ ফুটিয়ে তুলতে পারত না। সিদ্ধান্ত চতুর্বেদিকে (Siddhant Chaturvedi)'গল্লি বয়' ছবিতেই দেখেই ভালো লেগেছিল দর্শকদের। আর এই ছবিতে একেবারে অন্য ভাবে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি। টিয়া চরিত্রের জন্যও অনন্যা পাণ্ডে (Ananya Panday) একেবারে যথাযথ। করণের চরিত্রেও ভালো অভিনয় করেছেন ধারিয়া কারওয়া। এছাড়া নিজেদের চরিত্রের সঙ্গে সুবিচার করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ ও রজত কাপুর।

আরও পড়ুন- দীপিকার বহূল চর্চিত ছবি 'গেহরাইয়া'-র স্ক্রিনিংয়ে চাঁদের হাট, দেখুন অ্যালবাম

ছবিতে সমুদ্রের তুলনা টানা হয়েছে বার বার। কিন্তু সমুদ্রের কি শুধুই গভীরতা আছে? তার চপলতা নেই? ছবিতে এই প্রজন্মের চার চরিত্রকে দেখানো হল। কিন্তু শুধুই জটিল মন, গুরু গম্ভীর ভাবনা তুলে ধরা হল। করণ চরিত্রটিকে মাঝে মধ্য়ে রসিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সংলাপে আরও একটু জোর দিলে ভালো হতো। ছবির গান ও আবহ সঙ্গীত যথাযথ। কিন্তু ছবির দ্বিতীয়ার্ধ অনেক প্রশ্ন রেখে গেল। তার মধ্যে একটি হল, সত্যিই কি শকুন বাত্রার সমুদ্রে, থুড়ি গেহেরাইয়া-তে (Gehraiyaan Review) গভীরতা রইল শেষ পর্যন্ত?

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Ananya Panday, Deepika padukone, Film Review, Gehraiyaan

পরবর্তী খবর