নিখরচায় নিরন্নদের খাবার, কোভিডে প্রিয়জনকে হারানোর শোক লুকিয়ে মানুষের পাশে ভাস্বর

ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, ছবি-ফেসবুক

ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় এখন পুরোদস্তুর সমাজকর্মী ৷ নিজের কাজের কথা জানাচ্ছেনও সামাজিক মাধ্যমের পাতায় ৷

  • Share this:

    অতিমারি পরিস্থিতিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় ৷ তিনি এখন পুরোদস্তুর সমাজকর্মী ৷ নিজের কাজের কথা জানাচ্ছেনও সামাজিক মাধ্যমের পাতায় ৷

    মায়ের নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শুরু করেছেন অভিনেতা ৷ সংস্থার নাম ‘অপর্ণা ফাউন্ডেশন৷’ সংস্থার উদ্যোগে দরিদ্রদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ৷ ফেসবুকে ভাস্বর জানিয়েছেন, শুক্রবার তাঁর সংস্থা নিউ আলিপুরে ৮০ জনের মুখে খাবার তুলে দিয়েছে ৷ পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি দাঁড়িয়ে থেকে সামলেছেন ৷ দেখেছেন যাতে সব কাজই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে হয় ৷ মাস্ক-সহ অন্যান্য কোভিডবিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয়, খেয়াল রাখা হয়েছে সেদিকেও ৷ কলকাতার বিভিন্ন অংশে বহু জনের কাছে নিখরচায় দুপুর ও রাতের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ভাস্বরের তৈরি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ৷

    কলকাতার পাশাপাশি কাশ্মীরবাসীদেরও সমব্যথী ভাস্বর ৷ এ বিষয়ে তাঁকে সাহায্য করেছেন কাশ্মীরি বন্ধু সৈয়ম মুস্তাফা ৷ সমাজসেবী মুস্তাফা একজন ক্রিকেটারও ৷ তাঁর সাহায্যে দরিদ্র কাশ্মীরিদের কাছেও ভাস্বর পৌঁছে দিয়েছেন সাহায্যের হাত ৷

    কাজের কথা জানাতে ফেসবুক লাইভও করেন ভাস্বর ৷ তাঁর কথায়, ‘‘সবাই মানুষ ৷ সকলেরই খিদে পায়৷ তাই পরিষেবা সকলের কাছেই পৌঁছে দিতে চাই৷’’ তিনি ধর্ম দেখে সমাজসেবা করেন না ৷ তাঁর এই উদ্যোগে নেই কোনও রাজনীতির রংও৷ নিজেদের নাম দিয়েছেন ‘কালারলেস ভলান্টিয়ার্স’, জানিয়েছেন ভাস্বর ৷ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ভাস্বর সকলের কাছে সাহায্যের জন্যে আবেদনও করেছেন ৷ এই বিশেষ উদ্যোগে তিনি চার বছর পর ফেসবুক লাইভ করলেন বলে জানান ভাস্বর ৷ তবে এই সাহায্যের আবেদন শুধু কলকাতাবাসীর জন্য নয়৷ ভাস্বর চান, কল্লোলিনী থেকে সাহায্য পৌঁছে যাক সুদূর উপত্যকাতেও ৷ সেখানেও একটু আলোর অপেক্ষায় দিন গুনছেন অনেক অসহায়৷

    অভিনেতা পরিচয়কে একপাশে রেখে ভাস্বর সমাজসেবায় ব্রতী হয়েছেন গত কয়েক বছর ৷ জানান, তিনি কাজ করেছেন আমফানের সময়েও৷ আপাতত কলকাতার মধ্যে তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পরিষেবা সীমাবদ্ধ আছে শুধু দক্ষিণেই ৷ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত অংশ ছড়িয়ে পড়তে চান তিনি ৷ নিরন্নদের জন্য ভাতের হাঁড়ি নিয়ে ৷ কোভিডে প্রিয়জনকে হারানোর শোক মনে লুকিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: