corona virus btn
corona virus btn
Loading

ইংলিশ চ্যানেল জয়ী সাঁতারু সায়নীর স্বপ্নভঙ্গ! করোনা আতঙ্কে বাতিল মলোকাই চ্যানেল জয়ের স্বপ্ন

ইংলিশ চ্যানেল জয়ী সাঁতারু সায়নীর স্বপ্নভঙ্গ! করোনা আতঙ্কে বাতিল মলোকাই চ্যানেল জয়ের স্বপ্ন

বর্ধমানের কালনার বাড়িতেই প্রায় দেড় মাস রয়েছেন সায়নী। বন্ধ সাঁতার প্রশিক্ষণ। গত ২০ মার্চ থেকে জলের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই বাংলা জলকন্যার।

  • Share this:

#কলকাতা: মাছ যেমন জল ছাড়া থাকতে পারে না। সায়নী দাসও জলের বাইরে থাকলে হাঁপিয়ে ওঠেন। সাঁতার কাটাই সায়নীর একমাত্র নেশা। কিন্তু লকডাউনের জেরে ইংলিশ চ্যানেল জয়ী সায়নী সাঁতারের সঙ্গেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এক মাসের বেশি সময়।  লকডাউনের মধ্যে একটু বেশি মন খারাপ সায়নী দাসের। বর্ধমানের কালনার বাড়িতেই প্রায় দেড় মাস রয়েছেন সায়নী। বন্ধ সাঁতার প্রশিক্ষণ। গত ২০ মার্চ থেকে জলের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই বাংলা জলকন্যার। বাতিল হয়ে গিয়েছে নতুন টার্গেট। আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মলোকাই চ্যানেলে সাঁতার কাটার স্বপ্ন বাতিল করতে হয়েছে করোনার প্রভাবে।

সেপ্টেম্বরে এই চ্যানেল জয়ের স্বপ্নেই দীর্ঘ অনুশীলন করেছিলেন শেষ কয়েক মাস। পুরীর সমুদ্র সৈকতে ৫ ঘণ্টা অনুশীলন। কলকাতার সুইমিংপুলে টানা ১৫ ঘণ্টা ধরে সাঁতার কেটে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু এক ধাক্কায় সব বাতিল। চ্যানেল জয়ের স্বপ্নে শুধু ধাক্কা খাওয়াই নয় আর্থিক ক্ষতির সামনেও পড়তে হয়েছে সায়নীর পরিবারকে। জাপান হয়ে হাওয়াই দ্বীপে যাওয়ার টিকিট কয়েকদিন আগেই কাটা হয়েছিল দাস পরিবারের। এয়ারলাইন্সের তরফে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না বলে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। কারণ জুলাই পর্যন্ত বিমানের টিকিট বাতিলের টাকা ফেরত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স। সায়নীদের অগাস্ট মাসে টিকিট কাটা। ফলে প্রায় দু’ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে সায়নী।

২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জয় করার পর ২০১৮ সালে রটনেস্ট চ্যানেল ও ২০১৯ সালে ক্যাটলিনা চ্যানেল জয় করেন সায়নী দাস। ২০২০ সালে টার্গেট ছিল হাওয়াইয়ের মলোকাই চ্যানেল। তার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের কাগজ পেয়ে গিয়েছিলেন সায়নী। ১৬ অগাস্ট মা-বাবার সঙ্গে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চ্যানেল জয়ের জন্য নামতেন সায়নী। কিন্তু অতি মহামারী করোনা সবকিছু থমকে দিয়েছে।

কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? কবে ফের জলে নামতে পারবেন, সায়নী তা নিজেও জানেন না। ঘরে বসে শুধু ফিজিক্যাল ফিটনেস করছেন। সায়নী জানান, "মলোকাই চ্যানেল বাতিল হওয়ার পর এই বছর আর কোনও চ্যানেলে নামা সম্ভব নয়। আপাতত বাড়িতেই গৃহবন্দী রয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার অনুশীলন শুরু করব। কারণ আমার নিজস্ব কোনও সুইমিং পুল নেই। সরকারি নির্দেশে সুইমিং পুলে নামার ছাড়পত্র পেলে তখন থেকেই অনুশীলন শুরু হবে।"

বছরে দুটি সময় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মলোকাই চ্যানেলে নামা যায়। মার্চ-এপ্রিল না হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে ফের এই টার্গেট নামতে চান সায়নী। থাকার খরচ বাবদ যে বাড়িভাড়া দিয়েছিলেন সেটা ফেরত পেয়েছেন ইতিমধ্যেই। সায়নীর বাবা রাধেশ্যাম দাস বলেন, "অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে চ্যানেল জয় করতে যেতে হয়। তাই আর্থিক ক্ষতি হলে সমস্যা হয়। তবে এই পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বে থমকে গেছে। আপাতত তাই বাড়িতে বসেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি।" খারাপ লাগার মধ্যেই মঙ্গলবার বাড়িতে বসেই মা-বাবার সঙ্গে জন্মদিন পালন করেছেন সায়নী দাস।

Eeron Roy Barman

First published: April 29, 2020, 9:15 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर