Dance Festival: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে টিকিট কেটে নাচ ক'জন দেখেন? শহরের বুকে 'কলাবতী ডান্স ফেস্টিভ্যাল' বদলে দিল সেই ধারণাই!
- Reported by:Tias Banerjee
Last Updated:
Kalavati Dance Festival 2026: প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং নবীনদের শক্তির সংমিশ্রণেই শিল্পচর্চা পূর্ণতা পায়। জ্ঞানমঞ্চে মণিপুরি নর্তনালয় কলকাতার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল কলাবতী ডান্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবিকাশ মুখোপাধ্যায়, পরমিতা মৈত্র, কঙ্কনা সিং ও পর্ণা চক্রবর্তী ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করে কোন বার্তা দিলেন?
শীতবিদায়ের মুখে শহরের বুকে এক নক্ষত্রখচিত সন্ধ্যা। উদ্গ্রীব দর্শক। শৈলী, ছন্দ ও রসের বিন্যাসে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জ্ঞানমঞ্চে অনুষ্ঠিত হল ‘কলাবতী ডান্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। পরিবেশনাগুলি একে অপরের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হয়ে সন্ধ্যাকে পরিণত করে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের এক জীবন্ত ক্যানভাসে। আয়োজনে মণিপুরি নর্তনালয় কলকাতা। ভারতের চারটি প্রধান শাস্ত্রীয় নৃত্যধারার বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে সন্ধ্যাটি হয়ে উঠল বহুরূপী সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল আয়োজন।
মণিপুরি নর্তনালয়ের প্রশিক্ষক বিম্ববতী দেবী শহরে তথা দেশের জনপ্রিয় শিল্পী। তাঁর বাবা গুরু বিপিন সিং এবং মা কলাবতী দেবীর নৃত্যধারার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সুপরিচিত। নৃত্য ও সংগীত—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নিজের দক্ষতার জন্য স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। মঞ্চে তিনি মণিপুরী মার্শাল আর্ট ‘থাং-টা’ (মণিপুরী যুদ্ধকলা) পরিবেশন এবং তার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমেও বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর শিল্পচর্চায় শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য, শারীরিক নিয়ন্ত্রণ ও নান্দনিক শুদ্ধতার সমন্বয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বিম্ববতী জানান, মাকে শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁর নামে ‘কলাবতী নৃত্য উৎসব’-এর সূচনা করেন।
advertisement

advertisement
advertisement
মণিপুরি নর্তনালয় কলকাতা দীর্ঘদিন ধরে শাস্ত্রীয় মণিপুরি নৃত্যের সংরক্ষণ, সাধনা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কঠোর প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং সুনির্বাচিত পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহ্য ও আধুনিক দর্শকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ ‘কলাবতী ডান্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’।
উৎসবে অংশ নেন চারটি প্রধান শাস্ত্রীয় নৃত্যরূপের শিল্পীরা। রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল পরিবেশন করেন ভরতনাট্যম, যার ভাস্কর্যসম বিন্যাস ও আবেগঘন উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সুবিকাশ মুখোপাধ্যায়ের ওডিশি নৃত্য ধ্যানমগ্ন সৌন্দর্য ও সংযত অভিব্যক্তিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করে সন্ধ্যায়। পরমিতা মৈত্র ও তাঁর দল কথকের ছন্দময় জটিলতা ও গতিময় অভিব্যক্তি দিয়ে মঞ্চ আলোকিত করেন। অন্যদিকে, কঙ্কনা সিং ও পর্ণা চক্রবর্তী মণিপুরি নৃত্যের ভক্তিময় স্নিগ্ধতা ও কাব্যিক সূক্ষ্মতা তুলে ধরেন।
advertisement

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল পরিবেশন করেন ভরতনাট্যম
বিম্ববতী জানান, ২০২২ সালের পর আবার এই উৎসবের আয়োজন করা গেল ২০২৬ সালে। প্রাচীন সাধনা ও সমকালীন প্রকাশভঙ্গির মেলবন্ধনই ছিল মূল আকর্ষণ। শুরুতেই, ওডিশি নৃত্যের পরিমিত লাস্য ও ধ্যানমগ্ন সৌন্দর্যে মঞ্চ আলোকিত করেন শ্রী সুবিকাশ মুখোপাধ্যায়। প্রথম পরিবেশনা ছিল ‘সারদা বন্দনা’। দেবী সরস্বতীর আর এক নাম সারদা—যিনি বিদ্যা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ব্রহ্মজ্যোতির প্রতীক হিসেবে তাঁকে কল্পনা করা হয় চিরন্তন আলোর রূপে। এই নৃত্যাংশটি নির্মিত হয় রাগ ‘বজ্রকান্তি’ ও একতালির তালে। সঙ্গীত সংযোজন ও কণ্ঠ সহযোগিতায় ছিলেন শ্রী হিমাংশু শেখর স্বাইন। নৃত্যভাবনা ও কোরিওগ্রাফি নির্মাণ করেন শ্রী সুবিকাশ মুখোপাধ্যায় নিজেই। ভক্তিমূলক আবহে সূক্ষ্ম অঙ্গভঙ্গি ও লয়ের মাধুর্যে দেবীস্তব ধরা দেয় নৃত্যভাষায়।
advertisement

নৃত্যভাবনা ও কোরিওগ্রাফি নির্মাণ করেন শ্রী সুবিকাশ মুখোপাধ্যায় নিজেই।
দ্বিতীয় পরিবেশনা ছিল ‘সাভিনয় পল্লব’। ওডিশি নৃত্যরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সাভিনয় পল্লব, যেখানে শুদ্ধ নৃত্য ও অভিনয়ধর্মী অংশ সমান্তরাল ভাবে এগোয়। এই উপস্থাপনায় পল্লবির শুদ্ধ নৃত্যভাগ এবং অভিব্যক্তিমূলক অংশ একই রাগে গঠিত হয়ে সমান্তরাল সঞ্চালনে রূপ পায়। ব্যবহৃত ওড়িয়া গীতিটি রচনা করেছেন বিশিষ্ট কবি শ্রী দীনবন্ধু রাজ। পরিবেশনাটি রাগ ‘বেহাগ’ ও ‘জ্যোতি’ তালে বিন্যস্ত। সঙ্গীত সংযোজন ও কণ্ঠ সহযোগিতায় ছিলেন শ্রী হিমাংশু শেখর স্বাইন। নৃত্যভাবনা ও কোরিওগ্রাফি শ্রী সুবিকাশ মুখোপাধ্যায়ের।
advertisement

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরারোপিত ‘স্থাপনা’ মা ও ছেলের কথোপকথনের মাধ্যমে রামায়ণের ভরত চরিত্রকে নতুন দৃষ্টিতে তুলে ধরে। এখানে ভরত কেবল পৌরাণিক নন, তিনি এক প্রশ্নমুখর মানবিক সত্তা—যিনি ভালবাসা, আনুগত্য ও ন্যায়বোধের দ্বন্দ্বে অবস্থান করেন।
advertisement
রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরারোপিত ভারতনাট্যম প্রযোজনা ‘স্থাপনা’ মা ও ছেলের কথোপকথনের ভেতর দিয়ে রামায়ণের ভরত চরিত্রকে নতুন ব্যাখ্যায় তুলে ধরে। এখানে ভরত কেবল পৌরাণিক চরিত্র নন, তিনি এক প্রশ্নমুখর মানবিক সত্তা—ভালবাসা, আনুগত্য ও ন্যায়বোধের টানাপোড়েনে যিনি দ্বিধাবিভক্ত।

‘স্থাপনা’-য় রামকে কেবল ঐতিহাসিক বা ঐশ্বরিক প্রতিমূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। এখানে রাম এক অনুভূতি—ভরতের অন্তর্গত নৈতিক দিশারি। এই ব্যাখ্যায় ভরত ও রাম আলাদা নন; ভরতের বিবেক, সংযম ও যন্ত্রণার মধ্যেই রামের উপস্থিতি প্রতিফলিত হয়।
দেবশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে সংগীত-আখ্যানটি পেয়েছে আবেগের গভীরতা। মৃদঙ্গমে কে. দক্ষিণামূর্তি, তালে কালিস্বরন পিল্লাই, বাঁশিতে রূপক মুখোপাধ্যায় এবং সেতারে মন্ডুলা জয় পরিবেশনাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
এই উপস্থাপনায় রাম কেবল ঐশ্বরিক প্রতিমূর্তি নন, তিনি ভরতের অন্তর্গত নৈতিক দিশারি। ‘স্থাপনা’ তাই একাধারে ভারতনাট্যম প্রযোজনা ও দার্শনিক সংলাপ—যেখানে ধর্ম, সত্য ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন দর্শকের সামনে নতুন করে উত্থাপিত হয়।

ঋগ্বেদের সৃষ্টিতত্ত্বের স্তোত্র ‘নাসদিয়া সূক্ত’-কে কেন্দ্র করে নির্মিত নৃত্যনির্ভর উপস্থাপনা ‘নাসদিয়া – দ্য মিয়্যান্ডারিং এনার্জি’।
এর পর দর্শককে মুগ্ধ করে ‘নাসদিয়া’। কঙ্কনা সিং ও পর্ণা চক্রবর্তীর পরিবেশনায় এক অনন্ত শক্তির অভিযাত্রা। ঋগ্বেদের সৃষ্টিতত্ত্বের স্তোত্র ‘নাসদিয়া সূক্ত’-কে কেন্দ্র করে নির্মিত নৃত্যনির্ভর উপস্থাপনা ‘নাসদিয়া – দ্য মিয়্যান্ডারিং এনার্জি’। কঙ্কনা সিং ও পর্ণা চক্রবর্তীর কল্পনায় এই প্রযোজনা তুলে ধরে সৃষ্টির আদিম প্রশ্ন—যখন কিছুই ছিল না, তখন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভব কীভাবে?
ঋগ্বেদের নাসদিয়া সূক্তে বর্ণিত হয়েছে সেই শূন্যতার কথা, যখন না ছিল অস্তিত্ব, না অনস্তিত্ব; না ছিল আকাশ, না ছিল প্রাণ কিংবা মৃত্যু। সেই নিস্তব্ধ, শূন্য মহাকাশে কে সৃষ্টি করলেন এই বিশ্ব? স্তোত্রে ইঙ্গিত করা হয় এক পরম সত্তার দিকে, যিনি নিজের অন্তর্নিহিত তাপশক্তি থেকে জন্ম নিলেন। সেই শক্তিই ‘শক্তি’—অসীম, অপ্রতিরোধ্য, কিন্তু ধারণযোগ্য। আর তাঁকে ধারণ করতে সক্ষম পরম পুরুষত্বের প্রতীক ‘শিব’—শক্তির চিরন্তন পুরুষ আদর্শ সঙ্গী।

সমগ্র প্রযোজনার ভাবনা ও কনসেপ্ট নির্মাণ করেছেন কঙ্কনা সিং এবং নীলাম্বর চক্রবর্তী। নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন কঙ্কনা সিং। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সুদীপ্ত চক্রবর্তী। সংগঠন ও কোরিওগ্রাফি যৌথভাবে নির্মাণ করেছেন পর্ণা চক্রবর্তী ও কঙ্কনা সিং। মঞ্চসজ্জার পরিকল্পনা করেছেন হেমন্ত বিশ্বকর্মা ও মীরা সিং। আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন গোপাল দা, সহযোগিতায় মনামী নন্দী।
শিব ও শক্তির ঐশ্বরিক মিলনে জাগ্রত হয় আর এক সুপ্ত মহাজাগতিক শক্তি—কুণ্ডলিনী। কুণ্ডলিনীকে সাধারণত কুণ্ডলী পাকানো সাপরূপে কল্পনা করা হয়। এই শক্তি মানবদেহের সাতটি চক্র বা শক্তিকেন্দ্র অতিক্রম করে সর্বোচ্চ চেতনার স্তর, অর্থাৎ শিবত্বে পৌঁছয়। সহস্রার চক্রে পৌঁছে ঘটে পবিত্র মিলন—আনন্দ, আত্মপ্রকাশ ও আত্মজ্ঞান। এক পূর্ণতার উপলব্ধি, যেখানে যাত্রা পৌঁছয় তার গন্তব্যে।
তবে সাধারণ মানুষের জীবনে এই পূর্ণতার পথ সহজ নয়। সংসারের নিত্যচক্রে আবদ্ধ থেকে আমরা বারবার ব্যর্থ হই, আবার উঠে দাঁড়াই। এই দর্শনকে উপস্থাপনায় রূপক আকারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘পাখাংবা’র প্রতীকে। মৈতেই মণিপুরি সমাজের এক আদিম দেবতা পাখাংবা, যিনি ভূমির রক্ষক। তাঁকে চিত্রিত করা হয় এমন এক সাপরূপে, যে নিজের লেজ নিজেই গ্রাস করছে। এই চিত্র জীবনের চক্র—জন্ম, মৃত্যু ও পুনর্জন্মের প্রতীক। তাঁর শরীরের পাকানো ভঙ্গি জীবনের অনিশ্চিত, বাঁকানো পথের ইঙ্গিত বহন করে।

বিম্ববতি দেবী।
নৃত্যগুরু বিম্ববতী জানান, এই আয়োজনের লক্ষ্য কেবল মঞ্চে পরিবেশনা নয়, বরং মণিপুরি নৃত্যের ইতিহাস, তার ভাষা, চলন এবং অন্তর্নিহিত আত্মাকে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা। তাঁর কথায়, মণিপুরি নৃত্যের নিজস্ব ব্যাকরণ ও নান্দনিকতা রয়েছে, যা অন্য কোনও শাস্ত্রীয় ধারার সঙ্গে মেলানো যায় না। সেই স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখেই তাঁরা মঞ্চোপযোগী উপস্থাপনার চেষ্টা করেন। যদিও, মানুষের কাছে সে ভাবে পৌঁছানো যাচ্ছে কি?
শহরে গানমেলা হয়। ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হয়, কিন্তু ডান্স ফেস্টিভ্যাল বা নৃত্য উৎসব নিয়ে আগ্রহ কতটুকু? প্রশ্ন করতে বিম্ববতীর কন্ঠে ঝরে পড়ে আক্ষেপ। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে কি, সরকারি সাহায্য মেলে না সে ভাবে। বড় করে উৎসব করতে গেলে প্রচার লাগে, আর্থিক তহবিল লাগে। নাচের ক্ষেত্রে সেই উদ্যোগ বিরল। এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ বিনামূল্যে সবটুকু দেখে নিতে পারছে বলেই মঞ্চে অনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় নাচ দেখার আগ্রহ কম। টিকিট কেটে নাচ ক’জন দেখে?”
যদিও সচেতন ভাবেই কলাবতী ডান্স ফেস্টিভ্যালে কোনও টিকিট রাখেননি বিম্ববতী। তবে, ভবিষ্যতে বাংলায় টিকিট কেটেই যাতে মানুষ সানন্দে নৃত্য উৎসবে অংশ নেন, সেই স্বপ্ন শিল্পীদের মধ্যেও সঞ্চারিত করতে চান। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমে নৃত্যের নানা রূপ সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তবে সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই চলনের অপব্যবহার দেখা যায় এবং শাস্ত্রীয় শুদ্ধতা বজায় থাকে না। তাঁর মতে, শাস্ত্রীয় নৃত্য শুধুই বিনোদন নয়, এটি এক ধরনের সাধনা। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ অনুশীলন, গুরু-শিষ্য পরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধা এবং শাস্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা।”

শিব ও শক্তির ঐশ্বরিক মিলনে জাগ্রত হয় আর এক সুপ্ত মহাজাগতিক শক্তি—কুণ্ডলিনী।
উৎসবগুলিতে প্রবীণ ও নবীন—দুই প্রজন্মের শিল্পীদের একসঙ্গে মঞ্চে আনার চেষ্টা থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং নবীনদের শক্তির সংমিশ্রণেই শিল্পচর্চা পূর্ণতা পায়। দর্শকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য যে মণিপুরি নৃত্য কেবল অতীতের ঐতিহ্য নয়, বর্তমান সময়েও তার দৃঢ় অবস্থান রয়েছে।
তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের উৎসব আয়োজন সহজ কাজ নয়। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকে, প্রচারের সমস্যাও থাকে। তবু ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়াস তাঁরা ছাড়েন না। তাঁর মতে, শাস্ত্রীয় নৃত্যের ভবিষ্যৎ এই ধারাবাহিকতার উপরই নির্ভর করে। যেমন কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মতো বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন মানুষের কাছে পরিচিত, তেমনই শাস্ত্রীয় নৃত্যের উৎসবগুলিও ধীরে ধীরে বৃহত্তর দর্শকমহলে পরিচিত হয়ে উঠুক—এই আশাই ব্যক্ত করেন তিনি।
বিনোদন জগতের লেটেস্ট সব খবর ( Entertainment News in Bengali ) পান নিউজ 18 বাংলায় ৷ বলিউড, টলিউড থেকে হলিউড সব খবরই পাবেন এখানে ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইন ন নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Feb 12, 2026 10:05 PM IST









