রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, কী করা উচিত জানতে কলকাতার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারস্থ স্বাস্থ্য দফতর

শনিবার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্য সরকার নির্ধারিত বারো জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা ব্যক্তিরা।

শনিবার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্য সরকার নির্ধারিত বারো জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা ব্যক্তিরা।

  • Share this:

#কলকাতা :-  এরাজ্যে করোনা  সংক্রমণ ঠেকাতে আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য দফতর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ  নিল। শনিবার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্য সরকার নির্ধারিত বারো জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা ব্যক্তিরা। ম্যারাথন এই বৈঠকে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অবগত করেন।

করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোকপাত করার পাশাপাশি আগাম সর্তকতা হিসেবে  কী কী ব্যবস্থা নিয়ে রাখা হয়েছে তাও এ দিনের বৈঠকে  আলোচনা হয় । সংক্রমণে এখনও দ্বিতীয় ধাপে ভারত। সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করতেই হবে। অসতর্ক হলেই দেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ, ইতিমধ্যে এমনটাই সতর্কবার্তা দিয়েছে  কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।বিশ্বজুড়ে করোনায়  অব্যাহত মৃত্যুমিছিল।

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারতে একদিনে ৮৮ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেল । সংখ্যাটা সর্বোচ্চ। মানে একদিনে এর আগে দেশে এত করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে বলাই চলে, ভারতে ক্রমে তার থাবা বসাচ্ছে করোনা ভাইরাস। যেভাবে দেশের প্রশাসন সংক্রমণ রোধ করতে চেয়েছে, তার ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তুলনায় সংক্রমণের অভিঘাত কম থাকলেও ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এক কথায় ভারতেও ভয়াবহ আকার করোনার। ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে অনেকেরই করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। তবে ভারতে আশার আলো একটা জায়গাতেই, ইতিমধ্যেই ভারতে করোনায় সুস্থও হয়েছেন অনেকে।ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

করোনা রুখতে দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হলেও, আটকানো যাচ্ছে না সংক্রমণ। গোটা বিশ্বের পাশাপাশি এ রাজ্যেও নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে কাঁপছে বিশ্ব। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সংক্রমণ ঠেকাতে দেশ জুড়ে টানা ২১ দিনের লক ডাউন চলছে। সবাইকে ঘরের মধ্যে থাকার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ঘরে থাকার আবেদন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা সত্ত্বেও অনেকে লকডাউন উপেক্ষা করেই রাস্তায় নামছেন। এটি অত্যন্ত বিপদজনক বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। আজ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বৈঠকের পর বিশিষ্ট চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা এখনও দ্বিতীয় ধাপেই  রয়েছি। আমাদের প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে। বৈঠকে কাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে , চিকিৎসা সংক্রান্ত  বিষয়েও বেশ কিছু  পরামর্শ  দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস সরকার আমাদের সেই সমস্ত পরামর্শ বাস্তবায়িত করবে'।

রাজ্য সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকদের নিয়ে যে বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে  সেই দলের অন্যতম  চিকিৎসক ধীমান গঙ্গোপাধ্যায় , অভিজিৎ চৌধুরীরা বলেন, 'এই মুহূর্তে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি খুব একটা উদ্বেগজনক নয়। তাও স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।

এই মুহূর্তে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা সংক্রমণের চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামো তৈরি রয়েছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন না হলেও আগামী দিনে আরও বেশ কিছু সরকারি  হাসপাতালেও  প্রয়োজনে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র  গড়ে তোলারও ভাবনা রয়েছে সরকারের'। সরকারি পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন আজকের বৈঠকে আমরা সংক্রমণ ঠেকাতে আরও বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছি' । সব মিলিয়ে গোটা দেশজুড়ে যেভাবে করোনা ভাইরাস  তার ছোবল মারছে তাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর কিংবা রাজ্য সরকার কোনও  রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

VENKATESWAR  LAHIRI

Published by:Elina Datta
First published: