• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • বেলা বোস আজও জীবিত, কোথায় কেমন আছেন অঞ্জন দত্তের 'সেই নারী'

বেলা বোস আজও জীবিত, কোথায় কেমন আছেন অঞ্জন দত্তের 'সেই নারী'

বেলা বোস আভিজাত্য মোড়া এক অশরীরী নাম? নাকি, সত্যিই তিনি ছিলেন? সত্যই কি তিনি ভাবুক, চাকুরীহীন প্রেমিককে ছেড়ে, মা-বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করে ভরপুর সুখের দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন?

বেলা বোস আভিজাত্য মোড়া এক অশরীরী নাম? নাকি, সত্যিই তিনি ছিলেন? সত্যই কি তিনি ভাবুক, চাকুরীহীন প্রেমিককে ছেড়ে, মা-বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করে ভরপুর সুখের দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন?

বেলা বোস আভিজাত্য মোড়া এক অশরীরী নাম? নাকি, সত্যিই তিনি ছিলেন? সত্যই কি তিনি ভাবুক, চাকুরীহীন প্রেমিককে ছেড়ে, মা-বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করে ভরপুর সুখের দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন?

  • Share this:

    #কলকাতা:  বেলা বোস আভিজাত্য মোড়া এক অশরীরী নাম? নাকি, সত্যিই তিনি ছিলেন? সত্যই কি তিনি ভাবুক, চাকুরীহীন প্রেমিককে ছেড়ে, মা-বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করে ভরপুর সুখের দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন? এমনই কঠোরমনা ছিলেন কি তিনি? এতগুলো উৎসুক প্রশ্নের জবাব দিতে বেলা বোসের উৎসের সন্ধানে শর্মিলা মাইতি

    বেলা বোস তুমি শুনতে পাচ্ছো কি?... দশ বারো বার রং নম্বর পেরিয়ে তোমায় পেয়েছি...। অঞ্জন দত্তের সেই গান আজকের স্মার্টফোন যুগেও যুবসমাজের বুকের রক্তে দোলা দেয়। আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল সেই নিরুচ্চারিত প্রত্যাখ্যান। কোনও এক নীরব নারীর। বেকারত্বের অন্ধকারে তলিয়ে যেতে থাকা এক যুবকের করুণ আর্তি। ভেসে যেতে যেতে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে চাওয়া সেই তরুণ প্রাণ। একচিলতে আলোর মত 'নতুন চাকরি'।

    বেলা বোস। আভিজাত্য মোড়া এক অশরীরী নাম? নাকি, সত্যিই তিনি ছিলেন? সত্যই কি তিনি ভাবুক, চাকুরীহীন প্রেমিককে ছেড়ে, মা-বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করে ভরপুর সুখের দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন? এমনই কঠোরমনা ছিলেন কি তিনি? এতগুলো উৎসুক প্রশ্নই সন্ধান দিল বেলা বোসের উৎসের।

    ছয়ের দশকের হিন্দি সিনেমাজগত যাঁরা আজও মোহগ্রস্ত হয়ে দেখেন, তাঁরা জানবেন, চিনবেন বেলা বোসকে। অসামান্যা নৃত্যপটিয়সী এই বেলা বোস বহু ছবিতে সোলো ডান্সার হিসেবে কাজ করেছিলেন। বেলার জন্ম অবশ্য কলকাতাতে।

    সালটা 1941।কস্মিনকালে কেউ বলিউড যাত্রার কথা ভাবেননি। বাবার ছিল কাপড়ের ব্যবসা। মা গৃহবধূ। পাঁচ সন্তানকে নিয়ে কোনওমতে চলত সংসার। আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত বাড়িতে যা হয়। হঠাৎই বাবার কাছে সুযোগ এল মুম্বইয়ে গিয়ে ব্যবসা করার। পরিবার নিয়ে তাঁরা পাড়ি দিলেন মুম্বই। এখানে আসার পর সংসারটা সচ্ছল হতেই, বেলাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করলেন বাবা। এই নাচের স্কুলে মাস্টারমশাই কোনও পারিশ্রমিক নিতেন না। নাচ শেখানোর পরিবর্তে তিনি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বাইরে নাচগানের মঞ্চ অনুষ্ঠান করাতেন  বিনা পারিশ্রমিকে। সেভাবেই চলছিল নাচের তালিম। ছোটখাট প্রোগ্রাম থেকে সিনেমার নাচের শো। ধীরে ধীরে বলিউড জগতের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলাপ। সবই ঠিক চলছিল। হঠাৎ নেমে এল অন্ধকার। বাবা চলে গেলেন। মা ও চার ভাইবোনের সংসারের হাল ধরতে হল বেলাকে।

    বলিউডের ছবিতে তখন নাচগানের সিকোয়েন্সে প্রয়োজন হত প্রচুর ডান্সারের। কিন্তু দুর্ভাগ্য এমনই, বেলা সেখান থেকেও বাদ পড়তে শুরু করলেন। তাঁর উচ্চতা ও শারীরিক গঠন নাকি অন্যদের মতো নয়। বেমানান লাগে! এই অজুহাতেই বাদ পড়তেন তিনি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একদিন তাঁর এই উচ্চতা ও শারীরিক গঠনই হয়ে উঠল তাঁর অস্ত্র। এই বিশেষ আলাদা ফিচার্স এর জন্য তিনি ডাক পেতে শুরু করলেন সোলো ডান্সার হিসেবে। এমনকি পেলেন নায়িকার চরিত্রও। 'নাগিন অওর সপেরা' ছবিতে নায়িকা হলেন তিনি। সবার মুখের উপর দিলেন যোগ্য জবাব।

    এই ইন্ডাস্ট্রিতেই তাঁর আলাপ হয়েছিল পরিচালক ও লেখক আশিষ সেনগুপ্তর সঙ্গে। আশিস অভিনেতাও ছিলেন। অভিনয় করেছিলেন জয় সন্তোষী মা ছবিতে। বেলার সঙ্গে গড়ে উঠেছিল প্রেম। তবে বিয়ের পর তিনি আর বলিউড জগতে ফেরেননি। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সংসারধর্ম পালন করেছেন। আজ ছেলেমেয়েরা সুপ্রতিষ্ঠিত। কেউই রুপোলি পর্দার রঙিন হাতছানিতে গা ভাসাননি। মেয়ে মঞ্জুশ্রী এক সুপ্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। ছেলে অভিজিৎ কাজ করেন এক নামী বহুজাতিক সংস্থায়। আর বেলা বোস? তিনি আজ নাতি-নাতনিদের আদরের দিদিমা। হেসে খেলে কাটছে দিন। শুধু টেলিফোনের ওপারে আজ নীরব হয়ে আছেন তাঁর স্বামী আশিস।

    Published by:Akash Misra
    First published: