Teacher: দৃষ্টি নেই তো কী! অন্তরের আলোয় অন্ধকার ঘুচিয়ে ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতায় নজির সুব্রতর
- Reported by:Sayani Sarkar
- Published by:Salmali Das
Last Updated:
জগতের আলো না দেখতে পেলেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত তিনি আর দেখানো শিক্ষার আলোতেই একটু একটু করে এগিয়ে চলেছে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা। কঠিন লড়াই আর মনের অদম্য জেদকে সঙ্গে নিয়েই আজ প্রায় ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন তিনি।
বড়শুল, সায়নী সরকার: জগতের আলো না দেখতে পেলেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত তিনি আর দেখানও শিক্ষার আলোতেই একটু একটু করে এগিয়ে চলেছে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা। কঠিন লড়াই আর মনের অদম্য জেদকে সঙ্গে নিয়েই আজ প্রায় ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন তিনি। তার জীবনের একটাই মন্ত্র, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,তবে একলা চলোরে। পরনির্ভরশীলতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে তিনি আজ স্বাবলম্বী। তবে তাঁর এই যাত্রা কেবল নিজের জন্য নয়, তিনি পথ দেখাতে চান তাঁর মতো সমাজের সেইসব মানুষদের, যাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম কিংবা দৃষ্টিহীন।
আরও পড়ুনঃ জীবনযাত্রার ধরন দিয়েই ৪০% পর্যন্ত ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়, জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞ
পূর্ব বর্ধমান জেলার বড়শুলের অন্নদাপল্লী প্রাইমারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুব্রত মালাকার,জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন তিনি।বড়শুল গ্রামেই বাড়ি তাঁর।গাংপুর নজরুল স্মৃতি দৃষ্টিহীন বিদ্যালয়ে হাতে খড়ি পরে বর্ধমান ব্লাইন্ড একাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ৮০% নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করেন।সেখান থেকে ফিরে এসেন বড়শুল সিডিপি হাইস্কুলে এবং পরে রাজ কলেজ থেকে ইতিহাস নিয়ে স্নাতক পাশ করেন।ছোট থেকেই ইচ্ছা শিক্ষকতা করার।মনের অদমাই জেদ আর ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে ১৩ বছর আগে শিক্ষকতার চাকরি পান।সকালে ওয়াকিং স্টিক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন স্কুলের উদ্দেশে কিন্তু স্কুল প্রাঙ্গণে একবার প্রবেশ করলেই তখন চেনা জায়গা।ওয়াকিং স্টিক ছাড়াই নির্দ্বিধায় ঘুরে বেড়ান তিনি। সে শ্রেণিকক্ষের তালা খোলা হোক বা ছাত্রছাত্রীদের ব্রেইল বই-এর সাহায্যে পাঠদান,তখন তাঁকে দেখে বোঝা দায় যে, তিনি দৃষ্টিহীন। তালে তাল মিলিয়ে কাজ করে চলেছেন তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে।
advertisement
সুব্রত মালাকার বলেন,ওয়াকিং স্ট্রিক নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করি পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে অনেকটা সাহায্য করে।ব্রেইল বই-এর সাহায্য ছাত্রী ছাত্রীদের পড়াই আমি। তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী মানেই ছোট থেকেই সমাজের কাছে কটুক্তি শুনতে হয়। আমাকেও হয়েছে কিন্তু সেই গুলি দূরে সরিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।অনেক সম্যসার সম্মুখিন হয়েছি।পরীক্ষার সময়ে রাইটার পাওয়ার সমস্যা সব থেকে বড় সমস্যা।শিক্ষকতার পাশাপাশি গল্পের বই পড়াতে ও গান করতে ভালবাসেন তিনি।
advertisement
advertisement
ইচ্ছা থাকলে উপাই হয় তা আরও একবার প্রমান করে দিলেন অন্নদাপল্লীর শিক্ষক সুব্রত মালাকার। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, সুব্রত বিশেষ ভাবে সক্ষম হলেও,তাঁর সহকর্মীদের কখনও সেটি মনে হয়নি, বরং অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগান তিনি।
চোখের আলো না থাকলেও, মনের মণিকোঠায় জ্বালিয়েছেন এক অনির্বাণ শিখা। আজ তিনি যখন স্কুল প্রাঙ্গনে নির্ভয়ে হাটেন বা ব্রেইল বইয়ের পাতায় আঙ্গুল বুলিয়ে অনায় সেই অন্যান্য শিক্ষকদের মত পাঠদান করেন, তখনই বোঝা যায় আসল দৃষ্টি চোখে নয় থাকে অন্তরে।
Location :
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
First Published :
Feb 04, 2026 8:43 PM IST










