Bankura News|| কোলে ৯ মাসের সন্তান, স্তন্যদাত্রীকে একইসঙ্গে কোভিশিল্ডের ২ ডোজ দিলেন নার্স! বাঁকুড়ায় চাঞ্চল্য

বাঁকুড়ায় স্তন্যদাত্রীকে একইসঙ্গে কোভিশিল্ডের ২ ডোজ দিলেন নার্স। প্রতীকী ছবি।

বাঁকুড়ার (Bankura) বড়জোড়ার পখন্না স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক মহিলাকে একসঙ্গে টিকার (Corona Vaccination) দুটি ডোজ দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

  • Share this:

    #বাঁকুড়া: করোনার (Coronavirus) দু-ডোজ টিকা (COVID 19 Vaccine) একসঙ্গে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড়! বাঁকুড়ার (Bankura) বড়জোড়ার পখন্না স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক মহিলাকে একসঙ্গে টিকার (Corona Vaccination) দুটি ডোজ দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দুটি ডোজ এ ভাবে একইসঙ্গে দিয়ে দেওয়ায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় কাঁটা মহিলার পরিবার। কীভাবে এমন একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনা ঘটালেন হাসপাতাল কর্মী, তা নিতে বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক আলোক মুখোপাধ্যায়।

    শুক্রবার সকালে করোনার টিকা নিতে বাঁকুড়ায় বড়জোড়া ব্লকের পখন্না স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিলেন রাজমাধবপুর গ্রামের গৃহবধূ মন্দিরা পাল। অভিযোগ, তাঁকে একইসঙ্গে পর পর দুটি কোভিশিল্ডের (Covishield) ডোজ দিয়ে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং কর্মী। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় এখন রীতিমত শঙ্কিত গোটা পরিবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার রাজমাধপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক পরিবারের গৃহবধূ মন্দিরা পাল স্থানীয় আশাকর্মীর মাধ্যমে জানতে পারেন ৬ থেকে ১২ বছর শিশুদের মায়েদের টিকা দেওয়া হবে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। খবর পেয়ে নিজের ৯ মাসের কোলের দ্বিতীয় সন্তানকে নিয়ে গ্রাম থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পখন্না স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাজির হন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁর আধার কার্ড দেখে নির্দিষ্ট অ্যাপে তথ্য এন্ট্রি করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর তাঁর বাম হাতে কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ দেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে কিছুক্ষণ বসতে বলেন। অভিযোগ, কিছুক্ষণ পরেই ওই স্বাস্থ্যকর্মী আবারও তাঁর বাম হাতে টিকার দ্বিতীয় একটি ইঞ্জেকশন দেন।

    গৃহবধূর দাবি, টিকার লাইনে দাঁড়িয়ে অন্যান্যদের মুখে শুনেছিলেন টিকার দুটি ইঞ্জেকশান নিতে হবে। কিন্তু তা যে নির্দিষ্ট দিন অন্তর দেওয়ার নিয়ম, তা তিনি জানতেন না। স্বাভাবিক ভাবেই তাই টিকার দ্বিতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়ার সময় প্রতিবাদ জানাননি। পরে অন্যান্যদের একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে শুনে তাঁকে কেন দুটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হল তা জানতে চান স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে। মন্দিরা পালের দাবি, এ কথা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে জানতে চাওয়ায় তাঁদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরী হয়। এরপর তাঁকে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বসিয়ে রাখা হয় হাসপাতালে। পরে ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করে ছাড়া হয়।

    কোভিশিল্ডের দুটি ডোজ একসঙ্গে দেওয়া হলেও মন্দিরা পালের শরীরে এখনও তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে আতঙ্ক যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না পরিবারের। ন'মাসের শিশু সন্তান স্তন্যপান করায় শিশুর স্বাস্থ্য নিয়েও শঙ্কিত গোটা পরিবার। স্বাস্থ্যকর্মীর অসাবধানতার কারণে আগামীদিনে যাতে কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই ভূল না হয়, সেই লক্ষে বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাল পরিবার। স্থানীয় বিধায়ক আলোক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, 'ঘটনাটি শুনেছি। পরিবারের দাবি তদন্ত সাপেক্ষ। খবর পাওয়ার পরই স্বাস্থ্য দফতর পদক্ষেপ করেছে। মহিলা সুস্থ আছেন। স্বাস্থ্য দফতরকে তদন্ত কর‍তে বলেছি। তদন্তে গাফিলাতি প্রমাণ হলে শাস্তি হবে।'

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: