TET: Exclusive: চাকরিপ্রার্থীদের ২০ হাজার টাকা করে দেবেন পর্ষদ সভাপতি! প্রশ্ন-ভুলে বেনজির রায়!

বেনজির রায়দান

TET: হাইকোর্ট নির্দেশে জানিয়েছে, ১৯ মামলাকারীকে ২০০০০ টাকা করে মোট ৩৮০০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সভাপতিকে।

  • Share this:

#কলকাতা: ভুল হয়েছিল ২০১৪ টেটের প্রশ্ন মালায়। সেই ভুলের জন্য কাঠগড়ায় উঠেছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। আর সেই ভুলের কারণেই এবার বড়সড় ব্যক্তিগত জরিমানার মুখে পড়লেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি। বারবার ভুল ধরিয়েও না শোধরানোয় হাইকোর্টের তুমুল ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে। শুধু তাই নয়, এদিন হাইকোর্ট নির্দেশে জানিয়েছে, ১৯ মামলাকারীকে ২০০০০ টাকা করে মোট ৩৮০০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে পর্ষদ সভাপতিকে। আর তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেই এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

টেটের ভুল প্রশ্নপত্র নিয়ে এর আগে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ, ডিভিশন বেঞ্চ এমনকী সুপ্রিম কোর্টও। প্রশ্ন ভুল মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে বেশ কিছু জন চাকরিও পেয়েছেন। কিন্তু যাঁরা মামলা করার পরেও চাকরি পাননি তাঁদের জন্য শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল আদালত। এদিনের নির্দেশে বলা হয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে মামলাকারীদের ফুল মার্কস দিতে হবে। সেই মার্কস দেওয়ার পর ৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত বিবেচনা করে দেখতে হবে। নিয়ম মাফিক চাকরিও দিতে হবে ৭ দিনের মধ্যে।

আরও পড়ুন: ভবানীপুরে ভোট চেয়ে এবার জনস্বার্থ মামলা! ৮ সেপ্টেম্বরের দিকে নজর সব শিবিরের...

এদিন এমনই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নির্দেশ না মানা হলেও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আদালত।

প্রসঙ্গত, এর আগে ওই মামলায় বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, হয় ওই প্রশ্নগুলির সম্ভাব্য উত্তরগুলি ভুল ছিল, না হলে প্রশ্নেই গলদ ছিল। তাই ওই প্রশ্নগুলির উত্তর দিলেই পুরো নম্বর দিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে। নম্বর দেওয়ার দেওয়ার পর ক্যাটাগরি অনুযায়ী টেট উত্তীর্ণ হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতামান পেরোলেই পরীক্ষার্থীদের চাকরি দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করতে হবে।

২০১৮, ২০১৯,২০২০-পরপর তিনবছর এ নিয়ে প্রবল আইনি লড়াই চলে। শেষমেশ বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ মেনে নেয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সেই অনুয়ায়ী, গত বছর ডিসেম্বরে অনেকেই চাকরি পান। কিন্তু তাতেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। বেশ কিছু মামলাকারী এরপরও অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রশ্নের উত্তর দিলেও সম্পূর্ণ নম্বর দেয়নি পর্ষদ। শুধু যে প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তর হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল, তাতেই কেবল ফুল মার্কস দেওয়া হয়। সেই কারণেই বহু চাকরিপ্রার্থী কাজ পাননি।

এরপরই পায়েল বাগ সহ বেশ কিছু পরীক্ষার্থী নতুন ভাবে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গতকাল, বৃহস্পতিবার এ নিয়ে মামলাটির দীর্ঘ শুনানি হয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেঞ্চে। সেই শুনানিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের যুক্তি ছিল, ছোটোখাটো ভুল হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। অপরদিকে, মামলাকারীদের পাল্টা যুক্তি ছিল, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ভুলটা চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট৷ তারপরও ভুল মানে সেটা ইচ্ছাকৃত। এরপর এদিন কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিল, তাতে মুখ পুড়ল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের।

Published by:Suman Biswas
First published: