অসুস্থ হয়েও মেকআপ ভ্যানে উপভোগ ‘অপছন্দের তাসখেলা’, ইরফানের ভিডিয়ো শেয়ার করে আবেগী সুতপা

ইরফান ও সুতপা, ছবি-ফেসবুক

ইরফান (Irrfan Khan) তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন ৷ ইরফান তাঁর কাছে আছেন ৷ দুই-ই সত্যি সুতপার (Sutapa Sikdar) কাছে ৷

  • Share this:

    মুম্বই : ইরফান (Irrfan Khan) তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন ৷ ইরফান তাঁর কাছে আছেন ৷ দুই-ই সত্যি সুতপার (Sutapa Sikdar) কাছে ৷ তিনি শুধু জীবনসঙ্গী নন ৷ ছিলেন সুতপার জীবনসংগ্রামের দোসর ৷ সহযোদ্ধাকে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি ৷ কিন্তু দু’জনে একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের, বহু যুদ্ধের সুখস্মৃতি সুতপার কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবেন না ৷

    সেই ঝাঁপি খুঁজে সুতপা শেয়ার করেছেন একটি সুখস্মৃতি ৷ শেয়ার করেছেন বছর তিনেক আগের একটি পুরনো ভিডিয়ো ৷ সে সময় তাঁরা গিয়েছিলেন লন্ডনে৷ ইরফানের  ছবি ‘অংরেজি মিডিয়াম’-এর শ্যুটিং উপলক্ষে ৷ সে দিন শরীরটা বিশেষ ভাল ছিল না ইরফানের ৷ তবু তাঁকে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না ৷ দিব্যি খোশমেজাজে ছিলেন মেকআপ ভ্যানে ৷ তারিয়ে তারিয়ে কিছু একটা খাচ্ছিলেনও ৷

    বাকিরা সময় কাটাচ্ছিলেন তাস খেলে ৷ সুতপা লিখেছেন, ‘‘ইরফান তাসখেলা ঘৃণা করতেন ৷ কিন্তু নিরবচ্ছিন্নভাবে বইপড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমাদের তাসখেলা দেখে গেল ৷’’ মেক আপ ভ্যানের এই খণ্ড অবসরের ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে চলেছিল ‘উড়ে জব জব জুলফেঁ তেরি’৷ দিলীপকুমার-বৈজয়ন্তীমালা অভিনীত ‘নয়া দৌড়’ ছবিতে মহম্মদ রফি-আশা ভোঁসলের ডুয়েট যে ইরফান  উপভোগ করছিলেন, বলে দিচ্ছিল তাঁর শরীরী ভঙ্গিমাই ৷ ভিডিয়োর মাঝেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘কী মিষ্টি গান না ইরফান!’ উত্তরে কিছু না বলে হাসিমুখে সম্মতি জানান তিনি ৷

    ‘অংরেজি মিডিয়াম’ মুক্তি পেয়েছিল গত বছর ১৩ মার্চ ৷ আর মারণরোগে ইরফান চলে গিয়েছিলেন ৩০ এপ্রিল ৷ তাঁর সঙ্গে সুতপার পরিচয় আটের দশকের শেষে, দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় ৷ ক্রমে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সহপাঠী থেকে তাঁরা হয়ে ওঠেন একে অন্যের ভরসার পরিপূরক ৷

    সুতপার জন্য ধর্মান্তরিত হতেও আপত্তি ছিল না ৷ কিন্তু তার প্রয়োজন পড়েনি ৷ দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে ৷ নিজেকে অভিনেতা ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেন না ‘দ্য লাঞ্চবক্স’-এর প্রধান মুখ ৷ শেষ দিকে নামের পাশ থেকে বাদ দিয়েছিলেন ‘খান’, লিখতেন শুধুই ‘ইরফান’৷

    জীবনে সাফল্যের কৃতিত্ব দিতেন স্ত্রী সুতপাকে ৷ শুধু স্ত্রী নন ৷ সুতপা ছিলেন তাঁর শ্রেষ্ঠ বন্ধুও ৷ কেরিয়ারের শুরু থেকে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা ৷ প্রথম থেকেই সুতপা চেয়েছিলেন সংলাপ লিখবেন, প্রযোজনা করবেন ৷ ইরফানের ইচ্ছে ছিল অভিনয়ই ৷ ইরফানের  ‘করীব করীব সিঙ্গল’ ও ‘মাদারি’ ছবির প্রযোজক ছিলেন সুতপা ৷ এছাড়া অন্য ছবির সংলাপও লিখেছেন এই বাঙালিনী ৷

    অসুস্থ ইরফান বলতেন, সুতপার মতো শুশ্রূষাকারী বিরল ৷ আর এক বার সুযোগ পেলে স্ত্রীর জন্যই বাঁচতে চান ৷

    সুতপা বিশ্বাস করেন, তাঁর যাপনে ইরফান নিত্য বহমান ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: