হোম /খবর /দেশ /
'মার্চের মধ্যে প্রত্যেকের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে,' জানিয়ে দিলেন SII সিইও

'মার্চের মধ্যে দেশে প্রত্যেকের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে,' জানিয়ে দিলেন SII সিইও

সিরাম ইনস্টিটিউটের এই কর্তা জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতে ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটানোর উপরেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তারা৷ সেই কারণে ভারত ছাড়া একমাত্র বাংলাদেশে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন সরবরাহ করবেন তারা৷

সিরাম ইনস্টিটিউটের এই কর্তা জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতে ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটানোর উপরেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তারা৷ সেই কারণে ভারত ছাড়া একমাত্র বাংলাদেশে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন সরবরাহ করবেন তারা৷

কবে নাগাদ করোনার ভ্যাকসিন জনগণের জন্য তৈরি হয়ে যাবে? ভ্যাকসিন বিতরণে সংস্থার পরিকল্পনা কী? এসআইআই-এর সিইও আদর পুনাওয়ালা CNN-News18-এর এগজিকিউটিভ এডিটর জাক্কা জ্যাকবকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্‍কারে জানালেন বিস্তারিত৷

  • Last Updated :
  • Share this:

#নয়াদিল্লি: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে আশাব্যঞ্জক সাফল্য মিলেছে৷ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (SII) জানাচ্ছে, তারা খুব শীঘ্রই ওই ভ্যাকসিনের ৭ থেকে ৮ কোটি ডোজ তৈরি করা শুরু করবে৷ বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা SII-কে জনসাধারণের জন্য বিপুল ভ্যাকসিন তৈরির জন্য বেছেছে অক্সফোর্ড ও তার পার্টনার AstraZeneca৷

কবে নাগাদ করোনার ভ্যাকসিন জনগণের জন্য তৈরি হয়ে যাবে? ভ্যাকসিন বিতরণে সংস্থার পরিকল্পনা কী? এসআইআই-এর সিইও আদর পুনাওয়ালা CNN-News18-এর এগজিকিউটিভ এডিটর জাক্কা জ্যাকবকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্‍কারে জানালেন বিস্তারিত৷

তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল আপনি আশা করছেন আগামী ১ বা দু সপ্তাহে শুরু হয়ে যাবে৷ তারপরে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে৷ ঠিক কতটা সময় লাগতে পারে সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ হতে?

আদর পুনাওয়ালা: আমরা দ্রুত ভ্যাকসিনটির যাবতীয় পরীক্ষা শেষ করার চেষ্টা করছি৷ আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করছি৷ তারপর পরের ধাপে৷ ধরে রাখুন আরও দুই সপ্তাহ৷ মোটামুটি একমাসের মধ্যে আমরা আশা করছি, হাসপাতালে রোগীদের উপর চূড়ান্ত পরীক্ষা করতে পারব৷

তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে কতজনের উপর পরীক্ষা করা হবে?

আদর পুনাওয়ালা: আমরা মুম্বই ও পুনের মধ্যে বহু হাসপাতাল পাচ্ছি, যেখানে করোনা আক্রান্ত ও জনসংখ্যা প্রচুর৷ ট্রায়ালের জন্য যা পারফেক্ট৷ হয়তো ৫ হাজার রোগীর উপরে পরীক্ষা করা হতে পারে তৃতীয় পর্যায়ে৷

সব কিছু ঠিক থাকলে, এই যুগান্তকারী ভ্যাকসিনে ভারতের একটি সংস্থারও অবদান থাকবে৷ আপনার কী মনে হয়?

আদর পুনাওয়ালা: আমরা একেবারে শুরু থেকে ভ্যাকসিন তৈরি করছি৷ আমরা শুধু ওদের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি৷ ভারতের যে কোনও সংস্থার কাছেই এটি গর্বের৷ আরও কয়েকটি প্রথমসারির সংস্থাও এর অংশীদার হতে চলেছে৷ বিশ্বে ভ্যাকসিন উত্‍পাদনে ভারত এখন লিডার৷

যদি কোনও ব্যক্তিকে এই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ দেওয়া যায়, তা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আগামী ৬ মাস বা এক বছর করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয় নেই?

আদর পুনাওয়ালা: দেখুন, এটা প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল থেকে অনুমান করা হচ্ছে৷ এটা প্রমাণ করতে আমাদের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ কারণ, কাউকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে ২ থেকে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়, তিনি আবার সংক্রমিত হলেন কি না, তা দেখার জন্য৷ সেটাই আমরা নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করছি৷

ভ্যাকসিন ট্রায়ালে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া৷ এই ভ্যাকসিনে মাথা ব্যথা, জ্বরের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে৷ আপনি কি তা নিয়ে চিন্তিত?

আদর পুনাওয়ালা: না৷ অন্যান্য ভ্যাকসিনের মতোই খুব সামান্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে৷ অল্প জ্বর, মাথা ব্যথা৷ বাড়াবাড়ি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি, যা ভাল খবর৷ আমার বিশ্বাস, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠবে না৷

এটি শুধু একটি ভ্যাকসিনের বিষয় নয়, অন্তত হাফ ডজন ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় ইতিবাচক রিপোর্ট মিলেছে৷ প্রথম সংস্থা হিসেবে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতা?

আদর পুনাওয়ালা: না, একেবারেই না৷ আমরা এই প্রতিযোগিতায় নেই৷ আমরা সেরা ভ্যাকসিন আনার চেষ্টা করছি, যা নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী হবে৷ ৫টি ভ্যাকসিনের মধ্যে আমাদের বাছাই করা একটির বেশি ভ্যাকসিন সফল হবে, আমরা নিশ্চিত৷

নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ট্রায়াল হয়ে যাবে৷ কবে নাগাদ বাজারে আসতে পারে ভ্যাকসিনটি?

আদর পুনাওয়ালা: সম্ভবত ডিসেম্বর বা আগামী বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে৷ কারণ, দেশের প্রতিটি অংশে পৌঁছতে কিছু সময় লাগবে৷ গোটা প্রক্রিয়া শেষ করে ভারতে সকলের জন্য ভ্যাকসিন আসতে ধরে রাখুন আগামী বছর মার্চের মধ্যে৷ তবে স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য কিছু ডোজ আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরির চেষ্টা করছি৷

আগামী বছরের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে কত ডোজ ভ্যাকসিন তৈরির পরিকল্পনা করছে?

আদর পুনাওয়ালা: আমাদের বর্তমান ক্যাপাসিটি ৭ থেকে ৮ কোটি ডোজ তৈরির মতো রয়েছে৷ ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা চেষ্টা করছি অন্তত ৩ কোটি ডোজ তৈরি করার৷ যদি এই ভ্যাকসিনটি দুটি ডোজের হয়, তা হলে পৃথিবীর সবাইকে দুটি করে ডোজের ভ্যাকসিন দিতে ৩ থেকে ৪ বছর তো লাগবেই আমাদের৷

সাক্ষাত্‍কারটি ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন

Published by:Arindam Gupta
First published:

Tags: Adar Poonawalla, Coronavirus, Corornavirus Vaccine, SII